শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৪ এম
আনসার-ভিডিপির সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সাক্ষাৎকালে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ‘সঞ্জীবন প্লাটুন’ গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সদস্যদের দক্ষ, কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আনসার-ভিডিপির সদস্যদের স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত উপস্থিতি এবং সংগঠিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে সঞ্জীবন প্লাটুনের উদ্যোক্তারা উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, গাড়ল ও ভেড়া পালন এবং বিভিন্ন জাতের মুরগির খামার গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। দলগতভাবে এসব খামার পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপদ মাংস ও দুধ উৎপাদন, স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ বাজারজাতকরণে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া মাছ চাষ, সমন্বিত মৎস্য চাষ এবং মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার করে এসব উদ্যোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণ, ঋণ, উৎপাদন উপকরণ, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসংযোগ-এই বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। এতে গ্রামীণ বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হতে পারে।
সঞ্জীবন প্রকল্পের আওতায় আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের পরিবারকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য, ডেইরি, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোগ বৃদ্ধি পেলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে সঞ্জীবন প্রকল্পকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬’ পাশের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট আলেমরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কুরআন-সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি এ বৈঠকের আয়োজন করে। তারা বলেন, কোনো আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ভালো হলেও তাতে শরিয়াহবিরোধী কোনো ধারা থাকলে শুধু ভালো উদ্দেশ্যের কারণে আইনটি শরিয়াসম্মত হয়ে যায় না। তাই বিলটি আবেগ বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, কুরআন-সুন্নাহ, ফিকহ ও প্রচলিত আইনের আলোকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কমিটির সভাপতি মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মুফতি সালাহ উদ্দিন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারপ্রধানের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না। জনগণ সেই অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রেখেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা ইসলামের উত্তরাধিকার, সম্পত্তি ও পারিবারিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তারা আরও বলেন, মুসলিমদের সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার বিষয়ে শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। এসব বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণীত হলে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর বাস্তব প্রয়োগেও নানা জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিলটি পাসের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে এবং মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় ও পারিবারিক অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে মাওলানা আবদুর হামিদ, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মুফতি আবু বকর সুহাইল, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, মুফতি শামসুদ্দীন কাসেমী ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তি পর্যালোচনা করবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটির বৈঠকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর বাজেটসম্পন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ক্ষেত্রে থার্ড-পার্টি অডিট করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় উপনেতার কার্যালয়ে কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আলোচনা করা হয়, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কীভাবে দুর্নীতি দমন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি মাসে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির অন্তত দুটি বৈঠক নিয়মিতভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমান, কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মো. হাফিজ ইব্রাহিম, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, এস কে আজিজুল বারী, মো. মনজুরুল ইসলাম, মো. ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা সার সরবরাহ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সারের ঘাটতি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা সার পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বাজার থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। সারের বাজারকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগও উঠেছে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। বর্তমানে দেশে সব ধরনের সারের মজুদ নির্ধারিত নিরাপদ সীমার নিচে রয়েছে। এমন অবস্থায় আমন মৌসুমে সারের বাড়তি চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। যদি এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত নিরাপদ মজুদ নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বছরে বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সারের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এসব সারের মজুদ নিরাপদ সীমার নিচে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সারের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে দেশে সার আসছে, বিভিন্ন এলাকায় বরাদ্দ ও বিতরণ করা হচ্ছে এবং আরো কিছু সারবাহী জাহাজ পথে রয়েছে। ফলে দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সার সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া ও তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সার মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টন সার মজুদ রয়েছে। যদিও দেশের নিরাপদ মজুদ ১৭ লাখ টন থাকার কথা। ফলে চার ধরনের সার মিলিয়ে দেশের মজুদ নিরাপদ সীমার তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার টন কম। আগামী সেপ্টেম্বরেই দেশে সব ধরনের সার মিলিয়ে মোট চাহিদা চার লাখ টনের বেশি দাঁড়াবে। ওই মাসের জন্য ৪ লাখ ৪৩ হাজার টন সার বরাদ্দ রেখেছে মন্ত্রণালয়। দেশে ইউরিয়া সার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, এরপর রয়েছে ডিএপি সার। চলতি অর্থবছরে ইউরিয়ার মোট চাহিদা ২৬ লাখ ২২ হাজার টন, ডিএপির চাহিদা ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০ টন, এমওপির চাহিদা ৯ লাখ ৭০ হাজার টন এবং টিএসপির চাহিদা ৯ লাখ ১ হাজার ৫০০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ইউরিয়া সারের সরবরাহ, উৎপাদন ও আমদানির কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সংস্থার অধীনে ৭টি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ইউরিয়া, একটি ডিএপি ও একটি টিএসপি সার কারখানা। তবে কাঁচামালের অভাবে বেশ কিছুদিন ধরে টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানা উৎপাদনে নেই। ৫টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে মাত্র দুটি উৎপাদনে রয়েছে। हाल ही में চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানাটি সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টন ইউরিয়ার মজুদ রয়েছে, যদিও এ সারের ন্যূনতম নিরাপদ মজুদ সাড়ে ৫ লাখ টন ধরা হয়। টিএসপির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বর্তমানে দেশে এ সারের মজুদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন থাকলেও নিরাপদ মজুদের জন্য প্রয়োজন ৪ লাখ টন। ফলে টিএসপির মজুদও নির্ধারিত নিরাপদ সীমার তুলনায় কম রয়েছে। তবে ডিএপি ও এমওপির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ডিএপির নিরাপদ মজুদসীমা ৫ লাখ টন হলেও বর্তমানে মাত্র ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ টন মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যে বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে মরক্কো থেকে ডিএপি আমদানি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ মাসে নির্ধারিত দুটি লটের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো দুটি করে লট ডিএপি আমদানি করতে হবে। তা নাহলে আগামী শীতকালীন ও বোরো মৌসুমে ওই সারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হবে।
এদিকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৪৬ হাজার টন এমওপির মজুদ ছিল, যদিও ৩ লাখ টনকে ওই সারের নিরাপদ মজুদ হিসেবে ধরা হয়। ফলে দেশে নিরাপদ সীমার তুলনায় এমওপির মজুদ প্রায় অর্ধেকেরও কম। বিএডিসি দেশে ডিএপি, এমওপি এবং টিএসপি সার আমদানি ও বিতরণ করে। সংস্থাটির কাছে গত ২০ আগস্ট পর্যন্ত মজুদ ছিলো টিএসপি ৩ লাখ ৩৭ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২৭ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৪৮ হাজার টন। পাশাপাশি চলমান রয়েছে সংস্থাটির আমদানি কার্যক্রমও। বর্তমানে দুটি জাহাজ টিএসপি নিয়ে দেশের পথে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ওই জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা। ওই দুই জাহাজে মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি রয়েছে। অক্টোবরেও আরো ৬০ হাজার টন টিএসপি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাছাড়া আরো তিনটি লটে ৯০ হাজার টন টিএসপি আমদানির কার্যক্রম চলমান। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টনের একটি এমওপির লট দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ১৫ ও ২০ সেপ্টেম্বর আরো একটি লটে এমওপি দেশে পৌঁছানোর কথা। একটি লট জাহাজে লোডিং চলছে। পাশাপাশি আরেকটি লট আমদানি কার্যক্রম চলমান। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি এবং রাশিয়া ও কানাডা থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি ৪ মাসে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ তখন মাঠে শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ, ভুট্টার মতো নানা ফসল থাকে। তাছাড়া দেশের খাদ্যশস্যের সবচেয়ে বড় জোগান দেয়া বোরো ধানও আবাদও তখন হয়। সেজন্যই ওই মৌসুমকে পরিকল্পনায় নিয়ে সারের মজুদ ও দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হয়। তা নাহলে সঙ্কটের আশঙ্কা থাকে। তবে কৃষকের চাহিদামতো সার পৌঁছে দিতে সরকারকে সরবরাহশৃঙ্খল ঠিক রাখা জরুরি। তা নাহলে পিক মৌসুমে কৃষক চাহিদামতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত এবং দেশের খাদ্যশৃঙ্খলে বড় ধাক্কার আশঙ্কা থাকে।
এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান জানান, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি সার আছে। গতবার এ সময়ে যে পরিমাণ মজুদ ছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশি মজুদ রয়েছে সার। গত অর্থবছরে এ সময়ে নন-ইউরিয়া (টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি) সারের মোট মজুদ ছিল ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৩ টন, এবার মজুদের পরিমাণ ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭ টন। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় প্রায় এক লাখ টন বেশি সার রয়েছে। বর্তমানে সার নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলো একেক জায়গায় একেক রকম। তবে দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লাইসেন্স ছাড়া দেশে কোনো খাদ্য ব্যবসা করা যাবে না। মূলত অনিরাপদ ও ভেজাল খাবার নিয়ন্ত্রণে দেশে সব ধরনের খাদ্য ব্যবসায় লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ওই লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রবিধানমালা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোড়কজাত ও প্রক্রিয়াজাত বড় খাদ্য কারাখানা থেকে রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবাদাতাসহ রাস্তার পাশের পুরি-পিঠার দোকানেরও লাইসেন্স লাগবে। সেজন্য ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। তাছাড়া শিশুদের ফর্মুলা দুধ, ফর্টিফায়েড খাবার, অর্গানিক ও জিএমও পণ্যের মতো বিশেষায়িত খাদ্যের উৎপাদক ও কোল্ড স্টোরেজগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হবে লাইসেন্স। মূলত দশের সব ধরনের খাদ্য ব্যবসার ওপর নজরদারি বাড়াতেই খাদ্য ব্যবসায় সরকার নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে ৩ বছর। তারপর তা নবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিবন্ধনের ফি ১ হাজার থেকে শুরু এবং নবায়নের খরচ হবে ৫০০ টাকা। তবে খাবারের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে। ছোট দোকানের জন্য ওই ফি ১ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গফুটের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার টাকা। তাছাড়া খাদ্য মজুত করার ক্ষেত্রে ২০ হাজার বর্গফুটের চেয়ে বড় গুদামের লাইসেন্স নিতে ৪০ হাজার টাকা গুনতে হবে। নিয়মানুযায়ী খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন নেয়া ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানতে হবেঅন্তত ২০টি নির্দেশনা। তার মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্য স্থাপনা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে অবস্থিত হতে হবে, পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের পাশাপাশি থাকতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা, ব্যবহৃত পানি নিরাপদ হতে হবে।
সূত্র জানায়, বাজারে খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। ফলে সমন্বয়হীনতায় ব্যবসায়ীদের পোহাতে হচ্ছে নানা ধরনের ভোগান্তি। যদি বাজার তদারকি এক ছাতার নিচে আনা হয় এবং একটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে বাজার অভিযানের কার্যকারিতা বাড়বে। তাতে ব্যবসায়ীদের পক্ষেও সহজ হবে নিয়ম মেনে চলা। কিন্তু ওই উদ্যোগ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়ন সক্ষমতা আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির যে পরিমাণ দক্ষ জনবল প্রয়োজন তা নেই।
এদিকে এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া জানান, খাদ্যের নামে দেশজুড়ে প্রতিনিয়ত অনিরাপদ বস্তু বিপণন হওয়ায় জনস্বাস্থ্যে সরাসরি তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনিরাপদ ও ভেজাল খাবারের কারণে অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়ই তার প্রমাণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ