বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০০ পি.এম
জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
জানা যায়, টেংরাখালী সীমানা খালের ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি মাস খানেক আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। ফলে, প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু এলাকাবাসীদের কোনো কাজে আসছে না।
সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চীসহ ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে সেতুর উপর দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রি ও অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা খালের ওপর প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি, ফলে সেতুটি কার্যত পানিবেষ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, বই-খাতা হাতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে, সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এখন প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে এবং কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। কবে সংযোগ সড়ক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না। আবার সেতুর জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘর খালে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঠিকাদার ও পিআইও অফিসকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পিআইওকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশের মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এতে রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়েই কাজ করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি রাস্তার দুই পাশে পাইলিং দিয়ে টেকসই সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলায় বন্যা প্রস্তুতির মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংগঠিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য মৌসুমি বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর ১০ দিন আগে থেকেই প্রাণ, জীবিকা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে বন্যাকালে নৌদুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
আজ দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরে বালিয়াপাড়া এলাকায় এই মহড়া হয়, যা স্টার্ট নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস)’র বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. সেলিম মিঞা। মো. সেলিম মিঞা বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবীলার জন্য আমাদের শুধুমাত্র ত্রাণের উপর নির্ভর থাকা চলবে না, বরং আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগকে সজাগ এবং কার্যকরী করতে হবে। দুর্যোগের সময়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতি এক আতঙ্ক নয়, বরং এটি হচ্ছে জনগণের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরো যোগ করলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ যত বেশি হবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই কম হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ আব্দুস। বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, টাঙ্গাইল সদরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হক, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস)’র সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জোরপূর্বক নিয়োজিত ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর বাকিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি (যাদের লাইসেন্স নম্বর যথাক্রমে আরএল-১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে বৈধ ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স (জনশক্তি ছাড়পত্র) নিয়ে ওই ৩০ কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের কাজের পরিবর্তে জোরপূর্বক যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে- এ ধরনের খবর পাওয়ার পরপরই সরকার ব্যবস্থা নেয়। গত ১৫ জুন মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি পাঠিয়ে বিপদগ্রস্ত এসব বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ৩০ জনের মধ্যে চারজন এরই মধ্যে মারা গেছেন। বাকিদের উদ্ধারকল্পে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে উচ্চ বেতনের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান এই তরুণরা। পরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পরাজয়ের পর রাজনৈতিক উথালপাথাল শুরু হয়েছে। এই পরাজয়ের পর টিএমসিতে বিদ্রোহের খবর, পদত্যাগ এবং দলত্যাগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, টলিউডে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, শাসকদল বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন ‘পদ্মশ্রী’ পদকপ্রাপ্ত টলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্মাতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।
দু’দিন আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসে প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়েছিলেন, যদিও সেখানে তিনি বেশিক্ষণ অবস্থান করেননি।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে ‘নবান্নে’ গেছেন এই অভিনেতা, যার ফলে তার উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি তিনি বিজেপির গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন? রাজনৈতিক মহলে এই গুঞ্জন বেশ জোরদার হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন সমস্যায় গুরুদায়িত্ব পালন করলেও প্রসেনজিৎকে সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে দেখা যায়নি। তবে হঠাৎ করে বিজেপির শীর্ষ মহলের সঙ্গে বৈঠক হওয়ায় সবকিছু পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এখন টিএমসির লোকসভার সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের ফলে কিছু আসন খালি হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই সেখানে ভোট হবে এবং সেই আসনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ‘পদ্মশ্রী’ পদক পাওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে এই টলি তারকার যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে আগমনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।
এর আগে, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারী ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, যে দিনের শপথ গ্রহণের মঞ্চে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশ সফর করতে গিয়ে একের পর এক নতুন পদক ও সম্মাননা আহরণ করে ঝুলি ভারী করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৭ থেকে ২৯ জুন সেশেলস সফরকালে তিনি লাভ করেছেন গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন নামক একটি ট্রফি ও সম্মাননা। তবে এই নতুন পদকপ্রাপ্তি বিশ্বমঞ্চে প্রশংসার চেয়ে অধিক কৌতুক এবং সমালোচনা কুড়িয়েছে। কারণ, মোদির সফরের মাত্র তিন দিন আগে দ্রুতগতিতে এই পুরস্কার তৈরি করা হয় এবং এর সার্টিফিকেটটি বানান ভুলে ভরা ছিল।
পুরস্কার প্রদানকারী দেশটি নিজেদের নামই ভুল করে লিখেছে, রিপাবলিক অব সেশেলসের বদলে লেখা হয়েছে রিপাবলিক অব সেশেলিস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে মোদির এই পদক কূটনীতির পেছনের আসল রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে।
সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনি মোদিকে পরিবেশবান্ধব অবদানের জন্য পদকটি প্রদান করলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবিগুলি প্রকাশ পেতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শুধুমাত্র বানান ভুলই নয়, বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা গেছে সার্টিফিকেটটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি।
এরেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে মন্তব্য করেছেন, বিশ্ব এখন মোদিকে চিনে গেছে, যেকোনো একটি পুরস্কারের লোভ দেখে দৌড়ে চলে আসবেন, এতটাই তাড়াহুড়ো ছিল যে সেশেলস নিজেদের দেশের নামটাই ভুল লিখে ফেলেছে। তীব্র বিতর্কের মুখে সেশেলস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে বিষয়টি ছড়িয়েছে সেটি একটি ওয়ার্কিং ড্রাফট বা খসড়া ছিল, আসল সনদটি নির্ভুল।
বিশেষ করে মোদির জন্য তৈরি হয় বিশেষ পদক। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিতাশা কাউল আলজাজিরাকে বলেন, এই পুরস্কারগুলোর সঙ্গে ভারতের বৈদেশিক কূটনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, এগুলো একমাত্র মোদির ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরির প্রচারণা। তার ১২ বছরের শাসনামলে মোদি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, যার অনেকগুলোই বিশেষভাবে তার সফরের ঠিক আগে তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মোদির ইসরায়েল সফরের ঠিক আগে সেখানে পার্লামেন্টের স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন পুরস্কার তৈরি করা হয়, যা মোদি ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো বিশ্বনেতা পাননি। গত জুন মাসে স্লোভাকিয়া সফরকালে মোদিকে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস ফার্স্ট ক্লাস দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, ইন্দোনেশিয়া সফরেও তিনি বিনতাং আদিপূর্ণা পদক পেয়েছেন।
ফিলিপ কোটলার পুরস্কারের অদ্ভুত ইতিহাসও রয়েছে। ২০১৯ সালে মোদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিটের প্রথম ফিলিপ কোটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড পান, যা প্রতি বছর বিশ্বনেতাদের দেওয়ার কথা থাকলেও মোদির পর গত সাত বছরে আর কোনো বিশ্বনেতাকে এই পদক দেওয়া হয়নি।
ভিন্নমত ব্যক্ত করতে গিয়ে মোদি ও তার দল বিজেপি সবসময় দাবি করে, এই আন্তর্জাতিক পদকগুলো ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মান। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এতে কোনো কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সুবিধার চিহ্ন পান না। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান হল বলেন, নয়াদিল্লি যুক্তি দিতে পারে যে এগুলো বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রমাণ, কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক বা কৌশলগত স্বার্থে এর কোনো বাস্তবিক অবদান নেই। বরং এটি প্রমাণ করে যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসল কাজের চেয়ে নিজেদের প্রচারণায় বেশি মনোযোগী।
মোদির জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ভক্ত ও ভোটারদের কাছে নিজেকে একজন বিশ্বনেতা হিসেবে জাহির করা। তবে সেশেলসের মতো দেশগুলোতে দ্রুত বানান ভুল এবং এআই দ্বারা তৈরি সার্টিফিকেট গ্রহণের এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে সম্মানিত করার চেয়ে বেশি হাস্যরসের খোরাক যোগাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ