রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
কৃষকদের সরকারি দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধেরও দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, বিশেষ করে ময়মনসিংহের ভালুকায়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সহসাধারণ সম্পাদক নিখিল দাস, বাংলাদেশ কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সদস্য রাজু আহমেদ, কৃষক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা এবং ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কৃষকদের সার সংকট নিয়েও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ধানের গত মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে সারের সংকট নেই, কৃষকরা সরকারি দামে বাজারে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। অনেক কৃষক বেশি দাম দিয়েও সার কিনতে না পারায় তাদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কৃষকদের সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বর্তমান সরকারও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দিয়েছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব প্রকল্পের জন্য সাধারণ কৃষকের উর্বর ফসলি জমি দখলের চেষ্টা চলছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এলাকায় প্রায় ১৭০ একর জমি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জোর করে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তা আপত্তি জানালেও পরে চাপের মুখে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও নেতৃবৃন্দ কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য আরো বাড়বে। অথচ ক্ষেতমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ বর্তমান আয় দিয়ে তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে সব ক্ষেতমজুর পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং বর্গাচাষীদের জন্য কৃষি কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে জানানো হয়, কৃষিজমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বাতিল, কৃষকদের সরকারি দরে সার সরবরাহ এবং ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার সময় পুলিশ মো. নাসিমুল ইসলাম নামের একজন নিষিদ্ধ কার্যক্রমের আওতাধীন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই গ্রেপ্তারটি ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া নাসিমুল ইসলাম রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ভগবন্তপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পুত্র। তিনি গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের ইনচার্জ তুহিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নাসিমুল ইসলাম মেডিকেল ভিসার মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে উপস্থিত হন। এ সময় তার পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাইয়ের পর আইনি জটিলতার তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। পরে গোদাগাড়ী থানায় যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘গোদাগাড়ী থানায় মামলা থাকার কারণে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে নাসিমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টেম্বা বাভুমা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক অধিনায়ক হিসেবে শতক হাঁকানোর একটি অনন্য নজির গড়েছেন।
নিউজ আঠেরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচে এই রেকর্ডটি গড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ম্যাচে তিনি ১০৩ রানের একটি অনবদ্য এবং দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন।
বাভুমার বয়স সেঞ্চুরি করার সময় ছিল ৩৬ বছর ১৩৩ দিন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি দেশের সাবেক সফল অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের রেকর্ড ভেঙে দেন। ডু প্লেসিস এর আগে ৩৪ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে অধিনায়ক হিসেবে ওডিআইতে শতক হাঁকিয়ে এই রেকর্ডটি অর্জন করেছিলেন।
ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাভুমার ১০০ রানের গণ্ডি পেরোতে ১১২ বলের প্রয়োজন হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার এখন দুটি ওডিআই সেঞ্চুরি রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেবল ডু প্লেসিস (৩) তার চেয়ে বেশি ওডিআই সেঞ্চুরি করেছেন।
বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের খুররাম খানের দখলে রয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০শে নভেম্বর দুবাইতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৮ বলে অপরাজিত ১৩২ রান করার সময় খুররাম খানের বয়স ছিল ৪৩ বছর এবং ১৬২ দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী মারা যাওয়ার পর, বেঙ্গালুরুর একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপির বকেয়া বিলের অজুহাতে আট দিন ধরে তার মরদেহ আটকে রাখে এবং স্ত্রীর পাসপোর্ট রেখে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারী। শনিবার, বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাহায্য চাওয়ার পর তিনি স্বামীর মরদেহ ফেরত পান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ওই নারীর অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হাসপাতাল জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই রোগীকে উন্নত আইসিইউ সেবা ও অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।
বাংলাদেশের নওগাঁর বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী তানজিলা ইসলাম আশা ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে জানান, কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ও তার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বেঙ্গালুরু আসেন। সবুজ বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরদিন, তীব্র বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মানিপাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
আশা জানান, পরবর্তী দিনগুলোতে সবুজের বেশ কয়েকটি চিকিৎসা পদ্ধতি ও অস্ত্রোপচার করা হয়। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর তার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
"চিকিৎসাকালীন সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখনই টাকা চেয়েছে, আমি কয়েকটি কিস্তিতে মোট সাড়ে ৭ লাখ রুপি পরিশোধ করেছি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ কীভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাব তা নিয়ে যখন ভাবছিলাম, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি দাবি করে এবং জানায় যে এই বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত মরদেহ ছাড়া হবে না," জানান আশা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আগে কোনো আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব দেয়নি, এত বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণ ব্যাখ্যা করেনি এবং পূর্বে পরিশোধ করা সাড়ে ৭ লাখ রুপির কোনো রসিদও দেয়নি। "আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। তারা আট দিন ধরে মরদেহ আটকে রাখার পাশাপাশি আমার পাসপোর্ট রেখে দেওয়ার পর আমি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিই এবং সহায়তার জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করি। অবশেষে বকেয়া বিল সম্পূর্ণ মওকুফ করে শনিবার তারা মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে," বলেন তিনি।
সবুজের পশ্চিমবঙ্গের বন্ধু মোহাম্মদ মুক্তাদির হোসেন, যিনি এই পরিস্থিতির কথা শুনে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন, জানান যে স্থানীয় সামাজিক কর্মীদের সহায়তায় আশা শুক্রবার তার পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, "পূর্বে পরিশোধ করা সাগে ৭ লাখ রুপি ছাড়া তাকে আর বাড়তি কোনো অর্থ দিতে হয়নি।"
যোগাযোগ করা হলে মানিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা শনিবার মরদেহ হস্তান্তরের কথা নিশ্চিত করলেও আশার তোলা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে হাসপাতাল জানায়, সবুজ গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনস্বল্পতা (হাইপক্সিয়া) নিয়ে হাসপাতালে আসেন এবং তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার হৃদরোগের আক্রমণ (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হলে দু'বার তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেট) করা হয় এবং পরবর্তীতে একমো ও ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়।
বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রক্তনালীতে জমাট বাঁধা রক্ত ও বাধা শনাক্ত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা ‘পালমোনারি থ্রম্বোএন্ডারটেরেক্টোমি’ নামক একটি জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও সার্জিক্যাল টিমের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোগী ১৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদীর ঢেউয়ের ঝিলিক, সবুজ বৃক্ষরাজির ছায়া এবং পাখির কলকাকলিতে মুখর একটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বিরাজমান। শহরের কোলাহল পেরিয়ে বিষখালী নদীর তীরে প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক। এখানে নদীর নির্মল বাতাসে প্রাণ জুড়ানো সম্ভব, সবুজের ছায়ায় কাটানো যায় নির্ভার কিছু সময়। পরিবার-পরিজন অথবা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিষখালীর বুকে সবুজের এই আয়োজন প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার এক নীরব আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
বরগুনা শহরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক কেবল বিনোদনের একটি স্থান নয়, এটি প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্পের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সাংবাদিক ও আইনজীবী সোহেল হাফিজের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ২০২০ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় নদীর তীরে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা এই স্থানটি স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রকৃতিকে অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটনের বিকাশ ঘটানোর স্বপ্ন নিয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ বরগুনার পর্যটন সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
সুরঞ্জনার অন্যতম আকর্ষণ এর বিস্তৃত সবুজ বৃক্ষরাজি। এখানে প্রায় ৫০ প্রজাতির সহস্রাধিক দেশীয় ফলদ বৃক্ষ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে গোলগাছ, হোগলা, নলখাগড়া এবং কাশবন। গাছের পাতায় বাতাসের দোলা, নদীর ঢেউয়ের ছন্দ এবং পাখিদের অবাধ বিচরণ মিলিয়ে পুরো পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য প্রশান্তি। পাখির অভয়াশ্রম ও বৃক্ষ পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করছে। কংক্রিটের বিস্তার থেকে দূরে এমন সবুজ পরিসর মানুষের মনে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্যোক্তা সোহেল হাফিজের কাছে সুরঞ্জনা কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, “সুরঞ্জনা আমার কাছে শুধু একটি রিসোর্ট নয়। এটি প্রকৃতির কাছে মানুষের ফিরে আসার একটি ছোট্ট দরজা। আমি চাই, মানুষ এখানে এসে শুধু আনন্দ নিয়ে ফিরে যাবে না, প্রকৃতিকে ভালোবাসার একটি শিক্ষাও নিয়ে ফিরবে।”
দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং অবকাশযাপনের জন্য সুরঞ্জনায় ছয়টি কটেজ রয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ সুবিধাসম্পন্ন এসব কটেজে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়া এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে দিনের অবসর কাটানোর পাশাপাশি প্রকৃতির সান্নিধ্যে রাতযাপনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সুরঞ্জনার আরেকটি আকর্ষণ ‘গাঙচিল’ নামে একটি মিলনায়তন। এখানে সভা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, বিয়ে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এবং পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন করা যায়। প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশে এসব আয়োজনের সুযোগ থাকায় স্থানটি শুধু পর্যটকদের নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকারীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ছুটির দিন, ঈদ এবং পূজার সময় সুরঞ্জনায় দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ে। কেউ নদীর পাড়ে বসে সময় কাটান, কেউ সবুজ বৃক্ষরাজির ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়ান, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেন। শিশুদের কাছে প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ, কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে কিছুটা স্বস্তি এবং পরিবারগুলোর কাছে একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিবেশ- সব মিলিয়ে সুরঞ্জনা স্থানীয় অবসর বিনোদনের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে।
সোহেল হাফিজ মনে করেন, বরগুনার প্রকৃতি পর্যটনশিল্প বিকাশের জন্য এক সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ। তিনি বলেন, “আমাদের বরগুনার প্রকৃতি কারও চেয়ে কম নয়। আমাদের নদী আছে, সমুদ্র আছে, বন আছে, পাখি আছে, জীববৈচিত্র্য আছে। দরকার শুধু প্রকৃতিকে নষ্ট না করে তাকে ভালোবেসে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা। সুরঞ্জনা সেই বড় স্বপ্নেরই ছোট্ট একটি অংশ।”
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল ২৪ এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আবু জাফর মোঃ সালেহ'র মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বরগুনায় পর্যটনশিল্প বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিষখালী ও পায়রা নদী, বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবনঘেঁষা প্রকৃতি এ সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করেছে। সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্কের মতো ব্যক্তি উদ্যোগগুলো এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বরগুনাকে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে প্রকৃতির সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের দাবি রাখে। নদীর তীরের পরিবেশ, বৃক্ষরাজি, পাখির আবাসস্থল এবং জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ যাতায়াত এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সুরঞ্জনার আকর্ষণ আরও বাড়বে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা যুক্ত হলে বরগুনার পর্যটনশিল্পে নতুন কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
বিষখালীর বুকে সবুজের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বিনোদনকেন্দ্রের গল্প নয়, এটি প্রকৃতিকে ভালোবেসে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খোলার এক প্রয়াস। নদী, সবুজ এবং জীববৈচিত্র্যের মেলবন্ধনে সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক হয়ে উঠতে পারে বরগুনার পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি পরিচিত নাম। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ধারণ করে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানুষের অবসরকে আনন্দময় করে তোলার মধ্য দিয়েই এই সবুজ স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়তে পারে আরও বহুদূর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ