০৮:২৮ এম
দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার আয়ের মাধ্যমে সংসারের খরচ মেটাতে পারছে না। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং প্রকৃত মজুরি হ্রাস পাওয়ার কারণে পরিবারগুলোর ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হচ্ছে। অনেককে ঘাটতি পূরণের জন্য সঞ্চয় ভাঙতে এবং ঋণ নিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) একটি জরিপে প্রকাশিত হয়েছে যে, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ৪৭.৪২ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো এই সংকটে বেশি ভুগছে।
বিবিএসের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এ এই পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে, সংস্থাটির দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করেছে। ২০২২ সালের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম, শহর এবং সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে ধীরগতি, পাঁচ মাসে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। অপরদিকে, গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। এর ফলে প্রতি মাসে গড় আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৯৮ টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য অনেক পরিবার ঋণ বা সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
অঞ্চলভেদে ঋণ গ্রহণের প্রবণতায় পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রামের ৫১.৯১ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়েছে। শহরাঞ্চলে এই হার ৪০.১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২.১১ শতাংশ।
জরিপে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে এটি ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য এবং বাকি অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হচ্ছে। তবে গ্রামে খাদ্য ব্যয়ের চাপ বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ব্যয়ের ৫৬.৭ শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মহামারির পর দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রকৃত মজুরি হ্রাস পাওয়ার কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামে আয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিবারগুলোকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রবাস আয় থেকেও সীমিতসংখ্যক মানুষ বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ
বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ৭.৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম ছিল। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটেও এই চাপের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর ফলে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন