বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৮ এম
ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পুলিশ ৪৪০ জনকে আটক করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটককৃতদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকট, শিক্ষক ও কর্মীর ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময়ের ক্লাস সূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিকে জানান, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের সময় ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার দেশটির প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয় বিক্ষোভ বা কার্যক্রমের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি বিদ্যালয় পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল এবং আরও ৪৪টিতে অবরোধের চেষ্টা করা হয়।
বিক্ষোভের কিছু ঘটনায় সহিংসতা দেখা যায়। লিলসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা ময়লার পাত্রে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে বোতল, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়ে। পুলিশ প্রতিক্রিয়া হিসেবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নুনেজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিক্ষেপের সাতটি ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় অন্তত ১০ জন শিক্ষা-কর্মী ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে শুরু হয় এবং পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো বলছে, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষক সংকট এবং দীর্ঘ ক্লাস সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
আন্দোলনের সঙ্গে একই দিনে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘটও অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সরকারি কর্মীরা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয়সংকোচন, বেতন ও কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ধর্মঘটও ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সেবায় প্রভাব ফেলেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সহিংসতা ও স্কুল অবরোধের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, স্কুলের কর্মী ও পুলিশকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে সোমবার আন্দোলনের কারণে ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের নতুন কর্মসূচির পর আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৪০-এ দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট—দুই কর্মসূচিই ফ্রান্সের শিক্ষা ও সরকারি সেবা খাতে চলমান অসন্তোষকে সামনে এনেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উগান্ডার তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী কিজানাঙ্গোমা রাজা এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা ন্যাবোঙ্গো প্রথম হিসেবে পরিচিত।
বিবিসি জানাচ্ছে, তোরোর নতুন রাজা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে তিনি রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং সাংবাদিক ও উপস্থাপক হিসেবে অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে উগান্ডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ করেছেন। তবে তার রাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে ক্যান্সারে মারা যান তোরোর আগের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি চতুর্থ, যিনি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে, মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন।
প্রথা অনুযায়ী, প্রয়াত রাজার স্বীকৃত ছেলে থাকলে সাধারণত তাকেই পরবর্তী রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়ে থাকে। রাজপরিবারের সদস্যদের দাবি, ওয়ো একটি উইল রেখে গেছেন, যেখানে তার ছেলেকে পরবর্তী রাজা করার নির্দেশ ছিল। তবে সেই ছেলেকে কখনোই প্রকাশ্যে আনা হয়নি। রাজা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বাবিতো বংশের ২১ সদস্যের কমিটি তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরে কমিটি কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে। প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ছেলের উইলকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। তবে রাজা নির্বাচনের কমিটির বক্তব্য, কিজানাঙ্গোমাকে তোরোর রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিজানাঙ্গোমা এবং প্রয়াত রাজা ওয়ো চাচাতো ভাই। উভয়েই তোরোর ১১তম রাজা জর্জ ডেভিড ম্যাথিউ কামুরাসি রুকিডি তৃতীয়ের নাতি।
রাজ্যাভিষেকের দিন তোরোতে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কিজানাঙ্গোমা প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছান। সেখানেই তার রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়। রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিজানাঙ্গোমা ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "একা কাজ করা সম্ভব নয়; জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমাকে কাজ করতে হবে।" তোরোর তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী চার্লস মওয়াঙ্গুহিয়া বলেন, কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও তার রাজ্যাভিষেককে সমর্থন জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি।
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে তারা নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব বজায় রাখেন। ১৯৬৭ সালে উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সরকার রাজ্যগুলো পুনর্বহাল করে। বর্তমানে দেশটিতে চারটি প্রধান ঐতিহাসিক রাজ্য বিদ্যমান। তোরো এর একটি। কিজানাঙ্গোমার জন্ম ১৯৭০ সালে। তিনি ফোর্ট পোর্টালের কিডুকুরু গ্রামে বড় হয়েছেন। ১৯৯৯ সালে মাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ শুরু করেন। উগান্ডা ও প্রতিবেশী রুয়ান্ডায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা ও সম্প্রচার পেশায় যুক্ত ছিলেন। রাজা হওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা বলেছেন, সাংবাদিকতা জীবনে গড়ে তোলা যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা তিনি তোরোর মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ৪১৪টি হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে, হুথিদের পক্ষ থেকে এসব দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর মাজেদ আল-নুজাইলি বলেন, হুথিদের সামরিক শক্তি এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের পাঠানো রসদ ও জনবলকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, হামলার ফলে হুথিদের যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে। তবে, কতজন হতাহত হয়েছেন বা কী পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
এর আগে সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি বাহিনী ১০টি ফ্রন্টে হুথিদের লক্ষ্য করে ৩৫৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে হুথি গোষ্ঠীর ৪৭৬ সদস্য নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করা হয়।
ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বেশ কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এ সময় হুথিরা আল-হুদায়দাহ ও তাইজ প্রদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোকা শহরও রয়েছে। পরে বাব আল-মানদাব প্রণালির কাছে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপেও হুথিরা পৌঁছে যায়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে জেন-জির বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, যেমন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংকট, নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ব্যাপক বিক্ষোভের প্রভাব অন্তত ৪০০টি স্কুলে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। খবরটি বিবিসির মাধ্যমে জানা গেছে।
প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ জন সদস্যও আহত হয়েছেন। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের প্রভাব অন্তত ৪০০টি স্কুলে পড়েছে।
ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বাসস্টপেরও ক্ষতি করেছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সি এক ছাত্রী বলেছেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’
ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে তিনি সহিংসতার খবরকে ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছেন। পুলিশের জবাবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেছেন, ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন তিনি।
বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুনেজ বলেছেন, পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেছেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’
যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে বলে সতর্ক করেছেন। এর আগে ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালীন দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
নুনেজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ফলে শূন্য হয়েছে, সেখানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন তার কন্যা মির্জা ফাইজা তাসনিম। এর পূর্বে, তার চাচাতো বোন ড. শামারুহু মির্জাও গণসংযোগে সক্রিয় ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের টিকাপাড়া মহল্লায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি প্রচারণাসভায় অংশ নিয়ে ফাইজা তার বাবার জন্য ভোট ও দোয়া চান। এর আগে, বড় বোন ড. শামারুহু মির্জা শহর থেকে গ্রামের মেঠোপথ ও হাটবাজারে গিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। পরিবারের তরুণ প্রজন্মের এ ধরনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ভোটার আব্দুল মালেক জানান, "মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁওবাসী অত্যন্ত গর্বিত।" তিনি আরও বলেন, "এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের এমন অংশগ্রহণ উপনির্বাচনের আমেজকে আরও জমজমাট করে তুলেছে।"
উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমিন ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, ইসলামী আন্দোলনের খাদেমুল ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ