সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪১ পি.এম
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক আদালতে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য মুখোমুখি হচ্ছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের এই ঘটনা সর্বশেষ উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরছে।
ব্যাংকক উপসাগরে যৌথভাবে সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে একটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর নমপেন জাতিসংঘ-সমর্থিত সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করতে স্থায়ী সালিশি আদালতের (পিসিএ) দ্বারস্থ হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিশাল ও সম্পদসমৃদ্ধ একটি এলাকার কথা, যার ওপর কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই দাবি করে আসছে।
ব্যাংকক গত মে মাসে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সময় উল্লেখ করে যে, ‘এমওইউ ৪৪’ নামে পরিচিত কাঠামোগত চুক্তিটি বাস্তবায়নে ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি’।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চলমান সীমান্ত সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই বলে অস্বীকার করেছেন। গত বছর দুই দফা সংঘর্ষে ওই বিরোধ নতুন করে জ্বলে ওঠে, যার ফলে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরবর্তীতে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
কম্বোডিয়া গত সপ্তাহে জানায়, ‘থাইল্যান্ড একতরফাভাবে সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বাতিল করার পর’ তারা সমঝোতা প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় দুই দেশ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের পরস্পর-অতিক্রমকারী সমুদ্রসীমার দাবি নিয়ে আলোচনা করে আসছিল।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জুনে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষার’ জন্যও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে বিশ্বের প্রাচীনতম সালিশি আদালতের কার্যালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক আইনের পাঁচ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত সমঝোতা প্যানেলের সামনে বক্তব্য দেবেন।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন প্রথম বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, এরপর বক্তব্য দেবেন তার থাই প্রতিপক্ষ সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও।
১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পিসিএ বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তঃসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা, যা চুক্তি, বিশেষ সমঝোতা এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (ইউএনক্লস)-এর মতো বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে দেশ ও বেসরকারি পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
সিঙ্গাপুরে পিসিএর কার্যালয়টি হেগভিত্তিক আদালতের এশিয়ায় প্রথম কার্যালয়। কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।
-‘দীর্ঘস্থায়ী সমাধান’-
কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দেশ দুটির সমুদ্রসীমা নিয়ে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে কম্বোডিয়ার উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এই বৈঠক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
নমপেন বলেছে, তারা আশা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড তাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে মতপার্থক্যের ‘ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে’ পৌঁছাতে পারবে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য তেল ও গ্যাসের মজুদ অনুসন্ধানের পথও উন্মুক্ত হবে।
থাইল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের দাবির আওতাধীন ওই এলাকায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে ভবিষ্যৎ আয় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘সমঝোতা কমিশনের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত’ এবং জাতীয় স্বার্থ ‘সুরক্ষায়’ তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে একজন বিশ্লেষক বলেছেন, থাইল্যান্ডের চুক্তি থেকে সরে যাওয়া এবং কম্বোডিয়ার সমঝোতা প্রক্রিয়ার মামলা—দুটিই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাম্প্রতিক সংঘাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
থাইল্যান্ডের মাহিদোল ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম জোন্স চলতি বিষয়ভিত্তিক সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ লিখেছেন, ‘এটি শক্ত অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদের এই বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার উত্তরাধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।’ ২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকটি তার সরকারের সময়ই প্রথম প্রণয়ন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার মামলা হুন মানেতের একটি ‘চতুর রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ ছিল বলে জোন্স লিখেছেন।
জোন্স বলেন, ‘স্থল সীমান্তে সামরিক পরাজয়ের পর এবং থাইল্যান্ডের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থেকে’ হুন মানেত এমন একটি আইনি পথ বেছে নিয়েছেন, যা ‘কম খরচে বড় সম্ভাব্য সুফল’ পাওয়ার সুযোগ দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মোট ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, রোববার এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মতিঝিল থানায় ৪ জন, পল্টন থানায় ৮ জন, সবুজবাগ থানায় ৭ জন, খিলগাঁও থানায় ২০ জন, রামপুরা থানায় ৩ জন, শাহজাহানপুর থানায় ১১ জন এবং মুগদা থানায় ৫ জন রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন।
তিনি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছে, তারা নিজেদের একটা সমস্যার মধ্যে ফেলছে। আক্রমণকারীরা মনে করছে তারা পার পেয়ে যাবে, কিন্তু আজকে তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন নয় যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, পানি মেরেছে। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, তারা তাদের স্থানটাকে আসলে অনিরাপদ করছে।"
ভেনিসে হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাঁধন বলেন, "প্রবাসী ভাইয়েরা আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছে এবং আমাকে খুবই জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে। এটার কারণে আমাদের দেশের নাম আসলে বিদেশের মাটিতে কিন্তু ক্ষুণ্নই হলো। বিদেশিরা ভাববে, আমরা হয়তো জাতিগতভাবে সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানেই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সেটা তো আসলে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, "আমি একটা কথা বলতে চাই, যাঁরা এই দলের সাপোর্টার, তাদের জন্য আমার একটাই কথা, আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্তু আপনারা দলকানা হইয়েন না। আজকে আপনার বিচার হলে আপনার পরিবার সাফার করবে। বড় বড় নেতা যাঁরা আছেন, আরামে দেশে–বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা বিদেশের মাটিতে বসে অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে আপনাদের উসকে দিচ্ছেন, তাঁদের জীবনটা কিন্তু আপনাদের মতো নয়। আপনারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশ থেকে টাকাগুলো বাংলাদেশে পাঠান। আপনারা প্লিজ এটা কইরেন না। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আপনারা যেটা করেছেন, সেটা খুবই অন্যায় হয়েছে।"
আরেক প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, "নেতাদের প্রতি একটাই অনুরোধ করব, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে হয়তো আপনাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা তো ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন। আপনারা কী ধরনের রাজনীতি করবেন, সেটার কিন্তু একটা রূপরেখা আপনারা তৈরি করছেন। আপনারা এমন রূপরেখা তৈরি কইরেন না, যেটার জন্য ভবিষ্যতে আপনাদের লজ্জিত হতে হবে।"
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে বাঁধন নিজের টিম নিয়েও অভিযোগ করেন। তিনি জানান, "সবাই তাতে সহযোগিতা করলেও তার টিম তাকে ‘ডিজওন’ করেছে। টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দিয়েছে।"
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী কিশোরী নেহা ব্লান্ট প্রযুক্তি ও তরুণ ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে পানি অপচয় রোধে একটি নজির স্থাপন করেছে। তার উদ্ভাবিত ‘ওয়াটার সেভার’ নামের একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন লাখো পরিবারকে পানির অপচয় কমানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করছে এবং নিয়মিত সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
নিজের তৈরি অ্যাপ এবং ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণার মাধ্যমে নেহা ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পানি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তার এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ প্রায় ১ লাখ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, যার ফলে আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় হয়েছে, বলে জানিয়েছে পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যাকশন ফর নেচার।
পরিবেশ সুরক্ষায় অসাধারণ এই অবদানের জন্য নেহা ২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক ইয়াং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে’ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটি বেশ সাধারণ। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজের সতর্কবার্তায় নেহা জানতে পারে যে, একটি মাত্র লিক হওয়া কল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার গ্যালন পানি অপচয় হতে পারে। এই তথ্যই তাকে প্রযুক্তির সাহায্যে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখার অ্যাপ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে। টানা সাত মাস প্রোগ্রামিং করে মাইএসকিউএল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সে এই ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপটি তৈরি করে।
ছোটবেলা থেকেই অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখা নেহা মাত্র তিন বছর বয়স থেকে কোডিং শিখছে। ইতিমধ্যে ১৩ বছর বয়সেই সে ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় কাউন্টির সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে এপি ক্যালকুলাস কোর্সে অংশগ্রহণ করে। অ্যাপ উদ্ভাবনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের বিনামূল্যে ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোডিং শিখিয়েছে এই কিশোরী।
বর্তমানে নেহা স্থানীয় পৌরসভার সঙ্গে মিলিত হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্ট সংবলিত ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ সংস্করণের কাজ করছে। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে এই উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিমালয়ের হিমবাহ এখন এক দশক আগের তুলনায় আরো দ্রুত গলছে। এর ফলে হিমালয় এবং এর আশপাশের দেশগুলোর পানির নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। চলতি মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল ‘সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ’-এর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, এ সময়ের মধ্যে নদীগুলোতে বরফ গলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এরপর, হিমবাহে বরফের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে নদীতে পানির প্রবাহও কমতে শুরু করতে পারে। এর ফলে, হিমালয়ের ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের পানি সরবরাহ, কৃষি এবং জীবিকা হুমকিতে পড়তে পারে। গবেষণাটি এমন একটি সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন আগস্টের শেষ দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। হিমবাহ ধসের পর নিচের উপত্যকাগুলোতে একের পর এক ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নেপাল এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলে ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমবাহ দ্রুত পিছু হটার ফলে পাহাড়ি এলাকায় নতুন নতুন হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হচ্ছে। এসব হ্রদের পানি আটকে রাখার দেয়াল মূলত আলগা পাথর, মাটি এবং বরফ দিয়ে তৈরি। ফলে, এসব হ্রদের মধ্যে কোনোটি ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এমন অনেক হিমবাহ-হ্রদ এমন উপত্যকার ওপরে রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ বসবাস করেন। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, হিমবাহের বরফ কমার হার সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বেড়েছে। অর্থাৎ, শুধু হিমবাহ গলছে তা নয়, আগের তুলনায় আরো দ্রুত গলছে।
গবেষণাটি করেছে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিক। তাদের সঙ্গে ছিল ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ইনিশিয়েটিভ, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট এবং ভারতের জি বি পন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান এনভায়রনমেন্ট। গবেষণা অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহ রয়েছে। তবে, এত বিপুলসংখ্যক হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টির অবস্থা বর্তমানে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, পর্যবেক্ষণের এই সীমাবদ্ধতা ঝুঁকি বোঝা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভারতেও হিমবাহ-হ্রদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটিতে প্রায় ২০০টি হিমবাহ-হ্রদকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি হ্রদকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব হ্রদের নিচের দিকে বসবাস করেন লাখ লাখ মানুষ। কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। এতে মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিমবাহ গলার কারণে প্রথম দিকে নদীতে পানির পরিমাণ বাড়তে পারে। কিন্তু, হিমবাহের বরফ ক্রমাগত কমতে থাকলে একসময় পানির প্রবাহও কমে যাবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই ‘সর্বোচ্চ পানি প্রবাহের’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এই পর্যায় পার হওয়ার পর হিমবাহ থেকে নদীতে পানির সরবরাহ কমতে শুরু করবে। ফলে, যেসব নদী এবং পানির উৎসের ওপর স্থানীয় মানুষ ও কৃষি নির্ভরশীল, সেগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিমালয় শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভারতের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের ২০ শতাংশের বেশি কোনো না কোনোভাবে হিমালয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির কয়েক কোটি মানুষের জীবন এবং জীবিকাও এই অঞ্চলের পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৮ শতাংশ হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত।
তবে, এই অঞ্চল একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারতে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রায় ৩৫ শতাংশই হিমালয় অঞ্চলে ঘটে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার ফল বলছে, হিমালয়ের হিমবাহ গলার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একদিকে আকস্মিক বন্যা এবং হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে, হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এখন হিমবাহ এবং হিমবাহ-হ্রদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ, হিমালয়ের পানি শুধু পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ