০৪:৩০ পি.এম
মাদারীপুর, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ঐতিহ্যবাহী শকুনি লেক একসময় জেলা শহরের সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক ছিল।
বিকেলের সময় লেকের পাড়ে মানুষের আড্ডা জমে উঠতো, এবং দর্শনার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসতেন। কিন্তু বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে লেকটির নান্দনিকতা ও পরিবেশ বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে শকুনি লেকের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে সাংবাদিক, সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা এবং সচেতন নাগরিকরা একত্রিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: কৃষিজমির কাজ ও গবাদিপশুর চারণভূমি রক্ষায় মানববন্ধন
এই প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কার্যালয়ে সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শকুনি লেকের বর্তমান অবস্থা, পরিবেশদূষণ, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং লেকপাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা লেকের জায়গা দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা উল্লেখ করেন, শকুনি লেক শুধুমাত্র একটি জলাশয় নয়; এটি মাদারীপুরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের একার নয়, বরং লেকপাড়ের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থীসহ সকল নাগরিকের।
আরও পড়ুন: কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে
লেকের ভেতরে ও পাড়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করে এমন স্থাপনা ও কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সভায় অংশ নেওয়া সচেতন নাগরিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, শকুনি লেক রক্ষায় শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবভিত্তিক ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এজন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো এবং পরিবেশদূষণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি লেকের জায়গা দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক ডা. গোলাম সরোয়ার, মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ, মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল রিজভী, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ, বাইজিদ মিয়াসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০ বছরের বৃদ্ধা ভিক্ষুককে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন