ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের


কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং থানার অফিসার ইনচার্জকে সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপ্রধান তথ্য অফিসার (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানো হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চলতি মাসেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা না করে আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের মাশুল গুণতে হচ্ছে।" এই কারণে উত্তরণ পেছানোর বিকল্প নেই।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পল্টনে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিগত সরকারের সময় উন্নয়নের পথে রাজনৈতিকভাবে বেশি সরব থাকায় অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই উত্তরণ পেছানোর বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "২০২৯ সালে উত্তরণের পর যেন মার্কেট এক্সেস না হারাই, তা নিশ্চিত করা হবে।" তিনি জানান, রাজনৈতিক ফোকাস থাকায় অর্থনৈতিক বিবেচনায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।

সেমিনারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে আরজেএসসি অনলাইন করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লাইসেন্স ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য বহুমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বধলায় ১৩ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


পূর্বধলায় ১৩ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালক গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে দুলাল (৫০) নামে এক মাদ্রাসা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জালশুকা কুমুদগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুলাল জালশুকা কুমুদগঞ্জ রওজাতুল আত্ফাল নূরানী ও হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক। পাশাপাশি তাঁর একটি ফার্মেসি রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই ফার্মেসিতে কাজ করত।

শিশুটির বাবা সোহেল মিয়া থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন রাতে ফার্মেসির কাজ শেষে বাড়ি ফিরে শিশুটি ঘুমিয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত তাকে ডেকে নিজের শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পূর্বধলা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন। শিশুটিকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুলাল গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্বধলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলদস্যু দমনের অভিযানে বিপাকে সোমালিয়ার জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


জলদস্যু দমনের অভিযানে বিপাকে সোমালিয়ার জেলেরা

সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের কার্যকলাপ দমনে নিরাপত্তা অভিযানকে আরও জোরদার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী। এর ফলে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার এবং সামরিক নজরদারির মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশটির পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের উপকূলীয় শহর বান্দের বেইলার জেলেদের। জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত না থেকেও তারা জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। জেলেদের অভিযোগ, জলদস্যুদের দমনে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে তাদের পরিবারও দুর্ভোগে পড়েছে।

সোমালিয়ার উপকূলে ২০ বছর ধরে মাছ ধরছেন আবদিফাতাহ মোহাম্মদ। ১৫ বছর বয়সে এ পেশায় আসেন তিনি। তবে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিদেশি ট্রলারের কারণে বর্তমানে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে তার। ৩৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ বলেন, "আগের মতো আর মাছ পাই না। গলদা চিংড়ি ধরার সম্ভাবনাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।" তার অভিযোগ, "বিদেশি ট্রলারগুলো সমুদ্রের মাছ নিঃশেষ করে দিচ্ছে।"

১৯৯১ সালে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পতনের পর দেশটির জলসীমায় নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে অবৈধ মাছ ধরার সুযোগ তৈরি হয়। বিদেশি জাহাজের হাতে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ শোষিত হচ্ছে—এমন ক্ষোভ থেকে কিছু জেলে জলদস্যুতায় জড়িয়ে পড়েছেন। মোহাম্মদ বলেন, "বিদেশি ট্রলারগুলোর সঙ্গে আমরা জেলেরা পেরে উঠি না। তাদের সক্ষমতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। এর প্রভাব পড়ে স্থলে থাকা আমাদের পরিবারের জীবিকার ওপর।" তিনি আরো বলেন, "আমাদের এলাকার কেউ কেউ সমুদ্রে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু আমি জানি, এতে আমাদের নিজেদের সম্প্রদায়েরই ক্ষতি হচ্ছে।"

সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিক থেকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। তবে কতটি জাহাজ ছিনতাই হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ, মাছ ধরার নৌযান ও ধাও—সব ধরনের নৌযানকে হিসাবে ধরা হচ্ছে কি না, তার ওপর এই সংখ্যা নির্ভর করছে। ছিনতাই হওয়া কয়েকটি জাহাজ বান্দের বেইলার কাছে আটকে রাখা হয়েছে। ফলে শহরটির জেলে সম্প্রদায়ের ওপর সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। জলদস্যুরা জেলে সেজে চলাফেরা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগস্টের শেষ সপ্তাহে জেলেদের সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

মোহাম্মদ বলেন, "আগস্টের শেষ সপ্তাহে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সমুদ্রে যেতে নিষেধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা দুই মাস বহাল থাকার কথা ছিল।" তিনি বলেন, "সমুদ্রে মাছ ধরে যা আয় করি, তা দিয়েই আমাদের পরিবার চলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাছের পরিমাণ কমে গেলেও এই আয় ঘরের খরচ চালাতে সাহায্য করত। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এমন অপরাধের শাস্তি আমাদের দেওয়া হচ্ছে, যার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের পরিবারকে।" মোহাম্মদের ভাষায়, নিষেধাজ্ঞা মানা কিংবা অমান্য করা—দুই ক্ষেত্রেই জেলেদের ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, "কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে যে আপনি সমুদ্রে গিয়েছিলেন, তারা আপনাকে জলদস্যুতা কিংবা ছিনতাই করা জাহাজে রসদ সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারে।" তিনি আরো বলেন, "সমুদ্রে থাকলে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার কিংবা সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জলদস্যু ভেবে আপনাকে ধরে বিদেশের কোনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এই শহরের অনেক পুরুষের সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটেছে।"

বান্দের বেইলায় ১৫ বছর ধরে মাছ ধরছেন আবদিরিজাক সাঈদ। তার মতে, জলদস্যুবিরোধী অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। সাঈদ বলেন, "অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগকে গ্রেপ্তার করা হয় জলদস্যুদের খাবার কিংবা খাত সরবরাহের পর। তখন ছিনতাই করা জাহাজগুলো বান্দের বেইলার কাছে নোঙর করা ছিল।" খাত একধরনের উদ্দীপক পাতা, যা ওই অঞ্চলের কিছু মানুষ চিবিয়ে থাকেন। সাঈদ আরো বলেন, "স্থানীয় সরকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলোকে জলদস্যুদের কাছে কোনো কিছু বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছিল। কেউ তা করলে তাকেও জলদস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়।"

জলদস্যুতার পেছনে আত্মীয়তার নেটওয়ার্ক

জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত কয়েকজন বান্দের বেইলারই বাসিন্দা। ফলে জলদস্যুতার কারণে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মুখে পড়া শহরটির কিছু বাসিন্দার সঙ্গে এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সাঈদ বলেন, "ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত কিছু জলদস্যু বান্দের বেইলার বাসিন্দা। তারা এই সম্প্রদায়েরই মানুষ।" ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেথ্রো নরম্যান বলেন, জলদস্যুতাকে শুধু সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃতি বোঝা যাবে না। এর পেছনে স্থলভাগে থাকা এমন কিছু নেটওয়ার্ক কাজ করে, যেগুলো অর্থ, সরঞ্জাম, লোকবল ও নিরাপত্তা দিতে পারে।

নরম্যান বলেন, "আত্মীয়তার নেটওয়ার্ক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে। জলদস্যুতার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। অতীতে জলদস্যুরা এসব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঋণ, সরঞ্জাম, লোকবল ও সুরক্ষা জোগাড় করতে পেরেছে।" তিনি আরো বলেন, "গোত্রীয় সম্পর্ক জলদস্যুতার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ জোগাড় এবং লোকজনকে সংগঠিত করার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এ কারণেই জলদস্যুতা দমনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হলে স্থলভাগে থাকা এসব নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।"

এসব নেটওয়ার্কের কারণে জলদস্যুবিরোধী অভিযানের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাঈদ জানান, ইয়েমেন থেকে সোমালিয়ায় পণ্য ও রসদ নিয়ে আসা নৌযানগুলোর চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "জলদস্যুদের এসব হামলার কারণে ইয়েমেন থেকে রসদ নিয়ে আসা নৌযানগুলোও আসা বন্ধ করে দিয়েছে।"

জলদস্যুদের ঠেকাতে উদ্যোগ বাসিন্দাদের

নিরাপত্তা অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবনযাত্রা ব্যাহত হলেও স্থানীয় কিছু বাসিন্দা তরুণদের জলদস্যুতায় জড়ানো থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, "সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন সশস্ত্র তরুণ সমুদ্রে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাসিন্দারা তাদের বাধা দেন। তারা তরুণদের বোঝান, এমন কাজ করলে নিজেদের সম্প্রদায়ের ক্ষতি আরো বাড়বে।" মোহাম্মদের ভাষ্য, "তাদের থামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ, সরকার নয়। কারণ, এখান থেকে হামলা চালানো হলে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার শিকার হবেন এই শহরের সাধারণ বাসিন্দারাই।"

গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকারের দুই কর্মকর্তা জানান, জলদস্যুদের রসদ সরবরাহকারী স্থানীয় নেটওয়ার্ক দুর্বল করতেই নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। প্রথম কর্মকর্তা বলেন, "জলদস্যুবিরোধী সফল অভিযানে তিনটি জাহাজ মুক্ত হওয়ার পর ১ অক্টোবর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।" আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা (আইএমও) ২ অক্টোবর জানায়, ছিনতাই হওয়া তিনটি জাহাজ—‘অনার ২৫’, ‘সিমাল’ (যা ‘সিবু ১’ নামেও পরিচিত) এবং ‘ইউরেকা’—মুক্ত করা হয়েছে। এসব জাহাজের ৪৪ জন নাবিককে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ‘অনার ২৫’ উদ্ধারের অভিযানের সময় পাঁচজন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও বান্দের বেইলার আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা কমেনি বলে জানিয়েছেন ওই দুই কর্মকর্তা। এক কর্মকর্তা বলেন, "সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে আসা সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিয়মিত শহরের ওপর চক্কর দেয়। কাছাকাছি প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় এসব উড্ডয়ন আরো ঘন ঘন হচ্ছে।" অন্য কর্মকর্তা বলেন, "উপকূলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের যেকোনো তৎপরতা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।" দুই কর্মকর্তার ভাষ্য, হেলিকপ্টারগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর। এই বাহিনী বহু বছর ধরে ওই অঞ্চলে জলদস্যুবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে।

নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের নতুন করে তৎপরতা বেড়েছে। সোমালিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক আবদিনুর আবদেলা বলেন, ২০২৩ সালের শেষ দিকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে হুথিদের হামলা শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর মনোযোগের বড় অংশ ওই দিকে সরে যায়। গাজায় যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা ওই দুই অঞ্চলে হামলা শুরু করেছিল। আবদেলার মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী হুথিদের হুমকি মোকাবিলায় বেশি মনোযোগ দেয়। এই সুযোগে সোমালিয়ার উপকূলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নেয়।

আবদেলা বলেন, "২০২৩ সালের শেষ দিকে হুথিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে হামলা শুরু করার পর আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজর ও তৎপরতা হুথিদের হুমকির দিকে সরে যায়। এতে সোমালিয়ার উপকূলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তার শিথিলতার সুযোগ নিতে পেরেছে।" ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক নরম্যান বলেন, পুন্টল্যান্ডের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বাহিনীও অন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে চাপে রয়েছে। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, "আল-মিসকাদ পাহাড়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের (পিএমপিএফ) সক্ষমতা চাপে পড়েছে। ২০২৩ সালে লাস আনোদে সোমালিল্যান্ডবিরোধী বিদ্রোহের সময়ও বাহিনীটি কিছু সদস্য হারিয়েছে।" নরম্যান জানান, পুন্টল্যান্ডের বাহিনীর কিছু ধুলবাহান্তে যোদ্ধা, যাদের মধ্যে পিএমপিএফের সদস্যও ছিলেন, ওই বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিলেন। বিদ্রোহীরা সোমালিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ থেকে তাদের দাবিকৃত ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিনিয়ে নেয়।

নরম্যানের মতে, এখানেও গোত্রীয় পরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। সমসাময়িক জলদস্যু নেটওয়ার্ক এবং তা দমনের উদ্যোগ বুঝতে এসব সম্পর্ক ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বান্দের বেইলার বাসিন্দাদের কাছে এসব নিরাপত্তা সংকট কেবল আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়। এর ওপর নির্ভর করছে জেলেরা সমুদ্রে যেতে পারবেন কি না, পণ্য ও রসদ আসবে কি না এবং সাধারণ মানুষ জলদস্যু সন্দেহে আটক হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন কি না।

সাঈদ বলেন, নিরাপত্তা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরও আকাশে বিমানের উপস্থিতি জেলেদের মনে করিয়ে দেয়, তাদের ওপর নজরদারি চলছে। তিনি বলেন, "আমরা বিমানের শব্দ শুনতে পাই। শব্দ যত জোরে শোনা যায়, বুঝতে পারি সেগুলো তত কাছে। তখন বুঝি, আমাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।" সাঈদের কথায়, "আমি শুধু জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। সমুদ্রে গিয়ে নিরাপদে তীরে ফিরতে পারব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে চাই না।"

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোগ প্রতিরোধ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


রোগ প্রতিরোধ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নীতিতে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার তুলনায় রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রাথমিক ব্যর্থতা নির্দেশ করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই। আমাদের মূল অগ্রাধিকার হাসপাতাল বৃদ্ধি নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে রোগ, শারীরিক অক্ষমতা ও অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা।"

আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল জি ফ্রস্ট এবং মেডট্রনিক পিএলসি ও ইন্টেল করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. ওমর ইশরাক বক্তব্য রাখেন।

এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সনাতন স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের স্বাস্থ্যকর্মীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অব থিংসের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যাদের প্রশিক্ষণসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সুসজ্জিত করা হবে।

দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, রোগীকে সেবা নিতে যেন ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে এই সেবা সম্প্রসারিত হবে।

বিগত বছরগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রী আমদানিতে যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "যে কমিটির বৈঠক অতীতে দুই বছরেও হয়নি, গত পাঁচ মাসেই সেই কমিটি তিনবার বসে চিকিৎসাসামগ্রীর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে।"

আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে শুধুমাত্র উচ্চমূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি করলেই চলবে না; যন্ত্রপাতির জীবনকালীন ব্যয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও দেশের ভেতরে প্রকৌশলী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

একই সাথে অকেজো পড়ে থাকা মেডিকেল যন্ত্রপাতির তাৎক্ষণিক তদারকিতে জাতীয় ই-হেলথ ও ডিজিটাল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

গোলটেবিলে আলোচনায় আরো অংশ নেন মেডট্রনিক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠী, জিই হেলথকেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ও ডিরেক্টর মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান (রোমেল), বেকটন ডিকিনসনের বাংলাদেশ বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান এবং আমচ্যাম হেলথকেয়ার সাবকমিটির ইন-চার্জ ডিরেক্টর ও ন্যাটকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-মামুন এম রাসেল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%