ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পোল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা


পোল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা

পোল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জানানো হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে, পোল্যান্ডে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন কোনো বক্তব্য, আচরণ, কর্মকাণ্ড বা প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর, অসত্য, উসকানিমূলক, আপত্তিকর বা পোল্যান্ডের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের পরিপন্থী হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে যুবক হৃদয় প্রামাণিকের ঝুলন্ত লাশ, পাশে স্ত্রীকে দায়ী করে চিরকুট

দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেগুলো হলো-

# পোল্যান্ডের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে মেনে চলুন।

# কোনো তথ্য, বক্তব্য বা কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচারের আগে তার সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করুন।

# অসত্য, বিভ্রান্তিকর, আইনবিরোধী বা উসকানিমূলক বক্তব্য, কনটেন্ট বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন।

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক সাগর আলী নিহত

# অনলাইন ও অফলাইন-উভয় ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীল, সংযত ও আইনসম্মত আচরণ করুন।

# ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।

# পোল্যান্ডে বসবাস, কাজ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আরও পড়ুন: নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভেজাল খাদ্যপণ্যের বাজারে ছড়াছড়ি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভিডিও ফাঁস, মাদরাসা সুপারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভিডিও ফাঁস, মাদরাসা সুপারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি স্কুলছাত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর, স্থানীয়রা এক মাদরাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে আটক করে বেধড়ক মারধর করেছে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।

আটক শিক্ষকের নাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০), যিনি বরুড়া উপজেলার পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার সুপার এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমানের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও দেখতে পেয়ে মাকে জানায়। তার পর সে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে এবং মাদরাসার বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমকে ভিডিওগুলো দেয়।

এরপর ভিডিওগুলো ইব্রাহিমের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের হাতে পৌঁছলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিজানুর রহমানকে আটক করে এবং বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে কিছু লোক তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকায় ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন এবং ১৭ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পূর্বেও তিনি নারীদের নিয়ে একাধিক অনৈতিক অপরাধে জড়িত থাকায় তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে। গত দেড় বছরে তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি সালিসও বসেছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, হুজুর তাকে প্রায় দেড় বছর ধরে বিরক্ত করছিলেন। এক পর্যায়ে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও কুফুরি কালামের ভয় দেখিয়ে অচেতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে আটক মিজানুর রহমান বলেন, প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয় এবং বিয়ে পড়ানো কেন্দ্র করে গ্রামের একটি মহল শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে এ চক্রান্ত করেছে। একই সাথে তিনি জানান, জনতার হামলার সময় তার ১২ বছরের ছেলে সিয়াম নিখোঁজ হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মাদরাসা সুপারকে আটক রেখে মারধরের সংবাদ পেয়েছেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতা লাভের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি বলেন, আসুন আমরা একে অপরকে হুমকি দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করি এবং এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে আলোচনা শুরু করি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে।

লি এমন এক সময়ে এই প্রস্তাব দিলেন যখন উত্তর কোরিয়া আসন্ন বার্ষিক যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র নিন্দা করেছে এবং আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় আলোচনার বিকল্প নেই। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন।

কোরীয় যুদ্ধের সক্রিয় সংঘাত ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এখনো ঘটেনি। লি অব্যাহতভাবে বলেছেন, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বর্তমান অবস্থান গত বছর দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির অনুসরণ। ওই সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।

তবে বাস্তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে এক করার নীতি থেকে সরে এসেছেন। দক্ষিণ কোরিয়াকে তিনি উত্তর কোরিয়ার 'সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া জুলাই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের জন্য চাপ প্রয়োগের নীতিতে সিউল সরে এসেছে। পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিস্তার রোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব লি'-এর বারবার দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো সাড়া দেয়নি। বরং তারা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে।

এ বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়া সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত মস্কোতে আরও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই এই সফর হতে পারে। সিউলের প্রধান নিরাপত্তা মিত্র ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮,৫০০ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে, যাতে পিয়ংইংয়ের সামরিক হুমকি মোকাবেলায় দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড এই সপ্তাহে বলেছেন, ইউরোপের যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের ফলে কোরিয় উপদ্বীপে তার বাহিনীর সদস্যদের সম্ভাব্য হুমকির ধরন বদলে গেছে।

এদিকে সোমবার শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তারা সেখানে যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা সঙ্গে করে উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে এসেছে। তিনি আরও জানান, আমাদের প্রশিক্ষণে সেই হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালের ২৫ জুন উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করলে কোরীয় যুদ্ধের সূচনা হয়। সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানসহ উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দ্রুত দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়। এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে শান্তিচুক্তি না হওয়ায় দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী, কুড়িগ্রামে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী, কুড়িগ্রামে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের নানা অধ্যায় পেরিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করতে সফল হয়েছেন কুড়িগ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। রিজভীর স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির খবরটি কুড়িগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদকের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে রিজভীসহ চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করার তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভী দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কুড়িগ্রামের সন্তান রুহুল কবীর রিজভীর রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বেও আসেন তিনি। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রিজভী।

পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রামের এই সন্তান হামলা-মামলা ও কারাবরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে নানা সংগ্রামের সম্মুখীন হয়েছেন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে কারামুক্ত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা বহু মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও রিজভী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেছেন, ‘কারাগারে থাকাকালে মৃত্যুও যদি হয়—সেই মৃত্যুকেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। রাজনীতিতে কোনো অন্যায় চাপের কাছে আপস করেননি, কোনো ভয়-ভীতিকে গুরুত্ব দেননি।' রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই আমরা তার ত্যাগ ও সংগ্রাম দেখেছি। এত হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের পরও তিনি দল থেকে বিচ্যুত হননি।’ কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী শুধু কুড়িগ্রামের নয়, বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত নেতা।’

দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দীর্ঘসময় বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তর পরিচালনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন রুহুল কবীর রিজভী। কুড়িগ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী তাঁর এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবেই স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন রিজভী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়া বিমানবন্দর ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


বগুড়া বিমানবন্দর ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিক বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর ফলে শুধু বগুড়া নয়, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরের বর্তমান চার হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা। সহ এটি অন্তর্ভুক্ত আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, নতুন ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা, উন্নত ড্রেনেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি, দুগ্ধজাত পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের অন্য অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণসহ রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

বিমানবন্দরটি চালু হলে বগুড়ার পাশাপাশি জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা কম সময়ে বড় বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। একইসঙ্গে বিমানবন্দর ঘিরে গড়ে উঠতে পারে লজিস্টিকস, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবসা। ফলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বগুড়া বিমানবন্দরের রানওয়ে চার হাজার ৫০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা হবে। নির্মাণ করা হবে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল ভবন। এই পরিকল্পনার মধ্যে নতুন ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা এবং উন্নত ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের মাস্টারপ্ল্যান, রানওয়ে ও পেভমেন্ট ডিজাইন, টার্মিনাল ভবনের নকশা এবং কারিগরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বিমানবন্দরটির অবস্থান রয়েছে। মূলত এটি একটি কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপর ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করে রানওয়ে, অফিস ভবন, আবাসিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর থেকে এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ভূ-প্রকৌশল জরিপ, মাটি পরীক্ষা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক, পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, 'বগুড়া বিমানবন্দর শুধু একটি জেলার প্রকল্প নয়, এটি পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমি আশা করছি, খুব দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এই বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%