০১:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : এক সপ্তাহের কঠিন আলোচনা শেষে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ নির্ধারণে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন ফরাসি সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি বেনোয়া ফারাকো।
ফারাকো উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ ২০২৮ সালে আইপিসিসি’র পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে থাকলেও কিছু দেশ তা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি প্যারিস থেকে এই খবরটি জানায়।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের শাতো দ্য শঁতিলি জাদুঘরে ১০০ বছর পর প্রদর্শিত হবে বিরল গোলাপি হীরা
ফারাকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে একটি পোস্টে বলেন, ‘এক সপ্তাহের কঠিন আলোচনার পর পাঁচ মহাদেশের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি বিস্তৃত জোট বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত সময়সীমার পক্ষে ঐকমত্যে ছিল। প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর করতে চাওয়া কয়েকটি দেশের চাপ তারা মোকাবিলা করতে পেরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরণের অচলাবস্থা নতুন নয়। তবে এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
আইপিসি জলবায়ুবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রধান কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃত। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা সামনে রেখে অনেক দেশ ২০২৮ সালে সংস্থাটির পরবর্তী বড় প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে ছিল।
তবে সৌদি আরব, ভারত ও চীনসহ কিছু দেশ বলেছে, যদি আইপিসিসি’র সপ্তম মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৯ সালে প্রকাশিত হয়, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর ফলাফল বুঝে নেওয়ার জন্য আরও সময় পাবে।
আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের
সোমবার আদ্দিস আবাবায় আইপিসিসি’র বৈঠক শুরু হলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া দেশগুলোকে অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের সাংগঠনিক ও সুনামের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
গত সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীরা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে ‘যাদের স্বার্থ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’—তাদের সমালোচনা করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে আইপিসিসি’র দেওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ থেকে বিচ্ছিন্ন করলে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়বে।’
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের ৩৫ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ইউরোপের দেশ ও অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। বিশ্বের ৪৪টি দরিদ্র দেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানও এতে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও অনেক উদীয়মান অর্থনীতির দেশের মন্ত্রীরাও চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ক্লিনটন-ওবামার বিরুদ্ধে তদন্তের তথ্য আছে, বড় পদক্ষেপ নিতে পারি
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ুবিষয়ক দূত টিনা স্টেগে বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশ আইপিসিসি’র প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব ঘটিয়ে চলেছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। নিজ দেশে মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় আমাদের যে বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন, এসব প্রতিবেদনেই তা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ করতে এসেছিলাম। কিন্তু অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিকল্পনায় বিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা এবং পরবর্তী বৈশ্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় তথ্যপ্রমাণের প্রয়োজনীয়তা—প্রতিটি বিষয়ে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি আটকে দেওয়া হয়েছে। সময় নষ্ট করার এই লজ্জাজনক কৌশল এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন নষ্ট করার মতো সময় আর নেই।’
ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের শ্রীশান ভেঙ্কটেশ এ ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য পক্ষগুলোর হাতে যথেষ্ট সময় ছিল।’
আরও পড়ুন: রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকাল স্থগিত, দাম্মাম রুট বুধবার খুলতে পারে
তিনি যত দ্রুত সম্ভব আইপিসিসি’র আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান।
ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব বৈঠক পুনরায় আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বিশ্ব প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। সংকট সৃষ্টিতে যাদের দায় সবচেয়ে কম, সেই জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়গুলোই বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
আইপিসিসির প্রতিবেদন সাধারণত প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর পর প্রকাশিত হয়। সংস্থাটির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২০২১ সালে।
আরও পড়ুন: আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, নতুন স্থানে বিক্ষোভের নির্দেশনা: যন্তর মন্তর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন