বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৯ এম
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনঃএকত্রীকরণ’-এর লক্ষ্যে প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার চীনের জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
শি তার ভাষণে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘বাইনের হস্তক্ষেপ’ প্রত্যাখ্যান করেন। চীনের গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে তিনি এ বক্তব্য দিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর শি মন্তব্য করেন যে, ওয়াশিংটনের তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা উচিত।
বেইজিং স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে।
শি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে হবে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র পক্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে, দুই পাড়ের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে এবং জাতীয় পুনরেকত্রীকরণের মহান লক্ষ্য এগিয়ে নিতে হবে।’
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শত শত অতিথির সামনে শি এ ভাষণ দেন।
১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দুই দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের শেষে কমিউনিস্ট বাহিনী জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং বাহিনীকে পরাজিত করার পর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরাজিত জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে পালিয়ে যায়।
নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনাও রয়েছে।
গত সপ্তাহে শি রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটন যান। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘বিচক্ষণতা’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং দ্বীপটির স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে মে মাসে তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার একটি চুক্তি স্থগিত রেখেছিল ওয়াশিংটন। ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনায় এটিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এতে তাইওয়ানের নিরাপত্তা চীনের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।
শি তাঁর ভাষণে আরও বলেন, চীন ‘জটিল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘উন্নয়নের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া’ প্রয়োজন।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে শিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমাদের অবশ্যই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে অবিচল থাকতে হবে... পরিবর্তন ও অস্থিরতায় জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়ার অভিযোগে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপরাধের ভিত্তিতে এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৮ শিক্ষার্থীকে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদের ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাকিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-
আইন বিভাগ:
১৫ জুলাই আইন বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, মো. রিদোয়ান চৌধুরী, মো. মানজারুল হক ও রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ:
২২ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেনইলমা, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও মো. নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার এবং মো. রাকিবুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগ:
১৯ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৯ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মো. মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এসএম সাইফুজ্জামান, মো. খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার ও হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মো. সবুজ মিয়াকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ:
৯ আগস্ট সিএসই বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মো. মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. রবিউল ইসলাম, মো. মইনুল ইসলাম সাকিব, মো. রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মো. মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের জন্য সময়সীমা চিঠি ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে দ্বিগুণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানিয়েছেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে- বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রথমবার জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় র্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে, ওই চারটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ডিপার্টমেন্টের তদন্ত রিপোর্টে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না করায় তাদের পুনরায় তদন্ত করতে বলা হয়েছে। পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ডের ৪৪৫টি পরিবারের মধ্যে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার, আলাদা অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর হাতে এ খাদ্য তুলে দেন।
দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র অর্থায়নে এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘লাইভলিহুড সাপোর্ট ফর আরবান পুওর কমিউনিটিস ইন বাংলাদেশ (এলএসইউপিসিবি)’ প্রকল্পের আওতায় এ পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয়।
বিকেলে নগরীর ৫নং ওয়ার্ড অফিসে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি, শিশুদের হাত ধোয়া, নিজে এবং নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ডেঙ্গু সংক্রমণ বিস্তার লাভ করছে। শিশুদের মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তিনি মায়েদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিজ নিজ বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখেন।
অনুষ্ঠানে নগরীর দৌলতপুর থানার ১ থেকে ৬নং ওয়ার্ডের ৩শটি পরিবারের প্রত্যেককে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ৩০টি ডিমসহ ডাল ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়।
পরে খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একই প্রকল্পের অপর অনুষ্ঠানে ১৩ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের ১৪৫টি পরিবারের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
পৃথক পৃথকভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র ৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন এবং ১৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. ইমরুল হাসান টিটো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক এম মুর্শিদ কামাল, শেখ ইমাম হোসেন, আব্দুল জলিল হাওলাদার, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিমা লিটন, হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও কাজী একরাম মিন্টু।
অন্যান্যের মধ্যে কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার রাজিয়া সুলতানা, কেয়া সুলতানা, রেশমা খাতুন, ফারহানা আক্তার, আফরোজা খাতুন, শুকরিয়া সুলতানা, স্বপ্না আক্তারসহ সিডিসি নেত্রীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকল্পের সিনিয়র কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার শিউলি মোর্শেদা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি আলোচিত তদন্ত থেকে আইনজীবী কার্ট ওলসেন সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে তিনি বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করছেন না। বরং তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে বহাল থাকবেন বলে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিভাগটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওলসেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের আমলের কর্মকর্তাদের নিয়ে চলা তথাকথিত ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে যুক্ত ছিলেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি ওই তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জানান।
এর আগে, তার ই-মেইলকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিচার বিভাগের মিয়ামি ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, ওলসেন পুরো বিচার বিভাগ থেকেই পদত্যাগ করছেন। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি আইনজীবী হিসেবে বিচার বিভাগে কাজ চালিয়ে যেতে চান।
ওলসেনের ভূমিকা নিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্ক বলেন, ওলসেন পদত্যাগ করেননি এবং তিনি আগের জায়গাতেই কাজ করছেন। তবে পরে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান, ওলসেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে থাকলেও ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে আর দায়িত্ব পালন করবেন না।
তবে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এরপর তিনি কী দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে তার নিরাপত্তা অনুমতিপত্র নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন। ওই অনুমতিপত্র না থাকায় গোপন নথি ও তথ্য পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার পক্ষে যুক্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই তদন্তে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং সাবেক বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথের মাধ্যমে ট্রাম্পের গোপন নথি সংরক্ষণসংক্রান্ত তদন্তের মতো বিষয়ও রয়েছে।
ওলসেন উত্তর ক্যারোলিনার মধ্যাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে বদলি হয়ে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও দুই সূত্র জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, চলতি বছর ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্ত এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন ব্রেনানের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানো তৃতীয় কৌঁসুলি হলেন ওলসেন। এর আগে এপ্রিল মাসে মারিয়া মেডেটিস লংকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তদন্তে থাকা প্রমাণের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। পরে তার জায়গায় দায়িত্ব নেন জো ডি জেনোভা। তিনিও সেপ্টেম্বর মাসে তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিরোধের মধ্যে পদত্যাগ করেন।
ওলসেন চলতি বছরের বসন্তে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের নিয়োগে নির্বাচন নিরাপত্তা ও অখণ্ডতাবিষয়ক পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টাতেও ওলসেন যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। চলতি বছর জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির নির্বাচনসংক্রান্ত মামলাটি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থায় সুপারিশ করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট ও অন্যান্য সামগ্রীসহ বেশ কয়েকটি বাক্স জব্দ করে।
এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে অ্যারিজোনাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে তিনি বিচার বিভাগে সুপারিশ করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান দাবি করেছে যে, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২২ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, অপারেশন গজব লিল-হক-এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে সন্ত্রাসী ক্যাম্প ও আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ফিতনা আল-খাওয়ারিজ, ফিতনা আল-হিন্দুস্তান এবং তাদের সহযোগীরা।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং প্রাথমিক হিসাবে ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আস্তানাগুলোতে মজুত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আরো জানায়, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ। তারা বারবার কাবুলকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান অপারেশন গজব লিল-হক শুরু করে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হলেও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান। সূত্র: জিও নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ