বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৯ এম
সিলেট জেলা বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ঐক্য পরিষদ, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করার দাবিতে, বর্তমান অধিক্ষেত্র বহাল রেখে শূন্য পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগসহ আট দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়। সংগঠনের সভাপতি কাজী মাওলানা জয়নুল ইসলাম মুনিম এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুল জলিল খান স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কাজী মাওঃ বদরুল ইসলাম, কাজী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সবুর, কাজী আব্দুর রাজ্জাক, কাজী সৈয়দ মুজাম্মিল উদ্দিন, কাজী মো. আব্দুল হাছিব, কাজী জামাল উদ্দিন, কাজী আব্দুস শাহীদ, কাজী জসীম উদ্দীন, কাজী আব্দুল ওয়াদুদ, কাজী জাকির হোসেন, কাজী আব্দশ শাকুর, কাজী আমীরুল ইসলাম, কাজী সিরাজুল ইসলাম, কাজী কয়েছ উদ্দিন খান, কাজী আবদুল বারী সিদ্দিকী, কাজী শামসুজ্জামান, কাজী আব্দুল ফাত্তাহ, কাজী হেলাল উদ্দিন, কাজী নুরুদ্দীন, কাজী মুহিবুর রহমান, কাজী আলীম উদ্দিন প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজারের বেশি মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের আয় সীমিত হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান অধিক্ষেত্র বহাল রাখার পাশাপাশি নিকাহ নিবন্ধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী বর্তমানে কর্মরত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র অবসরকাল পর্যন্ত বহাল রাখা। অবসরের পর নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কোনো অবসরকালীন ভাতা না থাকায় তাঁদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করা। কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার অবসরে গেলে তাঁর পুত্রকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া।
এছাড়া, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংশোধন করে পুরুষের বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং নারীর ১৬ বছর নির্ধারণ, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ‘অহেতুক হয়রানিমূলক’ কার্যক্রম বন্ধ, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার প্রথা বন্ধ এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ ও তালাকের হলফনামা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধন, তালাক নিবন্ধন, নকল ও কমিশন ফি বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ১৪ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা এবং পাঁচ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে। তালাক নিবন্ধন ফি ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, বিবাহের নকল ফি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং কমিশন ফি ৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পেশাগত সমস্যা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। স্মারকলিপিতে এসব দাবি মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে অবস্থিত সবুজবাগ আলিম মাদ্রাসার দুই শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস এবং শাহাব উদ্দিনের বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাঁরা ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
আব্দুল কুদ্দুস ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক শাহাব উদ্দিন ১৯৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজবাগ আলিম মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুস সোবাহান।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামসুর রহমান, মাওলানা আবুল বাসার মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, জামায়াতের থানা আমির মন্তাজ আলী, রাজিবপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমান, শওকত আলী, রমজান আলীসহ অন্যান্য বক্তাগণ অবসরপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন। তাঁরা অবসরোত্তর জীবনের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুখ-শান্তি কামনা করেন। পরে বিদায়ী দুই শিক্ষককে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরের নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় ফেসবুকে তুলে ধরে আলোচনায় আসছেন শহরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেইন। তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা সরেজমিনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন। তাঁর এসব পোস্ট অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
শহরের সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন, বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি, দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা নাগরিক সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন মোশাররফ। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ক্ষতিকর ও অবৈধ ট্রাক্টর-ট্রলির বিষয়ে সতর্ক করে এর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি মাদক, যুবসমাজ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক বিষয় নিয়েও তাঁর লেখালেখি রয়েছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি আলোচনা-সমালোচনা করেন। দলের ভালো কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভুল-ত্রুটি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মোশাররফের পোস্টে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে জনস্বার্থ ও স্থানীয় সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায় বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন। সৈয়দপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি নিয়মিত মতামত দেন। পুলিশ প্রশাসনের ভালো উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি কোথাও কোনো সমস্যা বা জনভোগান্তির অভিযোগ থাকলে সেটিও তুলে ধরেন।
সৈয়দপুরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর ক্যাম্পগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তাঁর লেখায় উঠে আসে। মোশাররফের লেখালেখির আরেকটি দিক হলো তিনি নিজে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সমস্যাগুলো দেখিয়ে ছবি বা ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন স্থানীয় সমস্যা দ্রুত মানুষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে নাগরিক সমস্যাগুলো আনতে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মোশাররফের ফেসবুকভিত্তিক এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৈয়দপুরের নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত আলোচনায় আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হিসেবেও তাঁর এ ধরনের লেখালেখি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আওতাধীন আনসার-ভিডিপি ক্লাব সমিতির বেদখল হয়ে থাকা ১২ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবার নাজিমখান ইউনিয়নের মহাসড়কসংলগ্ন ৯ শতাংশ জমি এবং রাজারহাট ইউনিয়নের চান্দামারী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা ৩ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়।
এ কার্যক্রমটি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের নির্দেশনা এবং জেলা কমান্ড্যান্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। রাজারহাট উপজেলার আনসার-ভিডিপির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রশিক্ষক মো. উজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে প্রথমে জমিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরে সঠিক পরিমাপের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
উদ্ধারকৃত জমিতে আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ‘সঞ্জীবন’ ব্যানার স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে জমিগুলো আনসার-ভিডিপি ক্লাব সমিতির সাংগঠনিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে।
এ কার্যক্রমে উপজেলা কোম্পানি কমান্ডার মো. সবুজ সরকার, নাজিমখান ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার মো. রাহেনুল ইসলাম ও শয়ন কুমার, দলনেত্রী ফিরোজা বেগম এবং রাজারহাট ইউনিয়নের কমান্ডার মো. হারুন ও দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় প্রায় ২৫ জন ভিডিপি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা জমি পরিষ্কার ও অন্যান্য কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশিক্ষক মো. উজ্জল হোসেন জানান, ক্লাব সমিতির নিজস্ব জমি দীর্ঘদিন পর দখলমুক্ত হওয়ায় সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জমিগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পথও তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরলে উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন কর্তৃক ২০২৫ সালের বৃত্তি প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম।
বিরল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুর্শিদা খাতুন, আইসিটি অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী শিক্ষা অফিসার খাইরুন নাহার এবং বিরল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা।
সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন বিরল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ