১০:২৭ এম
ইসরায়েলের নতুন বিতর্কিত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ফরাসি বিমান সংস্থা ‘এয়ার ফ্রান্স’ বাংলাদেশসহ ৩১টি মুসলিম দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘মিডিয়াপার্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিডল ইস্ট আই জানাচ্ছে, ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্রুদের না পাঠানোর জন্য ইসরায়েলি শর্ত মেনে নিয়েছে এয়ার ফ্রান্স। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, ইরান এবং পাকিস্তানসহ ৩১টি দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ফরাসি কর্মীরা, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
যদিও এই নির্দেশনায় কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তথাপি জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা দ্রুত জানানোর নির্দেশনা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে কথা না শুনলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে বিমান সংস্থাটি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ফ্লাইদুবাই’য়ের এক ওমানি সহ-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল নতুন নিয়ম কার্যকর করে। এ ঘটনার পর ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। একটি ইসরায়েলি এয়ারলাইন প্রায় ২,৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাই করা শুরু করেছে। অন্যদিকে, মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হলেও এয়ার ফ্রান্সের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন