১০:৫৩ পি.এম
মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লামচরীতে প্রায় ১০ বছর ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা কেটে খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিদ্দিন হাওলাদার ও তাঁর ছেলে সায়েদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় সরকারি জমিতে থাকা ফলজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩১ আগস্ট দিনভর নাজু হাওলাদারের বাড়ি থেকে মস্তফা কমিশনারের বাড়ি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কেটে খাল ভরাটের কাজ করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে থাকা ফলজ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে এলাকার মানুষ চলাচল করে আসছেন। প্রতিদিন কর্মজীবী, শিক্ষার্থীসহ কয়েক শ মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। রাস্তা কাটার কারণে তাঁদের চলাচলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: আমার দেখা মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রফিকুল ইসলাম জামাল ভাইয়ের অবিস্মরণীয় ও কালজয়ী রাজনৈতিক অধ্যায়
স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা কাটার কাজে বাধা দিলে অভিযুক্তরা সাময়িকভাবে চলাচলের পথ বন্ধ রেখে জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় সুমন হাওলাদার, সাইফুল হাওলাদার, শহীদ মাতুব্বর, রাসেল শিকদারসহ এলাকাবাসী কাজ বন্ধের দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা সাহাদাত হোসেন ৩১ আগস্ট কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়।
অভিযোগকারী সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন কর্মজীবীসহ প্রায় ৫০০ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। সরকারি জমি কেটে খাল ভরাট করায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা চাই, সরকারি জমি কেটে যেন খাল ভরাট করা না হয় এবং সাধারণ মানুষ যেন আগের মতো এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে।’
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী
তবে রাস্তা ও সরকারি জমি কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিদ্দিন হাওলাদার ও তাঁর ছেলে সায়েদ হাওলাদার। তাঁদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘আমরা সরকারি জায়গা কাটিনি। রাস্তা ঠিক রেখেই কাজ করেছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি ও দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার পাশাপাশি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে রাস্তার প্রকৃত অবস্থান ও জমির মালিকানা নির্ধারণ এবং সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন