ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লালমনিরহাটে মাদকসহ মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বিজিবি


লালমনিরহাটে মাদকসহ মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বিজিবি

লালমনিরহাট, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার সীমান্তে আজ পৃথক দু’টি অভিযানে ৩৫৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ৬ কেজি গাঁজা এবং ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বনচৌকি ও গোড়কমন্ডল বিওপির টহলদল পৃথক দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে।

বিজিবি জানায়, হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব আমঝোল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালালে চোরাকারবারিরা বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে ৩৫৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ফেলে ভারতে পালিয়ে যায়। এছাড়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্যটারী এলাকায় আরেক অভিযানে ১টি মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংক ও সিটের ভেতরে বিশেষ লুকিয়ে রাখা ৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ৫ নং ঘাট পরিদর্শন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ আলামতের মোট সরকারি সিজার মূল্য ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্তে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বাসস’কে বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

সিলেটে চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির হোসেনকে আদালত থেকে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে।

সিলেটের বহুল আলোচিত এই শিশু হত্যার ঘটনায় জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে আদালত তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। এই মামলায় জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালাম বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটার তিন মাসের মাথায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট), সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় দেন। উল্লেখ্য, মামলার এক মাস পাঁচদিনের মধ্যে আদালতে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে এবং মরদেহ গুমে সহায়তা করার জন্য তার দুই ভাই জয়নাল ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নিহত শিশু ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেনের বয়স ৩০ বছর, এবং তিনি ফাহিমার পরিবারের প্রতিবেশী নিহত তোতা মিয়ার ছেলে।

গত ৬ মে, ফাহিমা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দু’দিন পর ৮ মে রাতে, ফাহিমার মরদেহ পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ মে রাতে, ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর, পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় জাকির এ ঘটনার বিষয়ে ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সিগারেট আনার কথা বলে ফাহিমাকে দোকানে পাঠান। দোকান থেকে ফেরার পর, ঘর ফাঁকা থাকার সুযোগে তিনি ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় ফাহিমা জ্ঞান হারালে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন জাকির। পরে, মরদেহ গুম করতে না পেরে বাড়ির কাছে একটি পুকুর সংলগ্ন ডোবায় ফেলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান কিংবা শ্রমবাজারের বিষয় নয়। এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি আজ রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) অনুষ্ঠিত 'মাইগ্রেশন গভর্ন্যান্স অ্যাজ আ ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনস্ট্রুমেন্ট ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক মূল বক্তব্যের সময় এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিইউপিতে এসে পৌঁছালে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম তাঁকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানটিতে বিইউপির ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ডিন, শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মূল বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা শুধু রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড ও ভৌগলিক সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মানুষের নিরাপদ চলাচল, বৈধ কর্মসংস্থান, সীমান্ত অতিক্রমের সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত অভিবাসন নিশ্চিত করা না হলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রবাসী আয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশগামী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, অনিয়মিত অভিবাসন, প্রতারণা, মানব পাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং সংকটকালীন সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুসংহত, মানবিক ও নিরাপত্তা সচেতন অভিবাসন ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সহ জাতীয় নিরাপত্তাকেও আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি অভিবাসনের অর্থনৈতিক, মানবিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগত দিকগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী নীতিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী গবেষণা, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

মূল বক্তব্যের পর এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিইউপির শিক্ষার্থীরা অভিবাসন নীতি, মানব পাচার, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিইউপির শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা, নীতিগত আলোচনা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কোতে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


মরক্কোতে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : মরক্কোর রাজধানী রাবাতের বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন করেছে।

এসময় জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং জাতীয় ঐক্যের আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

গতকাল বুধবার আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন। দূতাবাসের কাউন্সেলর রাজিব ত্রিপুরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

এসময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আলোকে বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে মরক্কোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়তে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়তে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসময় মন্তব্য করেন যে, দেশে বারবার জনগণের অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা রোধে সরকার একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন আর কেউ জাতিকে শিকল পরাতে না পারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) এই প্রকাশনা প্রকাশ করে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতেই হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তাদেরই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে।’

অতীতের আন্দোলনগুলোর সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায় ও গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতো, পরে তা লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার জনগণের কাছে পৌঁছাতে আমরা পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সক্ষম হচ্ছি না, সেই কারণে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনে লড়াইয়ের আগেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে এসে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে দেশ আজ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম, অত্যাচার ও আয়নাঘরের ভয় উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই সংকলনটি সময়ের একটি স্বচ্ছ আয়না হিসেবে দীর্ঘকাল পাঠক ও গবেষকদের পথ দেখাবে।’

তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন, মূলত তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়েই এই বিশেষ বইটি প্রকাশ কর হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আন্দোলনকারী ও দায়িত্বশীলদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদফতরের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%