১২:৫৩ পি.এম
কোনো নারী কর্মীর প্রসূতি ছুটি দুবারের বেশি না থাকা এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস চাকরি না করলে প্রসূতি ছুটি না থাকার বিধি ও আইনগত বিধান নিয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ৪৬(২) ধারা এবং ৪৬(১) এর প্রভিসো, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুলের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করে সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
এছাড়া, বিষয়টি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, এবং কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও মাতৃত্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা জানতে চাইছে সরকারকে। একই সাথে, একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিতে হবে কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
এটি রুল জারি করেছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আইনজীবী ইশরাত হাসান রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন, তাকে সহযোগিতা করেছেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান এবং ইফাত হাসান শাম্মি।
রিটটি গত ১৫ জুন কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থমূলকভাবে দায়ের করা হয়। রিটে মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে, যাদের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয় সচিবও রয়েছেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা এবং নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তৃতীয় অথবা পরবর্তী সন্তানের প্রসঙ্গে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক।
আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
যেহেতু সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা বিদ্যমান, তাই এটি কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে; যা সমতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান পরে বলেন, সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন এবং সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই রিট করা হয়েছে। মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন