১১:৫৪ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফি জমি দখল করে চলাচলের জন্য একটি পথ নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম দাবি করেছেন, অন্তত সাতদিন আগে রাতের আধারে কাফি ওই চলাচলের পথটি নির্মাণ করেছেন। উল্লেখ্য, কাফির পেছনে নিজের জমি রয়েছে বলে জানা গেছে এবং শোনা যাচ্ছে, সে নাকি ছয় শতক জমি বায়না করেছে। এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে স্থানীয় সালাহউদ্দিন নয়ন পাহলোয়ানদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের একটি মামলা চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, জমি দখল বা শ্রেণি পরিবর্তন করা সঠিক নয়। একদিন আগে বৃহস্পতিবার কাফি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি দিনের বেলা চলাচলের জন্য ওই পথটি করেছেন এবং কোন অন্যায় করেননি। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কাফি কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠক হিসেবে ব্যাপক আলোচিত ছিলেন এবং পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ২১ একর ৭৬ শতক জমি ভোগদখলে রয়েছে। যার মৌজা রজপাড়া এবং বিএস খতিয়ান নম্বর-১২। বিদ্যালয়ের খাজনাদি ১৪৩২ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয় এবং তখন বিধি অনুসারে সমস্ত জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল হস্তান্তরিত করা হয়। জমির মালিকানা বিরোধ নিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে আব্দুর জব্বার গংদের সঙ্গে মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমান সময়ে উচ্চ আদালতে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলোয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে সেই মামলা চলছে। উচ্চ আদালত নয়নদের পক্ষে একটি রায় দিয়েছেন এবং সেই রায় পুনঃর্বিবেচনার জন্য সিভিল রিভিউ পিটিশন (২৪৬/২০২৫) আবেদন করায় সেটা এখনও চলমান আছে। এরই মধ্যে কাফি নয়নদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন দাবি করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন, যা প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের মতে সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা সংবলিত কাগজপত্র কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং কলাপাড়া থানায় দাখিল করেছেন। নয়ন পাহলান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের সঙ্গে ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলমান ছিল। প্রথমে পটুয়াখালী আদালত এবং পরে ২০২৫ সালে হাইকোর্ট থেকে তারা তাঁদের পক্ষে রায় পেয়েছেন। নুরুজ্জামান কাফির জমিতে যাতায়াতের জন্য তাকে ৬ শতক জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তারা কোন ভুল করেনি বলে দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি গণমাধ্যমে বলেছেন, আমি ৩০ লাখ টাকায় বিদ্যালয়ের জমির পেছনে একটি জমি কিনেছি এবং সেখানে চলাচলের কোনো পথ নেই। তিনি প্রধান শিক্ষককে বলেছেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি। নয়ন পাহলানরা আদালতের রায় পাওয়ার পর মৌখিক বায়নায় তাদের কাছ থেকে ৬ শতক জমি নিয়ে চলাচলের রাস্তা করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাতে নয়, দিনে এই পথের জন্য ছোট্ট একটি সড়ক তৈরি করেছেন। পোড়া কয়লা ও বালু এনে তিনি পথটি তৈরি করেছেন। এখানে জোর-জবরদস্তির কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয়পক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন