০৯:২৫ পি.এম
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬ : আসন্ন ২০তম এশিয়ান গেমস ২০২৬’এ বাংলাদেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের অগ্রগতি এবং সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল হক। এছাড়া সভায় বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান যে, যেকোনো প্রতিযোগিতায় কেবল অংশগ্রহণই মূল লক্ষ্য না হয়ে, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে লড়াই করতে হবে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে সেরা পারফরমারদের এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে কোনো অবস্থাতে তারা বাদ না পড়ে। তিনি খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য স্থায়ী কোচ নিয়োগের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী দলের প্রস্তুতি, মোট খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তার সংখ্যা, এবং তাদের ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে ফেডারেশনগুলোর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
আলোচনা চলাকালে দল গঠনের ক্ষেত্রে পদের অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। উদাহরণস্বরূপ, শুটিং ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তাকে ক্যাম্প ডিরেক্টর হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর, তালিকায় তাকে পিস্তল কোচ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকদের কোচ হিসেবে যাওয়ার প্রবণতাকে তিনি সম্পূর্ণ অশোভন হিসেবে আখ্যা দেন।
অফিশিয়াল কাউকে কোচ বানিয়ে পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যিনি সারা বছর খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাঁকেই কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোচের দায়িত্ব নিতে যেতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির জন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে
এশিয়ান গেমসের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের স্টেডিয়ামপাড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি সম্প্রতি ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে জানিয়ে দেন যে, বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও পরিবেশের আশানুরূপ পরিবর্তন এখনও ঘটেনি। এমনকি ক্রীড়া পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশের কিছু ব্যক্তিদের এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকার দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, প্রশাসনিক কাজ শুধুমাত্র অফিসে বসে নয়, বরং প্রত্যেকটি ফেডারেশন ভবন ও তার আশেপাশের পরিবেশ খেলাধুলার উপযোগী রেখে চলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সকল কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামসহ কমলাপুরের পরিবেশকে সত্যিকারের ক্রীড়াবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য প্রতিমন্ত্রী সকলের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন