০৭:৫৫ এম
আজ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালু হচ্ছে, যা জাল টাকা ও খুচরা টাকার সংকট কমাবে।
দেশের ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একীভূত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় ধাপে ধাপে চালু হবে ডিজিটাল অর্থ পরিশোধ, যার মধ্যে থাকবে ট্রেড লাইসেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, হাসপাতালের বিল, পরিবহন টোলসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সেবা। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে নগদ অর্থের ব্যবহার কমে আসবে এবং জাল নোট গ্রহণের ঝুঁকি, খুচরা টাকার সংকট এবং নগদ অর্থ বহনের সমস্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
জাল নোট প্রতিরোধের পাশাপাশি খুচরা টাকার অভাবে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, তাই উৎসাহিত করা হচ্ছে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থায় একজন মার্চেন্টের জন্য একটি বাংলা কিউআর কোডই যথেষ্ট হবে। গ্রাহকরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নতুনভাবে অথবা নবায়ন করা সব ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও বাংলা কিউআর চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবার অর্থ পরিশোধে বাংলা কিউআর ব্যবহার ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে দেশের ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি থাকা সত্ত্বেও উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষের আর্থিক সচেতনতা বা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এখনও সন্তোষজনক নয়। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই আর্থিক শিক্ষা চালু করা এবং আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণকে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় দক্ষ করে তুলতে হবে। তাহলেই বাংলা কিউআরের মতো উদ্যোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করবে। একই সঙ্গে এটি নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে স্বচ্ছ, নিরাপদ ও আধুনিক ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন