বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২২ পি.এম
ক্যাশলেস বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলা কিউআর’ ভিত্তিক লেনদেনের সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থায় কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হবে এবং এর জন্য কোনো ফি বা চার্জ দিতে হবে না।
আজ বৃহস্পতিবার, রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটার উদ্বোধন এবং কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন পরিদর্শনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের উদ্যোগের আওতায় কিউআর কোডের মাধ্যমে যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন হবে এবং এতে কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ বা ফি প্রযোজ্য হবে না।
তিনি আরও বলেন, ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ফুটপাতের বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীরা যেকোনো ব্যাংক কিংবা সেবা প্রদানকারীর হিসাবে সহজেই কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। এটি নগদ টাকা বহনের প্রয়োজনীয়তা কমাবে এবং লেনদেনকে আরও সহজ ও দ্রুততর করবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ছোটখাটো কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। বিশ্বের অনেক উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেন ইতোমধ্যে সহজ ও নিরাপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও আন্তর্জাতিক এই চর্চাকে দেশে সর্বজনীন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি দেশের সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই ক্যাশলেস এবং নিরাপদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে একটি দাবি জানিয়ে আসছেন—অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ও স্থায়ী পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি এবং বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় পাম্পিং স্টেশন, স্লুইসগেট, ড্রেনেজ চ্যানেল, খাল এবং নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহের ব্যবস্থা। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা মাথায় রেখে স্থানীয় কৃষকরা এমন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
হাওরপারের কৃষকদের মতে, ২৮ এপ্রিলের অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পানির কারণে এ বছর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকদের অনেকের স্বপ্নের ফসল নষ্ট হয়েছে। এক মৌসুমের ফসল নষ্ট হলে কৃষকের পরিবার, ঋণ পরিশোধ এবং পরবর্তী কৃষিকাজ—সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অতিবৃষ্টি হলে যাতে কৃষকদের বারবার এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়, সেজন্য আগাম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
কৃষকদের দাবি, শুধুমাত্র ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ বা মেরামতের ওপর নির্ভর না করে হাওরের পানি প্রবাহ এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরার কারণে হেনস্তার প্রতিবাদে কয়েকজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাতটার দিকে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে উপস্থিত হন তিন তরুণ। তাদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও দৌড়বিদ সাগর মজুমদার, বেসরকারি চাকরিজীবী রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান। পরে সাগর ও মাহফুজুর হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন। একই সময়ে স্টেশনের অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
সাগর মজুমদার জানান, তারা দৌড়বিদ। দৌড়ানোর সময় হাফপ্যান্ট পরা অধিক আরামদায়ক হওয়ায় তারা এটি পরিধান করেন। সম্প্রতি, দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। তারা চান ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়, সেই কারণে প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, একজন দৌড়বিদ হিসেবে তিনিও মেট্রোরেল বা অন্য কোনো জায়গায় একই ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের বার্তা হলো, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। হাফপ্যান্ট পরিধান করা কোনো সমস্যা নয়; বরং বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান মন্তব্য করেন, মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরে চলাচলের অধিকার থাকা উচিত। এটি একটি স্বাভাবিক পোশাক। তিনি সাধারণত মেট্রোরেলে ওঠেন না এবং হাফপ্যান্টও পরেন না। তবে অধিকার নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে প্রায় পাঁচ বছর পর তিনি হাফপ্যান্ট পরে সেখানে এসেছেন।
সকাল সাতটার পর সাগর ও মাহফুজুর ফার্মগেট স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে ওঠেন। তারা বিজয় সরণি স্টেশনের টিকিট কাটেন। পরে তারা ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি গিয়ে নেমে যান। রকিবুল তাদের সঙ্গে মেট্রোরেলে ওঠেননি।
অন্যদিকে, ফার্মগেট স্টেশনের আরেকটি প্রবেশপথ দিয়ে হাফপ্যান্ট পরে ওঠা দুই তরুণ মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তার পোশাককে ‘অশালীন’ বলে টিকিট পাঞ্চ করার মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন।
তবে মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট পোশাকবিধি নেই বলে জানানো হয়েছে। সাজ্জাদকে হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ফার্মগেট স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির আহ্বান জানিয়ে খোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল, এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। বরং হয়রানির প্রতিবাদ, স্পষ্ট নিয়মের দাবি এবং যাত্রীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের পক্ষে শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ। আয়োজকদের বক্তব্য, কোনো পোশাক নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া কক্সবাজার ও পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন, এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত এই ফ্লাইট কক্সবাজারকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চলতি মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যে এই অগ্রগতি ঘটেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সকে আকৃষ্ট করার জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থলবেষ্টিত নগরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "আমরা কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুরও পরিকল্পনা করছি।" তিনি জানান, চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। এর মূল লক্ষ্য চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করা।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ সরকার খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত এসব রুটকে দেখা হচ্ছে।
তবে এয়ার এশিয়া কবে থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনই জানানো হয়নি।
এয়ার এশিয়ার এই আগ্রহকে কক্সবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে সরকার বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য সরকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ এই উদ্যোগে সেই প্রচেষ্টায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এয়ার এশিয়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্ভাব্য বিদেশি অপারেটর হিসেবে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি শেষে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বাসসকে জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনাল দিয়ে হবে। তবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন বর্তমান টার্মিনাল দিয়েই হবে। অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে বিমানে উঠবেন।
প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি সরঞ্জাম, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রয়েছে।
টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বেবিচক রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করেছে। বর্ধিত রানওয়েটি বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। এটি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, মালয়েশিয়া, নেপাল, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে হোটেল ও রিসোর্টে বিনিয়োগ বাড়বে এবং পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বাসসকে বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম, যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি এবং পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে সামনে রেখে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে রূপ দেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘আমি এক বাচ্চাকে বিয়ে করেছি’ এই মজার মন্তব্যটি অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল করেছেন তার স্ত্রী নাজরিয়া নাজিমকে নিয়ে। নতুন সিনেমার প্রচারের সময় শিশু অভিনেত্রী সারা পালেকরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসন্ন তেলেগু সিনেমা ‘ডোন্ট ট্রাবল দ্য ট্রাবল’-এর প্রচারে চেন্নাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাহাদ শিশু অভিনেত্রী সারার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। এ সময় তার পারিবারিক জীবনের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
অনেকে তাকে প্রশ্ন করেন, শিশু শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সময় ধৈর্য ধরে তাদের সামলানোর বিষয়টি কেমন। এর জবাবে তিনি বলেন, বাড়িতে এমন একজনকে সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এরপর তিনি নাজরিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমি এক বাচ্চাকে বিয়ে করেছি।’
ফাহাদ সারার প্রশংসা করে জানান, শিশু অভিনেত্রীটি বরং তাকেই সামলিয়েছে। শুটিংয়ের সময় যদি কোনো সংলাপ ভুল বলতেন, সারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাকে সংশোধন করত। সারার এই আত্মবিশ্বাস ও সাবলীলতায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন এবং তাকে নিজের প্রিয় সহশিল্পী বলেও উল্লেখ করেন।
ফাহাদ ও নাজরিয়ার পরিচয় ২০১৩ সালে ঘটে। তারা অঞ্জলি মেননের ‘ব্যাঙ্গালোর ডেইজ’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করার সময় পরিচিত হন। সিনেমাটিতে তারা স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে ছিলেন। সিনেমার মুক্তির আগেই তাদের সম্পর্ক বিয়ের দিকে এগিয়ে যায়।
২০১৪ সালের ২১ আগস্ট কেরালার তিরুবনন্তপুরমে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তারা বিয়ে করেন। সে সময় ফাহাদের বয়স ছিল ৩২ বছর এবং নাজরিয়ার ১৯। তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য প্রায় ১২ বছর।
বিয়ের পরেও তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ট্রান্স’ সিনেমায় আবারও পর্দা ভাগ করেন তারা। তবে সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই দম্পতি খুব বেশি কথা বলেন না।
সম্প্রতি নাজরিয়ার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পোস্টে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এরপর কিছু মানুষ সেটিকে ফাহাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আলোচনা করতে শুরু করেন, কিন্তু নাজরিয়া বা ফাহাদ কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
এদিকে, ‘ডোন্ট ট্রাবল দ্য ট্রাবল’ সিনেমার প্রচারের সময় ফাহাদের এই মজার মন্তব্যটি সামনে এসেছে। সিনেমায় শিশু সহশিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তার এই মন্তব্য ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ