ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

রামেক অধ্যক্ষকে ১১ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান


রামেক অধ্যক্ষকে ১১ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে উত্থাপিত ৬ দফা এবং ডক্টর’স মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের নতুন ৫ দফাসহ মোট ১১ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সরকারি ওয়েবসাইটেও অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলমকে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া স্মারকলিপিতে ১১ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা।

স্মারকলিপি প্রদানকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী

দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে ক্লাস বর্জন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক দুলাল কান্তি বাসায় ফিরেছেন, পরিবার অভিযোগ করেছে অপহরণের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার: ৪ জেলে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার: ৪ জেলে আটক

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের অধীন মারকি খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকারের অভিযোগে ৪ জন জেলেকে আটক করেছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ২টি নৌকা, অবৈধ ভেশাল জাল ও নিষিদ্ধ কীটনাশক সহ চিংড়ি মাছ উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাজমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় এবং এ সময় নলিয়ান স্টেশনের বন রক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম (৫২), আয়ুব আলী গাজী (৫৫), দিদারুল গাজী (৩০), হামিদ গাজী এবং আবুল হাসান (৩০)।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক জেলেদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার ১ দেশীয় পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০০ পি.এম


দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার ১ দেশীয় পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মদনের ঘাট নামক স্থানে একটি চৌকস বিজিবি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ০১টি এক নলা দেশীয় পিস্তল এবং ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির আনুমানিক সিজার মূল্য (দশ হাজার চারশত) টাকা।

সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০০ পি.এম


কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজার বিমানবন্দরে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাত্রীরা নতুন টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত রুটে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিক বহির্গমনের জন্য চারটি এবং আগমনের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে রয়েছে দুটি লাগেজ বেল্ট, সিসিটিভি, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে ও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা। এছাড়া ডিউটি-ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট এবং একাধিক চেক-ইন কাউন্টারও সেখানে রয়েছে।

নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রথম দিনেই যাত্রীরা এর সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের জন্য আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে বিদেশি পর্যটক আগমনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

একজন যাত্রী মন্তব্য করেছেন, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরের জন্য এ ধরনের আধুনিক বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়লে পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে। আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম দিনের যাত্রীদের একজন বলেছেন, নতুন টার্মিনাল দিয়ে প্রথম যাত্রী হিসেবে সেবা নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এটি কক্সবাজারবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আগে যেখানে বছরে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ছিল, নতুন টার্মিনাল চালুর পর তা প্রায় ২০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে পর্যটকদের কক্সবাজারে আসা আরও সহজ হতে পারে। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক বিনিয়োগ, হোটেল-মোটেল ব্যবসা, পরিবহন ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল কক্সবাজারের পর্যটন, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০০ পি.এম


‘সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে’

সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে এবং দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, সরকারের সাত মাসের শাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, এমপি ও সংরক্ষিত নারী এমপিরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাক রয়েছেন। জনগণ ধীরে ধীরে সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। জুলাই সনদের আলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল জনগণের। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে নির্লজ্জভাবে মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সিন্ডিকেট করে গোটা দেশকে ফ্যাসিবাদী পন্থায় একটি দলের নিয়ন্ত্রণে আনার চক্রান্ত করছে। এর ফলে দেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে সার ডিলার, ইমাম-খতিবের ভাতা, কৃষক-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, তালিকা ও সুপারভাইজারি করাসহ প্রত্যেকটি ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে মারামারি ও গন্ডগোল হচ্ছে। সার বিতরণ নিয়ে ইউএনও অফিসে হামলা হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় দেশের ইতিহাস, অনুশীলন ও নজিরকে উপেক্ষা করে ভেরিফিকেশনের নামে এক শ্রেণিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। বেছে বেছে যুবদল, ছাত্রদল যারা করেছে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শাহবাগে নিয়োগবঞ্চিত সমস্ত শিক্ষিত নারী-পুরুষ তাদের অধিকার আদায়ে আহাজারি করছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে— আগামী নির্বাচনে পোলিং ও প্রিসাইডিং হিসেবে বেছে বেছে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এই খারাপ মনোভাব থেকেই এসব করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মহিলা এমপিদেরও এই দলীয়করণে যুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচিত এমপিদের উপর অনির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের খবরদারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত এমপিদের ডিও লেটার খারিজ করে সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের ডিও লেটার দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা অতীতে ছিল না। মহিলা এমপির ইন্ধনে, মদদে দেশজুড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর ঘটছে। এ সময় মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের ঘটনা তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সব অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা। সরকারের উপর লেভেল থেকে সিগন্যাল পাওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা সুযোগ পাচ্ছে। সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত নিজের দলের লোকদের কথা বলে না, বিরোধীদলের উপর চাপাতে চায়। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত ও গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজধানীতে মানুষের জীবন ও মাল নিরাপদ নয়। একইভাবে সারা দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকার দ্রব্যমূল্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করতে পারেনি। তারা গণভোটের গণরায়ও বাস্তবায়ন করেনি। তাই তাদের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে— সেটি ঢাকতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা এসব করছে যাতে বিরোধীদল আসল অ্যাজেন্ডা নিয়ে কথা বলতে না পারে।

তিনি বলেন, সরকার গণভোটকে সরাসরি অস্বীকার করে, গণরায়কে কার্যকর না করে আরও ভয়ংকর পথে হেঁটেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ফরম্যাট তৈরি করে দিয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। সেটি বাদ দিয়ে এবং সংস্কার না করে জাতিকে আরেকটি চ্যালেঞ্জ ও সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ধৃষ্টতা দেখিয়ে এবং অপরিণামদর্শী হয়ে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করেছে। তারা গণভোট বাতিল করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলে নিজেদের দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পথ ধরেছে। এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত আছে সংসদের ভিতরে ও বাইরে। দাবি আদায়ে আমরা সোচ্চার আছি, থাকবো। অতীতে যারা (সংসদে) সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায়কে উপেক্ষা করে জনগণের উপর ছড়ি ঘোরাতে চেয়েছেন, তারা কেউ টিকতে পারেনি। ইতিহাসের করুণ পরিণতির দায় নিয়ে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। সরকার গণবিরোধী কাজে গেলে তীব্র প্রতিবাদ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সেক্রেটারি জেনারেল এ সময় সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— হামলায় জড়িত সব দুর্বৃত্ত ও তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার; লুট হওয়া টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি উদ্ধার, যাতে কোনো শিশুর টিকার ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু; স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ, এবং জমি দখলের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা; ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত ও আতাউর রহমান সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%