বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৮ এম
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সার সরবরাহে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সফলতা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। কমিটি সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম। কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোছা. সাবিরা সুলতানা, মো. গোলাম রছুল এবং মো. আব্দুল বারী সরদার। বিশেষ আমন্ত্রণে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে কৃষির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সভাপতি উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করে। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীলভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে। আদা, মরিচ, টমেটো, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং রপ্তানিমুখী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
বৈঠকে সার মজুত ও সরবরাহের তথ্য উপস্থাপন করে মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে সারের চাহিদা ৫৮ লাখ ৫০০ টন। জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই চার ধরনের সারের মজুত রয়েছে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মজুত ছিল ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টন। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি — তিন ধরনের সারের মজুত গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছর বেশি বলে বৈঠকে জানানো হয়।
তবে বৈঠকে কয়েকজন সদস্য তাদের নির্বাচনি এলাকায় সার সংকটের অভিযোগ করেন। কমিটির অন্তত তিন সদস্য জানান, অনেক জায়গায় কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। আবার কিছু সদস্য বলেন, তাদের এলাকায় সারের সংকট নেই। সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারের ঘাটতি নেই। তবে নওগাঁ ও রাজশাহীর কিছু এলাকায় সংকট রয়েছে বলেও আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় কমিটি সার বিতরণে সংকট থাকলে তা দূর করা, পালিয়ে যাওয়া ডিলারদের শূন্যস্থান পূরণ এবং ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে।
বৈঠকে মাটি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া যশোরের গদখালীতে ফুল ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড় ও সমতল এলাকার বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন, চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম চাষ, কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো, কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়।
মিয়ানমারে পাচারের সময় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে ৪০০ বস্তা ইউরিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন আবু বকর সিদ্দিক, নুরুল ইসলাম জাহেদ এবং আবদুল হক। বুধবার ভোরে কোতোয়ালি থানার চাক্তাই খালের পশ্চিমে বালুর মাঠসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। পুলিশ একটি সার পাচারের জন্য ব্যবহৃত কার্গো বোটও জব্দ করেছে।
সদরঘাট নৌথানার ওসি আবদুর রব জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নওগাঁর বদলগাছীতে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের প্রতি কেজি সার ৪ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ডিলারকে কালোবাজারিদের ৫০ বস্তা করে সার দিতে তিনি চাপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার বদলগাছী সদরের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের ম্যানেজার মনোরঞ্জনকে এক কালোবাজারিকে ৫০ বস্তা সার দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় পরে কৃষি অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিভিন্ন বিষয়ে চাপ আসতে থাকে।
মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল তার ম্যানেজারকে ফোন করে একজনকে ৫০ বস্তা সার দিতে বলেছিলেন। তবে তিনি সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে সজল সরকার বলেন, তিনি চাপ দেননি; সুযোগ থাকলে ৫০ বস্তা সার দিতে বলেছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, তিনি নতুন এসেছেন এবং দ্রুত সার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তবে সজল সরকারের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সভাপতি ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তার সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। যদি এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।
সাতক্ষীরার তালায় বাড়িতে নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক মজুত রাখার দায়ে মশিয়ার রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জব্দ করা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক ধ্বংসের নির্দেশও দিয়েছে।
বুধবার সকালে লাউতাড়া গ্রামে মশিয়ার রহমানের বাড়িতে র্যাব অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে। পরে ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। মশিয়ার রহমান ওই গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে। তিনি বিসিআইসি সার সাব-ডিলার হিসাবে ব্যবসা করার পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
রাজশাহীর পবা উপজেলায় কৃষকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত ১২৯ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় কৃষক মামুনুন্নবী মিলনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা ৪৮ বস্তা এমওপি ও ৮১ বস্তা টিএসপি সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।
বুধবার বড়গাছী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ায় ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনুল আবেদীনের নেতৃত্বে অভিযানটি হয়।
তবে মিলনের দাবি, বিক্রির জন্য নয়, নিজের জমিতে আলু চাষের জন্য সার রেখেছিলেন। গত বছর ৪৫ বিঘা জমিতে আলু চাষের পর সার বেঁচে যায়। চলতি মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি সেগুলো মজুত করেছিলেন।
গুরুদাসপুরে সার পাচারের ভিডিও ভাইরাল
নাটোরের গুরুদাসপুরের এক ডিলারের ৪০ বস্তা সার পাচারের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শ্যালোচালিত ভটভটিতে সার নিয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দিকে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয়দের কথোপকথনে ৪০ বস্তা সার তাড়াশের সবুজপাড়ায় নেওয়ার কথা শোনা যায়। চালকের বক্তব্যেও ডিলার গিয়াস উদ্দিন প্রামাণিকের নাম শোনা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি ১৫ সেপ্টেম্বরের নয়, ১১ সেপ্টেম্বরের। তার দাবি, রানীগ্রামের কৃষক শহিদুল ও রাশিদুল তার কাছ থেকে ৮ বস্তা করে মোট ১৬ বস্তা সার ন্যায্যমূল্যে কিনেছিলেন। পথে রাঙ্গা মোল্লা নামে এক ব্যক্তি সারবোঝাই ভটভটি আটকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সার পাচারের নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাঙ্গা মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সার ডিলারের মাধ্যমে তাড়াশে পাচার হচ্ছিল। পাচার রোধ করায় গিয়াস উদ্দিন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের কনসার্ট চলাকালীন সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারী এবং একজন হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন সরদারের অনুসারী। আহত তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনসংলগ্ন মাঠে ছাত্রদলের আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের কনসার্ট চলাকালে সংঘর্ষটি ঘটে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করার জন্য দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কনসার্ট চলাকালীন সুমন সরদারের নেতৃত্বাধীন পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এটি হাতাহাতি ও সংঘর্ষে পরিণত হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় রুমির অনুসারী ১২তম ব্যাচের শাওন ও আলিফ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সুমন সরদারের নেতৃত্বাধীন পক্ষের একজন কর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের একাংশে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, "একটু আগে একজন আমাকে ফোন করে মারামারি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ জন্যই শুনেছি। আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। আমি বাসায় আছি। বিষয়টি আসলে কী হয়েছে, তা খোঁজ নিচ্ছি।"
সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের বিষয়ে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল নেতাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বুধবার দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন ছিল। রাতে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল থাকবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির যে পরিমাণ আগে অনুমোদিত হয়েছিল, তার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আরেকটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
জিটুজি চুক্তির আওতায় চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি ও চীনের পেট্রোচায়না থেকে তেল আমদানি করা হবে। এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানিও অব্যাহত রয়েছে।
বুধবারের বৈঠকে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনার দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জবের আলীর বসবাস তিস্তাপারে। ২০২০ সালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ক্রসবাঁধটির অংশ বিশেষ ভেঙে গেলে খিতাবখা গ্রামের জবের আলীর ভিটেও গিলে খায় তিস্তা। তার পর থেকে বাঁধের ধারে মাথা গুঁজে রয়েছেন ৮৫ বছরের এই বৃদ্ধ।
সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ ফুঁসে ওঠা তিস্তার তোপে বিলীন হয় ক্রসবাঁধের অংশবিশেষ। এরপর ফের আতঙ্ক ভর করে জবের আলীর চোখে-মুখে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখা এই প্রবীণ ব্যক্তিটি ভেবেছিলেন, এবার খনন আর পাড় বেঁধে তিস্তাকে বাগে আনা হবে; ভিটেমাটি সুরক্ষিত করে চাষবাস করে জীবনধারণ করতে পারবেন তারা।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে ভরসা করতে পারছেন না পোড়খাওয়া এই বৃদ্ধ। বলেন, ‘এই তিস্তা হামার দুঃখ। যখন ব্যারাজের গেট ছাড়ি দেয়, নদী পাক দেয়, ডুকরি ওঠে। হামার বুক কাঁপে। চপুর আইত নিন্দ হয় না (সারা রাত ঘুম ধরে না)। শুনি বোলে তিস্তা বাইন্ধবে। সগাই (সবাই) আশা দেয়, কাম হয় না।’
৩০ বছর আগে ভিটে হারিয়ে বাঁধের ধারে বসত গড়েছেন রাজারহাটের তিস্তাপারের রামহরি গ্রামের আব্দুল মজিদ। তাও তিস্তার চোখ রাঙানিতে বিপন্ন।
ফসলি জমি তিস্তার গর্ভে। মহাপরিকল্পনা তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু ভরসা পাচ্ছেন না।
একরাশ হতাশা নিয়ে আব্দুল মজিদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরি শুনি নদী খুঁড়বে, পাড় বাইন্ধবে। সরকার আইসে, সরকার যায়—হামার আশা পূরণ হয় না।’
নির্বাচনের আগে তিস্তার পাড়ে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ নামে একটি বড় আন্দোলনে শামিল হয়েছিল তিস্তাপারের মানুষ। মশাল মিছিল, গানের সুরে জেগে উঠেছিল তিস্তাপার। সেই আন্দোলনের সফলতা নিয়ে সংশয় কাটেনি সেখানকার মানুষের।
খিতাবখা গ্রামের গৃহবধূ মমতা বেগম তাই আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘ভোটের আগে তিস্তা বাঁচাই। ভোট বের হইলে তিস্তা মরে।’
রাজারহাটের গতিয়াশাম, রামহরি, খিঁতাবখা, গাবুরহেলান, ডাংরা, রতি, উলিপুরের ঠুটাপাইকর, হোকডাঙা, চিলমারীর চর বজরা-সব গ্রামেই ভাঙন আতঙ্ক। এসব গ্রামের অনেকগুলো শুধু নামেই টিকে আছে, বেশিরভাগই তিস্তার গর্ভে। বাকি অংশের মানুষও সব সময় থাকে ভাঙন আতঙ্কে, ঘর-বাড়ি হারানোর ভয়ে।
কয়েকদিন আগে বুড়িরহাটের ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। ফলে ভাটির দিকে ৮-১০টি গ্রামে ভাঙন আতঙ্ক দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ করছে। নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ পলাশপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ধানি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর তীর ধরে। হাসারপাড় এলাকার উজান ও ভাটিতে ভাঙছে প্রতিনিয়ত।
তিস্তাপারের মানুষ বলছে, দীর্ঘদিন খননকাজ না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। ফলে মে মাস থেকে অধিকাংশ সময় তিস্তার পানি থাকছে বিপৎসীমার কাছাকাছি। এতে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কুড়িগ্রামের অংশের ২০ কিলোমিটার এলাকা। জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর প্রাণান্ত চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। কিন্তু কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ, ক্রসবাঁধে ধস নামায় আতঙ্ক কাটেনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিস্তার আরও ৫-৬টি পয়েন্ট ভাঙনপ্রবণ। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে সেসব পয়েন্টে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০০ জন শিশুকে নিয়ে যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ। গবেষণায় দেখা গেছে, হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ রোগী হিসেবে হাসপাতালে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া শিশুদের শারীরিক জটিলতা ও হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে অপুষ্টির বিষয়টিও উঠে এসেছে। এসব শিশুর দেহে শতভাগ ক্ষেত্রে ‘বি৩ জেনোটাইপ’ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে চমেকের কনফারেন্স হলে ‘মিজলস আউটব্রেক ২০২৬ ইন সাদার্ন বাংলাদেশ: এপিডেমিওলজিক্যাল প্রোফাইল, ক্লিনিক্যাল ক্যারেক্টারিস্টিকস, জেনেটিক অ্যানালাইসিস উইথ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড অ্যান্টিবডি স্ট্যাটাস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা।
জানা গেছে, গবেষণায় থাকা আক্রান্ত ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৮৫ দশমিক ২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। প্রায় ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামের ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। আর ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু পূর্বে হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছে বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়া ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়নি। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল। গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক ছিল ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় শতভাগ নমুনায় ‘বি৩ জেনোটাইপ’ শনাক্ত হওয়া। যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে পূর্বে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চসিক ও চমেকের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপের সহযোগিতায় এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে মূল গবেষক ছিলেন চমেকের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার। গবেষণার উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন চমেকের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া ও চমেক মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এমএ হাসান। এছাড়া সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. সেলিনা হক, ডা. আয়েশা বেগম, ডা. মোহাম্মদ জাবেদ বিন আমিন চৌধুরী, ডা. সায়েদা হুমায়দা হাসান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. আসমা ফেরদৌসী ও ডা. সানজানা ইসলাম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. এম এস জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ