০৩:৫১ পি.এম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করা নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ হতে পারে, এমন তথ্য জানা গেছে। এর আগে জুলাইয়ে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি আলোচনায় ছিল, তবে তা শেষ পর্যন্ত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে নতুন পে স্কেল প্রত্যাশী কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এখন আর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতির কাজও জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলোর দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এসব জটিলতার সমাধান শেষে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর পে স্কেলের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর আগে গেজেট প্রকাশের আলোচনা আগস্টের মধ্যে হওয়া উচিৎ ছিল, কিন্তু বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের মধ্যেই কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্তে কাজ করছে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনও পুরনো বেতন কাঠামোর অধীনে বেতন পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গেজেট প্রকাশের পর ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ থাকার আশা রয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতন কার্যকর হতে পারে। এরপর সফলভাবে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নে প্রয়াস চালানো হবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের আগে কিছু ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার পুনর্বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
প্রচারিত খসড়া প্রস্তাবের অনুযায়ী, গ্রেড-১ এর মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড-২ এ ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-৩ এ ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৪ এ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামোর প্রস্তাব রয়েছে।
গ্রেড-৫ এ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৬ এ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৭ এ ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
গ্রেড-৮ এর জন্য প্রস্তাবিত বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রেড-৯ এ ৩৯ হাজার ১০০ থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১০ এ ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডের জন্যও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-১১ এ ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-১২ এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং গ্রেড-১৩ এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার পর্যন্ত বেতনের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
এছাড়া গ্রেড-১৪ এ ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৫ এ ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১৬ এ ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
গ্রেড-১৭ এ ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৮ এ ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৯ এ ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০ এ ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটির আরো দুই থেকে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে। তারপরেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার
সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য সামনে রেখে কার্যক্রম এগোলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে পর্যালোচনা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন