ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনই নিহত


চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনই নিহত

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি জানিয়েছে, তারা এমন প্রতারণার শিকার ৩০ বাংলাদেশির তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে ফিরতে পেরেছেন মাত্র দুজন।

আরও পড়ুন: আজ থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব, ৩৩,৮৫১টি মণ্ডপে উদযাপন

এ ঘটনায় মূল মাস্টারমাইন্ড মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এসআরবি জানিয়েছে। অন্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম আবু তাহের লিন্টু।

রাশিয়ায় নেওয়ার পর তাদের ২০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে এসআরবির পক্ষ থেকে।

মর্মান্তিক এই ঘটনার ব্রিফিংয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এসআরবির এই সদস্য। তিনি সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন, যেন কেউ আর এমন ফাদে না পড়ে।

আরও পড়ুন: আসিফ মাহমুদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দৃশ্যম ৩’ বক্স অফিসে আয় ৫০০ কোটি রুপি ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


‘দৃশ্যম ৩’ বক্স অফিসে আয় ৫০০ কোটি রুপি ছাড়াল

অজয় দেবগণের সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’ বক্স অফিসে দাপট বজায় রেখেছে। মুক্তির ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে রহস্য-রোমাঞ্চে ভরপুর এই সিনেমাটি। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ৫০০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। শুধু ভারতেই সিনেমাটির নেট আয় ৩২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি হয়েছে।

বক্স অফিসের পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি মুক্তির ১২তম দিনে ভারতে ১৪ হাজার ৮৪৬টি প্রদর্শনী থেকে ৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি নেট আয় করেছে। এর ফলে দেশটিতে সিনেমাটির মোট নেট আয় ৩২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি হয়েছে। গ্রস আয় ৩৮৭ কোটি ৮০ লাখ রুপি।

ভারতের বাইরেও সিনেমাটি ভালো ব্যবসা করছে। মুক্তির ১২তম দিনে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে এটি। ফলে বিদেশের বাজারে সিনেমাটির মোট গ্রস আয় ১১৪ কোটি রুপি দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী এর গ্রস আয় ৫০১ কোটি ৮০ লাখ রুপি।

চলতি বছরের সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি সিনেমার তালিকায় ‘ধুরন্ধর ২’-এর পর দ্বিতীয় অবস্থানে ‘দৃশ্যম ৩’ উঠে এসেছে। এটি অজয় দেবগণের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। ভারতে ৩০০ কোটি রুপি নেট আয় করা অভিনেতার প্রথম সিনেমা এটি।

তবে বক্স অফিসে সিনেমাটির এই দাপট কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে নতুন কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর একাধিক হিন্দি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সিনেমাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ‘দৃশ্যম ৩’ নিজের অবস্থান কতটা ধরে রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের।

বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটি অভিনয়ের জন্যও প্রশংসা পাচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত পর্যালোচনায় চলচ্চিত্র সমালোচক শৈবাল চ্যাটার্জি অজয় দেবগণ ও জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন।

শৈবাল চ্যাটার্জির মতে, অজয় দেবগণ নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। অন্যদিকে, জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয় সিনেমাটিতে বাড়তি গভীরতা যোগ করেছে, যা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

অভিষেক পাঠক পরিচালিত সিনেমাটি প্যানোরামা স্টুডিওস ও স্টার স্টুডিও১৮ প্রযোজনা করেছে। এটি ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দৃশ্যম ২’-এর পরবর্তী কিস্তি। তবে আগের কিস্তিগুলোর মতো মালয়ালম সংস্করণের সরাসরি অনুসরণে নয়, বরং সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।

এতে অজয় দেবগণের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত, টাবু, শ্রিয়া শরণ, রজত কাপুর, প্রকাশ রাজ ও ইশিতা দত্ত।

প্রসঙ্গত, ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই। রহস্য ও টানটান উত্তেজনানির্ভর এই ধারাবাহিকের নতুন কিস্তি বক্স অফিসে সাফল্যের সেই ধারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপি ছয় আসনের বিনিময়ে নতুন বন্দোবস্ত জামায়াতের কাছে বিক্রি করেছে: আবু হানিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


এনসিপি ছয় আসনের বিনিময়ে নতুন বন্দোবস্ত জামায়াতের কাছে বিক্রি করেছে: আবু হানিফ

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ মন্তব্য করেছেন যে, এনসিপি ছয় আসনের বিনিময়ে নতুন বন্দোবস্ত জামায়াতের কাছে বিক্রি করে।

তিনি এই মন্তব্যটি বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে করেন।

আবু হানিফ লিখেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অর্ন্তবর্তী সরকারের পৃষ্ঠাপোষকতায় কিংস পার্টি এনসিপি গড়ে ওঠে। তারা শুরুতে নিরপেক্ষতার দাবি তুলে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে। তবে সময়ের সাথে সাথে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তারা মূলত জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্সি সংগঠন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের কথা বলে ৩০০ আসনে ১৪৮৪ মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। পরবর্তীতে দেখা যায়, মাত্র ৬ আসনের বিনিময়ে নতুন বন্দোবস্ত জামায়াতের কাছে বিক্রি করে এনসিপি। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন বন্দোবস্তের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এই দলটি। কিংস পার্টিখাত এই নতুন দলটি রাজনীতি শেখার আগে প্রতারণা শিখেছে।

সবশেষে, এই গণঅধিকার পরিষদ নেতা লিখেছেন, এনসিপি জুলাইকে কুক্ষিগত করে এবং গণঅভ্যুত্থানের অনেক অংশীজনকে মাইনাস করে। অথচ এই দলের নেতারা নিজেদের প্রতারণার জন্য অনুতপ্ত নয় বরং অন্যদের আরও নীতি গল্প শোনায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ভারতীয় শিক্ষা: রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন সমঝোতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


ট্রাম্পের ভারতীয় শিক্ষা: রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন সমঝোতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় এক বছর ধরে ভারতকে চাপ দিচ্ছিলেন রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার জন্য। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির আয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভ্লাদিমির পুতিনকে অর্থ জোগাচ্ছে। এই কারণে গত বছর ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি।

তবে, ইকোনমিক টাইমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায়, ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সমঝোতা করে রাশিয়ার ডিজেল বিশ্ববাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে। যখন জ্বালানির দাম মার্কিন ভোটারদের অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি করছে, তখন কেন ওয়াশিংটনকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হচ্ছে? সাধারণ মানুষের জ্বালানির ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতাকে কি পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য পূরণের জন্য উপেক্ষা করা যায়?

সবার আগে মার্কিন ভোক্তার স্বার্থ

গত ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে সফল আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আসার কথা আরো ৫ লাখ টন। পরবর্তীতে ১০ লাখ টন সরবরাহ করা হতে পারে, শোধনাগারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরো ৩০ লাখ টন ডিজেল আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, পণ্য পরিবহন ও শীতকালে ঘর গরম রাখার বিভিন্ন ব্যবস্থায় ডিজেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে, যা খাদ্যপণ্যের দাম ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের দাম ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের জ্বালানি ব্যয় কমানোর কথা বলেছেন ট্রাম্প।

এখানে বৈপরীত্যটি স্পষ্ট। যে প্রশাসন এতদিন বলেছে, রাশিয়ার তেল কেনার মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধের অর্থায়ন হচ্ছে, সেই প্রশাসন এখন মার্কিন ভোক্তাদের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি আনতে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে প্রস্তুত।

ভারতের যুক্তিও ছিল অনেকটা এ রকম। দেশটি তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে ভারতীয় ভোক্তাদেরও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়। নয়াদিল্লি কখনোই বলেনি যে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা গ্রহণযোগ্য। ভারতের বক্তব্য ছিল, জ্বালানির নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি কোটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে জ্বালানি আমদানির উৎস নির্ধারণ করা যায় না।

এখন মার্কিন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের বাড়তি দাম তার জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করায় ভারতের সেই যুক্তির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

ছাড় দিলেই কি কমবে ডিজেলের দাম?

তবে, চুক্তি ঘোষণা করা এবং পাম্পে জ্বালানির দাম কমানো এক বিষয় নয়। বিশ্লেষকদের সন্দেহ, রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করা সহজ হবে না। দেশটির জ্বালানি শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার রপ্তানি সক্ষমতাও ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে মস্কো নিজেও ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি পৌঁছাতে সময় লাগবে। প্রতিশ্রুত সরবরাহের পরিমাণ বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় সীমিত। ফলে এই উদ্যোগ কিছুটা বাড়তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্রুত কমিয়ে দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। পুতিনের সুবিধা হয়—এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে যদি মার্কিন ভোক্তারা সামান্যই স্বস্তি পান, তাহলে এর কূটনৈতিক ও আইনগত বিরোধিতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জ্বালানির প্রশ্নে সাধারণ মানুষের স্বার্থ যে ভূরাজনৈতিক হিসাবের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে, ট্রাম্প কি এবার ভারতের দীর্ঘদিনের যুক্তি স্বীকার করবেন? তার জন্য বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে মার্কিন কংগ্রেস।

গত ১১ অক্টোবর সাতজন মার্কিন সিনেটর রাশিয়ার ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সুসান কলিন্স, লিসা মারকাউস্কি, থম টিলিস ও জন কার্টিস ছিলেন। ডেমোক্র্যাট দলের জিন শাহিন, রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও রন ওয়াইডেনও তাদের সঙ্গে একমত হন।

সিনেটরদের বক্তব্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যাতে মার্কিন অর্থ পুতিনের যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত না হয়। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করেনি এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়নি।

টিলিস আরো বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইন মেনে চলছে কি না, তা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে ভোটাভুটি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের জন্য বিষয়টি আরো জটিল, কারণ সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইনে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে পরিচিত এই আইন ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানকে আরো কঠোর করেছে।

তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়ার যথেষ্ট আইনি ক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড় দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জাহাজে তোলা জ্বালানির ক্ষেত্রে এ ছাড় প্রযোজ্য।

কিন্তু প্রশাসন নিজেদের সিদ্ধান্তকে আইনসম্মত মনে করলেই যে কংগ্রেসের যাচাই-বাছাইয়ে তা টিকে যাবে, এমন নয়।

যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজের প্রয়োজনে রাশিয়ার ডিজেল কেনার জন্য বিশেষ আইনি ব্যাখ্যা কিংবা সীমিত পরিসরে ছাড়ের আশ্রয় নেয়, তাহলে ভারতের রাশিয়ার তেল কেনার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে উল্টো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। কংগ্রেসের বিরোধিতায় ট্রাম্প নিজের অবস্থান আরো কঠোর করে দেখাতে পারেন, যদিও তার প্রশাসন নিজেদের জন্য ছাড় আদায়ে ব্যস্ত থাকবে।

ভারত কি নিষেধাজ্ঞায় ছাড় পাবে?

ওয়াশিংটন কীভাবে এই ছাড় কার্যকর করে, তা পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রভাব পর্যালোচনা করছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিজেদের জ্বালানি আমদানির জন্য বিশেষ ছাড় তৈরি করতে পারে, অথচ রাশিয়া ও ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা আইন আনুষ্ঠানিকভাবে লঙ্ঘন না করে, তা নিয়ে কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।

ভারতের জন্য কোনো বিশেষ ছাড়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলোচনা হলেও বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।

ভারতের স্বার্থ তাৎক্ষণিক শুল্কের হিসাবের চেয়েও বড়। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ফলে দেশটি জ্বালানির বিকল্প সরবরাহ পেয়েছে এবং শোধন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার কিছু অপরিশোধিত তেল ভারতে পরিশোধন করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি জটিলতা রয়েছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক স্টিফেন মুল বলেছেন, ভারতের হাতেও দর-কষাকষির সুযোগ রয়েছে। ভারত রাশিয়া থেকে যে অপরিশোধিত তেল কেনে, তার একটি অংশ পরিশোধনের পর ডিজেল হিসেবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাজারেও পৌঁছায়।

মুলের মতে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ভারতের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্পকে সেই সম্ভাবনাও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। এমন পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্ক আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাণিজ্য আলোচনা ও পাকিস্তান বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতির কারণে সম্পর্ক আগে থেকেই চাপে রয়েছে।

ওয়াশিংটন চাইলে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং জাহাজে আগে থেকেই তোলা ডিজেলের সাময়িক আমদানিকে আলাদা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। আইনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এতে নীতিগত অসংগতির প্রশ্নটি দূর হবে না।

ট্রাম্প কি কঠিন শিক্ষাটি স্বীকার করবেন?

রাশিয়ার ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প ভারতের সব যুক্তি মেনে নিয়েছেন। তিনি বলতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থা সাময়িক, সীমিত এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সরবরাহসংকট মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর জ্বালানির দামের চাপ কমলে আবার কঠোর নিষেধাজ্ঞানীতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগও তার রয়েছে।

জ্বালানির দাম বেশি থাকলে উৎস যা-ই হোক, আরও সরবরাহ নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে। দাম কমে গেলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন ট্রাম্প। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের আগের অবস্থান যতটা অনড় বলে মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা ততটা নয়।

রাশিয়া সম্পর্কে ভারতের সব অবস্থানকে সমর্থন করার প্রয়োজন নেই ট্রাম্পের। তবে তিনি স্বীকার করতে পারেন, জ্বালানির নিরাপত্তার প্রশ্নে ওয়াশিংটনের জন্য এক নিয়ম এবং নয়াদিল্লির জন্য আরেক নিয়ম থাকা উচিত নয়।

সমস্যা হলো, ট্রাম্পের নিজের দলের সদস্যসহ দুই দলের সিনেটররা যখন রাশিয়ার ডিজেল আমদানির বিরোধিতা করছেন, তখন ভারতের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া রাজনৈতিকভাবে আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই শুধু রাশিয়ার তেল বা ডিজেল কেনার নয়। প্রশ্ন হলো, নিজের দেশের ভোটারদের স্বার্থে যে নীতি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, অন্য দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে সেই একই যুক্তি মানতে ট্রাম্প কতটা প্রস্তুত। ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টি হয়তো তার সামনে স্পষ্ট। কিন্তু সেই শিক্ষা প্রকাশ্যে স্বীকার করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা তার আছে কি না, সেটিই এখন দেখার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান (ডিআই খান) জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময়ে জনসমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ এবং মোটরসাইকেলে দুজনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এক আদেশ বুধবার (১৪ অক্টাবর) প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে, ১৩ অক্টোবর থেকে আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। জেলা প্রশাসক হিকমতুল্লাহ এ আদেশ জারি করেন।

দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, বহন ও সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে— এমন তাবু, অস্থায়ী স্থাপনা বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ১৩ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তার আশঙ্কা, জনসমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে যান চলাচল, জরুরি সেবা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডিআই খানে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দারাজিন্দার আমান মেলা এলাকার একটি যৌথ চেকপোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর একটি অ্যাম্বুলেন্সে গুলির ঘটনায় সংস্থাটির আরও দুই কর্মী নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।

এরপর ৭ অক্টোবর জেলাটিতে পৃথক গুলির ঘটনায় ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউয়ের (এফবিআর) দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হন।

ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডিআই খানসহ ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%