ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুবরাজের ভুল হিসাবে ইয়েমেন যুদ্ধে ফের জড়াল সৌদি আরব


যুবরাজের ভুল হিসাবে ইয়েমেন যুদ্ধে ফের জড়াল সৌদি আরব

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের বিনিয়োগ, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে বর্তমানে এই পরিকল্পনা নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানছে। যে আঞ্চলিক সংঘাত থেকে সৌদি আরব দূরে থাকতে চেয়েছিল, সেই সংঘাতে দেশটি আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত মাসে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। কয়েক বছরের শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। সৌদি আরব গত ১১ বছর ধরে সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্তের এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে আসছে। প্রথমে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশটি। পরে তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করে। একই সঙ্গে হুথিদের পৃষ্ঠপোষক ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় চালু করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগের পরও একের পর এক কৌশলগত ভুল সৌদি আরবকে নতুন সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে ইয়েমেনে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থন দেওয়ার ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে ভাঙন দেখা দেয়। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবেন কি না, তা বুঝতে ভুল করেছে রিয়াদ। একই সঙ্গে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় ২ শতাধিক প্রাণহানি

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের স্থানীয় মিত্রদের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইয়েমেনস ডন’ বা ‘ইয়েমেনের ভোর’।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসার পর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবকে বদলে দেওয়ার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছিলেন, তা নানা বাধার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন দিক থেকে হামলায় দেশটির তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে এবং বড় বড় প্রকল্প বাতিল হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে সৌদি আরব, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।

সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহে হুথি বাহিনীর হামলায় দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে আঘাত হানা হয়। এতে সৌদি পাইলটসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এ বছর তারকাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র উৎসব, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও সংগীত কনসার্ট স্থগিত করতে হয়েছে। অক্টোবরের শেষ দিকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে। এতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে হামলার কারণে সেই আয়োজনও চাপে পড়েছে।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরব চেয়েছিল সংঘাত যতটা সম্ভব দূরে থাকুক, যাতে হুথিরা তাদের রূপান্তর পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। কিন্তু এখন দেশটি নিজেই সংঘাতের কেন্দ্রে এসে পড়েছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

গত এক বছরে সৌদি আরবের কৌশলগত ভুল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এবং ইয়েমেনে মিত্রদের দুর্বল সমন্বয় কীভাবে নতুন সংঘাতের পথ তৈরি করেছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সৌদি-আমিরাত জোটে ভাঙন

গত বছর ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবাহনের একটি চালানে সৌদি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এর ফলে ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব ঠেকাতে এক দশক ধরে একসঙ্গে কাজ করা দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। আমিরাতের সেনারা ইয়েমেন থেকে সরে যাওয়ার পর সংকট সামাল দেওয়ার দায়িত্ব অনেকটাই সৌদি আরবের ওপর এসে পড়ে।

দুই দেশের সম্পর্কের এই অবনতি পুরো অঞ্চলকে বিস্মিত করে। প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে বিরল এক প্রচার অভিযানও শুরু করে সৌদি আরব। সুদান ও ইয়েমেনে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য আমিরাতকে দায়ী করেন সৌদি কর্মকর্তারা। দেশটির ভাষ্যকারেরাও প্রকাশ্যে আমিরাতকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে থাকেন, যেন সে অভিজ্ঞ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ছোট ভাই।

আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয় নিয়ে হেনস্তার চেষ্টা, কড়া জবাব আব্দুল এল-সায়েদের

সৌদি আরবের প্রভাবশালী সাংবাদিক দাউদ আল-শিরিয়ান জানুয়ারিতে লেখেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল। তার ভাষায়, সৌদি আরব হলো সেই ‘মাথা ও শরীর’, যার ওপর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা দাঁড়িয়ে আছে। দেশটি হোঁচট খেলে পুরো ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাবে।

রিয়াদ যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের প্রভাব আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছিল, তখন ইয়েমেনের পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছিল। হুথিদের সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধবিরতি আগেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে সৌদি আরবের দাবিতে আমিরাত দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রায় এক দশক ধরে আমিরাতের নেতৃত্বে কাজ করা হাজারো যোদ্ধা নতুন পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েন।

আমিরাত-সমর্থিত যোদ্ধাদের দাবি, আবুধাবি চলে যাওয়ার পর ইয়েমেনে যে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সৌদি আরব তা পূরণ করতে পারেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, আমিরাতের সেনারা চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব হস্তান্তরের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না।

আরও পড়ুন: আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল

তার ভাষায়, পরিস্থিতি কতটা বদলে গিয়েছিল, তা ছিল উদ্বেগজনক। আমিরাতের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কার্যকর। সৌদি আরব সেই দক্ষতার বিকল্প তৈরি করতে পারেনি।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বাহিনীগুলো যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছিল কি না এবং আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের সঠিক ব্যবস্থা ছিল কি না, তা জানতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন।

প্রস্তুতির ঘাটতি

আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের আট সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ওই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর পর থেকে পুরো অঞ্চলে নজিরবিহীন অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্ররাও ইরানের হামলার ঝুঁকিতে পড়ে।

আরও পড়ুন: শত্রুদের পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মোদির

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়টি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল ছিল। ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা সামাল দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে। ইয়েমেনে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সৌদি আরব বছরের পর বছর চেষ্টা করলেও ইরানের ওপর ট্রাম্পের চাপের কারণে হুথিরা শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি বলেন, শত্রুপক্ষ সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পর দেশটির পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা ছিল।

তার মতে, এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া জানানো ছিল প্রত্যাশিত।

পূর্ব দিক থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে আঘাত হানলেও দেশটির মনোযোগের বড় অংশ ছিল দক্ষিণ সীমান্তে। হুথিরা তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ছিল। তারা ইরানের মিত্রদের সহায়তায় সরাসরি এগিয়ে আসতে আগ্রহী নয় বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেহরানের পদক্ষেপই সৌদি আরবকে আরো গভীরভাবে সংঘাতে টেনে আনে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জরুরি সতর্কতা জারি

জুলাইয়ে ইরান একটি বাণিজ্যিক বিমান পাঠিয়ে হুথি প্রতিনিধিদলকে খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে নিয়ে যায়। ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের আকাশপথে অবরোধ থাকা সত্ত্বেও এই যাত্রা হয়। বিমানটি যাতে সানার হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পারে, সে জন্য সেখানে হামলা চালায় সৌদি আরব।

এর জবাবে হুথিরা যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করে এবং সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপের কথা জানায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের উপকূল ধরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড দখল করে তারা। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় এই অগ্রযাত্রা ২০২২ সালের পর সংঘাতের সবচেয়ে বড় উত্তেজনা তৈরি করে।

এরপর সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও পাইপলাইনে হামলা চালায় হুথিরা। এতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। জবাবে সৌদি বাহিনী শত শত বিমান হামলা চালায়।

ইয়েমেনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি সিএনএনকে বলেন, সৌদি আরব বেশ কয়েকটি ভুল করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে।

তার মতে, হুথিদের আক্রমণের প্রস্তুতি রিয়াদের ছিল না। আমিরাতের কাছ থেকে পাওয়া ইয়েমেনি মিত্র বাহিনীগুলোর সঙ্গেও পর্যাপ্ত সমন্বয় গড়ে তুলতে পারেনি দেশটি।

নাগি বলেন, যেসব এলাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনী হারিয়েছে, সেগুলো মিত্রদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হুথিদের হাতে আরো উন্নত অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এ পরিস্থিতি এখন সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অনিশ্চিত ট্রাম্প, চাপে সৌদি আরব

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের আরেকটি বড় ভুল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ন্যাটোর বাইরের প্রধান মিত্র হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়। তারপরও নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন অঙ্গীকার কমে আসছে বলে মনে করছে রিয়াদ।

গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুই দফায় ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। সিএনএনকে সূত্র জানায়, ওই আলোচনায় তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে রাজি হননি।

এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ওমানের মাধ্যমে হুথিদের সঙ্গে আলোচনা করে। নিজেদের সঙ্গে গোষ্ঠীটির যুদ্ধবিরতি বজায় রাখাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। হুথিরা স্পষ্ট করে জানায়, তাদের যুদ্ধ শুধু সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। ফলে লোহিত সাগর দিয়ে মার্কিন জাহাজগুলোর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার সুযোগ পায় ওয়াশিংটন।

র‌্যাটনির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বকে নিজেদের সামরিক চিন্তাভাবনার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিল সৌদি আরব। কিন্তু এখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কতটা অনিশ্চিত হতে পারে, তা বুঝতে পারছে রিয়াদ।

তিনি বলেন, সৌদি সামরিক বাহিনীর কাঠামো কিংবা যুদ্ধের ধারণা কখনো এককভাবে এ ধরনের লড়াই চালানোর ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে এমন সংকটে কোনো মিত্র আক্রান্ত হওয়ার পর ওয়াশিংটন যৌক্তিক ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় পাশে দাঁড়াত। কিন্তু এখন সেই প্রক্রিয়া নেই। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কী ভাবছেন, সেটিই হয়ে উঠছে প্রধান বিষয়। এ কারণে সৌদি আরব নিজেকে অরক্ষিত মনে করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে এখন অন্য দেশগুলোর সহযোগিতা চাইছে সৌদি আরব। গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ মিসর সফর করে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক সপ্তাহ পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ফ্রান্স সৌদি আরবকে সহায়তা করতে সামরিক সদস্যসহ প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট সম্পদ মোতায়েনে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি বিমান পাঠানোর কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া নতুন গঠিত যৌথ বাহিনীর কমান্ডের অধীনে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছেন।

সোমবার রিয়াদে জরুরি বৈঠকের পর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয়’ করার বিষয়ে একমত হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে করা এই চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সমন্বয় করা।

ইয়েমেনে চলমান অভিযানে আমিরাত-সমর্থিত বাহিনীগুলোকেও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। এতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কে অন্তত আংশিক বরফ গলার ইঙ্গিত মিলছে।

আঞ্চলিক সমাধানই বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাইরের দেশগুলোর সহায়তা এবং ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের প্রাথমিক সাফল্য দিয়ে এই সংঘাতের অবসান ঘটানো যাবে না। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনো নিয়মিত ঘটনা। রাজনৈতিকভাবে সংঘাতের শেষ পরিণতি কী হবে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে হলে শক্তিশালী সংগঠন, আঞ্চলিক সমর্থন, অর্থায়ন ও রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান জোট এখন পর্যন্ত এসব সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখতে পারবে, তার প্রমাণ দিতে পারেনি।

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিশাম আল-ওমেইসি সিএনএনের সাংবাদিক বেকি অ্যান্ডারসনকে বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কমান্ডব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে হবে।

তার মতে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দখল করা এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারলে এসব ভূখণ্ডগত সাফল্যের কোনো মূল্য থাকবে না।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ইয়েমেনের যুদ্ধের সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত চলতে থাকলে সৌদি আরবকে চাপে রাখতে হুথিদের ব্যবহার করার শক্তিশালী প্রণোদনা ইরানের থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আলাদা কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারে। আরেকটি সম্ভাবনা হলো, হুথি নেতৃত্বকে নির্মূল করতে সামরিক হামলা আরো জোরদার করা। তবে এই দুই পথের কোনোটিই স্বল্প সময়ে ইয়েমেনের সংঘাতের সমাধান দেবে না বলে মনে করেন র‌্যাটনি।

তার ভাষায়, সৌদি আরবকে সামনে এগোনোর জন্য একটি অসম্পূর্ণ পথই খুঁজে নিতে হবে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবিতে সিজেডএম অ্যালামনাইদের উদ্যোগে ক্যারিয়ার আড্ডা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ এম


বেরোবিতে সিজেডএম অ্যালামনাইদের উদ্যোগে ক্যারিয়ার আড্ডা অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত সম্ভাবনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে সিজেডএম অ্যালামনাইদের নিয়ে ‘ক্যারিয়ার আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের গ্যালারি রুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ও সিজেডএম জিনিয়াস অ্যালামনাই কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগীয় অ্যালামনাইয়ের আহ্বায়ক মো. তুহিন রানা।

ক্যারিয়ার আড্ডায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, সরকারি-বেসরকারি চাকরির প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়ার কৌশল, যোগাযোগদক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু একাডেমিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি সেই লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকতে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগদক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সমসাময়িক বিষয়ে ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সফলতার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী যত আগে নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হবে, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি নেওয়া তার জন্য তত সহজ হবে।’

আলোচনা পর্বে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও চাকরির প্রস্তুতিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের আগ্রহ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা থাকে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আজকের আলোচনা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে নতুনভাবে ভাবতে সহায়তা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করা যায়—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত এমন আয়োজন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।’

অনুষ্ঠান পরিচালনাকালে রংপুর বিভাগীয় অ্যালামনাইয়ের আহ্বায়ক মো. তুহিন রানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী জ্ঞান ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। অভিজ্ঞ অ্যালামনাইদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সংযোগ তৈরি করাই আমাদের এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হোক। আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।’

ক্যারিয়ারবিষয়ক আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো:রাজিব তালুকদার

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ এম


ঝালকাঠিতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ঝালকাঠিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা জনাব রফিকুল ইসলাম জামাল। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমিনা আল গাজী অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
ঝালকাঠি জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোড মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিনিসিয়ুসের প্রেমিকার সঙ্গে আবার বিচ্ছেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ এম


ভিনিসিয়ুসের প্রেমিকার সঙ্গে আবার বিচ্ছেদ

খেলায় নেই সেই প্রত্যাশিত ধার, লাল কার্ড দেখেছেন তিনি এবং একাধিক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকার সঙ্গে আবারও বিচ্ছেদ ঘটেছে। এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল জানায়, গতকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধিরা বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এই বিচ্ছেদটি হয়েছে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বা বিরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধিদের বক্তব্য, ‘ভার্জিনিয়া ফনসেকা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর একসঙ্গে নেই। কোনো বিরোধ হয়নি, কোনো ঝগড়াও হয়নি। তারা শুধু যুগল হিসেবে একসঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ভার্জিনিয়ার একা ভ্রমণকে কেন্দ্র করে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে তার প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, ভার্জিনিয়ার সাবেক স্বামী সংগীতশিল্পী জে ফেলিপের সঙ্গে সন্তানদের সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের অক্টোবরে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে জানান ভিনিসিয়ুস ও ভার্জিনিয়া। এ বছরের মে মাসে তাদের বিচ্ছেদ হলেও জুলাইয়েই আবার তা জোড়া লাগে। তবে সেই পুনর্মিলন টিকল মাত্র তিন মাস।

প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চুল টেনে লাল কার্ড দেখেছেন ভিনিসিয়ুস। ছবি : সংগৃহীত

এদিকে মাঠেও স্বস্তিতে নেই ভিনিসিয়ুস। পরশু রাতে লা লিগার ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টানায় লাল কার্ড দেখেন তিনি। এ ঘটনায় দুই থেকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তার। তেমনটা হলে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো মিস করবেন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম, রাশিয়ার সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ এম


বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম, রাশিয়ার সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে দাম কমতে শুরু করে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৩৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১০৩ ডলার ৩৫ সেন্টে নেমে এসেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও কমেছে। তেলটির ফিউচারসের দর ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৩০ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ ডলার ৫৫ সেন্টে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতার খবর নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে। হামলা বন্ধ হলে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ কমতে পারে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রাপ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি থেকে সরবরাহ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা বাড়তে পারে। সাধারণত সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রাখে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। এ সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতার বাস্তব প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে এবং সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%