মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৭ পি.এম
হবিগঞ্জ, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : হবিগঞ্জে আজ ‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সভার আয়োজন করা হয় মঙ্গলবার দুপুরে, সবার জন্য বাংলাদেশ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে।
সংগঠনের হবিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক সাংবাদিক কলামিস্ট রিয়াদুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সফিকুর রহমান চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন সংগঠনের হবিগঞ্জ শাখার উপদেষ্টা আলী হোসেন, অ্যাড. আব্দুল মোতালিব, হবিগঞ্জ সুরবিতানের আবুল ফজল, বাউল শিল্পী আবুল সরকার, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, সঙ্গীত শিল্পী রাসেল উদ্দিন, সাংবাদিক মীর আব্দুল কাদির, প্রবাল কান্তি রায়, আসাদ উদ্দিনসহ আরও অনেকে। সভায় বৈষ্যমহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানিয়েছেন, বিরোধী দল এক দফার ঘোষণা দেবে, কিন্তু বিএনপি চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি বলেন,
"আপনারা ভয় দেখান, এক দফার। আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব—এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনারা রাজনীতি করেন, পার্লামেন্টে কথা বলেন, বাইরেও কথা বলেন—তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।"
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, "দেশকে অস্থিতিশীল করার দায় কি আপনাদের (বিরোধী দলের) নয়?" তিনি উল্লেখ করেন, "মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, মিরপুরে বাসে আগুন ধরাচ্ছে কে? বোমাবাজি করছে হাইকোর্টের সামনে কে? এর উত্তর কে দেবে? এটা কি শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টদের কাজ, নাকি মানুষ বলছে নতুন নতুন দোসর তৈরি হয়েছে, এখন তারাও ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে? না হলে এই প্রেসে যখন আগুন দেওয়া হলো, তারপরে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তারা তো জামায়াতের লোক। আপনারা খবরের কাগজ খুলে দেখেন।"
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "বিরোধী দল হুংকার দিচ্ছেন এক দফার কথা বলে। আপনাদের এক দফার কথা শুনে আমরা কি গলিতে গিয়ে দাঁড়াব, নাকি প্রাচীরে লাফ দেব? যে দল রাজপথের ইটের সাথে, কাঠের সাথে, ধুলার সাথে, পানির সাথে সম্পৃক্ত—সেই দল বিএনপি। সেই দল ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোকে আপনারা এক দফার ভয় দেখাচ্ছেন?" রিজভী প্রশ্ন করেন।
শহীদদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে বিএনপি ১৭ বছর আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, "আপনারা কয়দিন করেছেন? তার তালিকা দিন।"
তিনি বলেন, "বিরোধী দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন, ওভাবে মাছ শিকার করা যাবে না। কারণ, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি এবং বিএনপির জোট সরকার তার সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে মো. সম্রাট নামের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এক ছাত্রকে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে শতাধিক ছাত্রীর বিভিন্ন মুহূর্তের সংবেদনশীল ও আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, জবির শান্ত চত্বরে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের গোপন ছবি-ভিডিও ধারণ করার সময় অভিযুক্ত সম্রাটকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কিছু শিক্ষার্থীর সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সম্রাট বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শান্ত চত্বর' এলাকায় বসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এক নারী শিক্ষার্থীর সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠী ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন এবং তার মোবাইল ফোন চেক করেন।
মোবাইল যাচাই করার সময় দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বসা অন্তত একশ জন শিক্ষার্থীর ছবি এবং কিছু আপত্তিজনক ভিডিও তার ফোনে সংরক্ষিত রয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ সম্রাটের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি নিজের পরিচয় জানালেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানান, "ঘটনাটি আমরা অবগত আছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চেক করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে। ভেতরের প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম নিয়োগ পেয়েছেন। এই পদে তার নিয়োগ আগামী ৩ বছরের জন্য কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ শেখ গিয়াসউদ্দিনের সই করা একটি অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান চেয়ারম্যানের মেয়াদ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তিন বছর পূর্ণ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) থেকে তার এই নিয়োগ কার্যকর হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিধিমোতাবেক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর ২৪(২) ধারা মোতাবেক উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে তার পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম বিভাগের সার্বিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরো গতিশীল এবং আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ ৫ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তালবীজ বিতরণ করা হয়। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী তালবীজ গ্রহণ করে, যা তারা নিজ নিজ এলাকায় রোপণ করবে।
পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল। অনুষ্ঠানে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তালবীজ বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিল, এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কর্মসূচির প্রথম দিনে সংগৃহীত ১ হাজার তালবীজ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। চলতি মাসজুড়ে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে পাঁচ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।
লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ২০১১ সাল থেকে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় আমরা তালবীজ রোপণ করে আসছি। গত ১৫ বছরে সারা দেশে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। এবারও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাই এসব মৃত্যু নিয়ে আমাদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্বেগ অনেক সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। একসঙ্গে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটলেই কেবল গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা নড়েচড়ে বসে। অথচ বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা এবং ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ। সরকার যদি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করে, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে ব্যাপকভাবে তালবীজ রোপণ করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে পরিবেশ সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ