ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণে এলজিইডির প্রধানের সঙ্গে এমপি মনিরুলের মতবিনিময়


ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণে এলজিইডির প্রধানের সঙ্গে এমপি মনিরুলের মতবিনিময়

কুমিল্লা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও ক্যান্টনমেন্ট) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

আজ সোমবার বিকেলে এলজিইডি ভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কুমিল্লার সুয়াগাজী থেকে গোলাবাড়ি ব্রিজ পার হয়ে দেবিদ্বার, মুরাদনগর, বাঞ্ছারামপুর ও আড়াইহাজার হয়ে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডে সংযুক্ত হওয়ার প্রস্তাবিত বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পিস্তল উঁচানো দৃশ্য ত্রাসের রাজত্বের প্রতীক: জামায়াত

প্রস্তাবিত এ মহাসড়কটি নির্মিত হলে কুমিল্লা ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর তৈরি হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নদী ও জলপথে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব সেতু বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গোমতী ও মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ও প্রস্তাবনায় রয়েছে।

মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা-ঢাকা যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে বিকল্প এই মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর মন্তব্য

সভায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলগাছি-বহরমপুর সড়ক বেহাল, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


বেলগাছি-বহরমপুর সড়ক বেহাল, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

 

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বেলগাছি-বহরমপুর সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির কারণে গ্রামবাসীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। বেলগাছি পালপাড়ার ২৫টি পরিবারসহ গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে। নদী বেষ্টিত এই গ্রামের পালপাড়ায় প্রতি বছর দূর্গাপূজার জন্য শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। এবছরও প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতিমা তৈরি করতে আসেন। এই গ্রামের যাতায়াতের সড়কটি দেখে মনে হবে, এটি যেন চাষের জমি। কাদা পানিতে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের সকল মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেড় কিলোমিটার এই সড়কের উন্নয়ন হয়নি, এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকার বারবার পরিবর্তন হলেও, বেলগাছি-বহরমপুর সড়কের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।

বেলগাছি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী অমল চন্দ্র পাল, অপূর্ব পাল, সনাতন পাল, গ্রামের আজাহার আলী এবং নুরুল ইসলাম জানান, এই সড়কটি পাকাকরণ অত্যন্ত জরুরি। সড়কটির কারণে গ্রামের মানুষের চরম কষ্ট হচ্ছে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। এ বিষয়ে নিমাইচড়া ইউনিয়নের প্রশাসক এবং উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার খলিলুর রহমান জানান, সড়কটি পাকাকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত নেতার ইশারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ পি.এম


জামায়াত নেতার ইশারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যা সরকারের আশ্রয়ণ নীতিমালার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয় না। গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এসব ঘর, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এসব ঘরের হস্তান্তরের সুযোগ নেই, তথাপি এই কার্যক্রম চলছে প্রকাশ্যে।

মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রকল্পের ২০৮টি নতুন বাড়ির মধ্যে অর্ধেকের বেশি বরাদ্দপ্রাপ্তরা সেখানে বসবাস করছেন না। গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত এসব ঘর ৪০-৮০ হাজার টাকায় হাত বদল হচ্ছে। এমনকি একটি ঘর একাধিকবার বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জামায়াত নেতার নির্দেশে একটি সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্ট্যাম্পের মাধ্যমে শতাধিক বাড়ি হস্তান্তরিত হয়েছে। প্রতিটি ঘর বিক্রির টাকার বেশির ভাগ অংশ স্থানীয় সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা জামায়াতের আইন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ মেম্বারের নির্দেশে এসব লেনদেন হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি রাজিব হোসেন এবং মহিলা নেত্রী পাপিয়া সুলতানা ওরফে পলি এই কার্যক্রমে জড়িত।

এক বাসিন্দা অনিক হোসেন জানিয়েছেন, আকলিমা খাতুন নামে এক বাসিন্দা মৃত্যুর পর তিনি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘরটি কিনেছেন এবং জমির দলিলও পেয়েছেন। চায়না বেগম নামে আরেক ক্রেতা জানিয়েছেন, তিনি তার নিকটাত্মীয় তরিকুল ইসলামের ঘর কিনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এজন্য তাকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। নুর ইসলাম নামের একজন ৬০ হাজার টাকায় জান্নাত আরা নামে এক বাসিন্দার ঘর কিনেছেন। প্রকল্পের শতাধিক ঘর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে, যার ১০-২০ শতাংশ টাকা প্রকৃত মালিকরা পেয়েছেন এবং বাকি টাকা সিন্ডিকেটের পেটে গেছে।

সিন্ডিকেটের নারী নেত্রী পাপিয়া সুলতানা পলি গোপন পরিচয়ে জানিয়েছেন, তিনি বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছ থেকে তিনটি ঘর কিনেছেন। তিনি প্রতিবেদককে আশ্বাস দেন যে, ৫০-৬০ হাজার টাকায় একটি ঘর পাইয়ে দিতে পারবেন। তিনি জানান, তারা প্রায় শতাধিক ঘর বন্দোবস্ত করেছেন এবং কোনো সমস্যা হয়নি।

সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য রাজিব হোসেনও ঘর হাতবদলের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঝর্ণা, আঞ্জুয়ারা, রুমা, মরজিনা, জাহিদা, সাথী আক্তারসহ আরও ১০-১৫ জন বাসিন্দা ইতিমধ্যে তাদের ঘর ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, চাইলে সেখানে একটি ঘর বন্দোবস্ত করে দেবেন, বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।

তবে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা হাফিজ মেম্বার ঘর বেচাকেনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি একাধিক নয়, প্রকল্পের একটি ফাঁকা ঘর স্থানীয় টুটুল নামে এক ব্যক্তিকে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে তিনি কোনো আর্থিক লেনদেন করেননি। তার বক্তব্য, কথিত সিন্ডিকেট তার নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

এদিকে, আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। রাস্তায় কাঁদাপানি জমে থাকায় চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে প্রকল্প এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত, মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসবাস অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন সরকার জানিয়েছেন, আশ্রয়ন প্রকল্পে অধিকাংশ প্রকৃত বাসিন্দা না থাকায় ঘরগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে না। কিছু জায়গায় কাঁদা পানি জমেছে এবং সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। যারা নীতি ভঙ্গ করে ঘরের দখল বিক্রি করেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় দলিল বাতিল সম্পন্ন হলে ঘরগুলোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, যেসব ক্রেতা হাত বদল করে এসব ঘর নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ভূমিহীন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে যারা মধ্যস্থতাকারী এবং অনৈতিক লেনদেনের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংস্কারের অভাবে বেহাল ক্ষেতলাল বন বিভাগ কার্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


সংস্কারের অভাবে বেহাল ক্ষেতলাল বন বিভাগ কার্যালয়

ক্ষেতলাল বন বিভাগ অফিসের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সংস্কারের অভাবে অফিস এবং কর্মকর্তাদের আবাসস্থলগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, বন বিভাগের চারা উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। ফলে, চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চারা সরবরাহ করতে পারছে না তারা।

১৯৮০ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর বন বিভাগ অফিসটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে, সংস্কারের অভাবে মূল অফিসসহ অন্যান্য ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশপথের মূল ফটক আগাছায় আবৃত। অফিসের ভেতরে প্রবেশ করলে দু-একটি প্রজাতির ছোট ছোট পরিত্যক্ত চারা ও আগাছা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান দাবি করেন, বন বিভাগ বছরে প্রায় ৪০ হাজার বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ওষধি চারা বিতরণ করে সরকারি নির্দেশে।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্প বনায়নের জন্য যে চারার চাহিদা রয়েছে, তা পূরণে বন কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি থেকে স্বল্পমূল্যের নিম্নমানের চারা সংগ্রহ করে চাহিদা পূরণ দেখান। সম্প্রতি, স্থানীয় সরকার বিভাগের গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষেতলাল বন বিভাগ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিন্যাসকৃত গাছের চারার চাহিদার ১ শতাংশও পূরণ করতে পারেনি। কাগজে-কলমে বন বিভাগ ৪ হাজার ৫টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিতরণ করার দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

বন বিভাগের বেডে যে কয়টি চারা দেখা গেছে, সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে নতুন রাস্তা নির্মাণ বা খাল খনন করা হলে গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই চারা বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। যদি এখান থেকে পাওয়া যেত, তাহলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচত। ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলসীগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধে ২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যার সব চারাই বাইর থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখার পূর্বে যুগান্তর প্রতিনিধি ক্ষেতলাল বন কর্মকর্তা অফিসে তিন দিন গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। পরে বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান মুঠোফোনে জানান, তিনি পাশের কালাই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেতলাল বন বিভাগ থেকে এ বছর পাঁচ হাজার ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে আরও তিন হাজার চারা বেডে রয়েছে। এ বছর ৩০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে উপযোগী মাটি না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। তিনি জানান, পরিবারসহ বসবাসের কথা থাকলেও ভবনগুলো অনুপযোগী হওয়ায় কেউ সেখানে থাকতে পারছেন না। তবে বন বিভাগের মালী আব্দুর রাজ্জাক ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। তাঁরা আক্ষেপ করে জানান, বন কর্মকর্তাদের নিজস্ব কোনো কার্যালয় না থাকায় মালীদের ঝুপড়ি ব্যারাকে বসেই নিয়মিত অফিস করতে হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ক্ষেতলাল উপজেলার সব দপ্তর স্পর্শ করলেও বন বিভাগ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, বন বিভাগের ভবনের বেহাল দশা সম্পর্কে তিনি অবগত। বন কর্মকর্তা এখানেসহ চারটি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Share

Facebook

WhatsApp

Messenger

Telegram

Copy Link

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্মৃতিতে চিরভাস্বর আরিফিন তুষার: বিদায়ের এক বছর, আস্থার বাতিঘর হারিয়ে আজও শোকাচ্ছন্ন বরিশালের সাংবাদিক সমাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ পি.এম


স্মৃতিতে চিরভাস্বর আরিফিন তুষার: বিদায়ের এক বছর, আস্থার বাতিঘর হারিয়ে আজও শোকাচ্ছন্ন বরিশালের সাংবাদিক সমাজ

সময় গড়িয়ে এক বছর পার হলেও প্রিয় সহকর্মীর আকস্মিক বিদায়ের ক্ষত আজও তাজা বরিশালের গণমাধ্যম কর্মীদের হৃদয়ে। বিপদ-আপদে সহকর্মীদের পাশে ছুটে যাওয়া, তরুণ সাংবাদিকদের হাত ধরে পথ দেখানো আর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সবাইকে মাতিয়ে রাখা সেই মুখটি আজ শুধুই স্মৃতি। তরুণ সাংবাদিকদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক, ‘দৈনিক কালবেলা’র বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান আরিফিন তুষারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নগরীর সদর রোডস্থ হাবিব ভবনে নিজ কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে অকালেই থেমে যায় তাঁর কর্মমুখর জীবন। তাঁর এই হঠাৎ বিদায়ে সেদিন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পুরো বরিশাল অঞ্চলের সাংবাদিক অঙ্গনে।

আরিফিন তুষারের প্রয়াণদিবসে সহকর্মীরা স্মৃতিকাতর হয়ে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন। তাদের মতে, আরিফিন তুষার কেবল একজন সংবাদকর্মীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন তরুণ লেখকদের অভিভাবকতুল্য। পেশাগত বা ব্যক্তিগত—যেকোনো সংকটে নিজের স্বার্থ ভুলে সহকর্মীদের সহযোগিতায় সবার আগে এগিয়ে আসতেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বরিশাল প্রেসক্লাবে নতুন ও সহযোগী সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াতেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনেও ছিল তাঁর বলিষ্ঠ পদচারণা। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। এছাড়া ‘বার্তা সম্পাদক ফোরাম, বরিশাল’-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সদস্য হিসেবে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরিফিন তুষারের পেশাগত জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। ২০০৮ সালে ‘দৈনিক আজকের পরিবর্তন’ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। এরপর ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর চিফ রিপোর্টার, ২০১৪ সালে ‘দৈনিক বরিশালের ভোরের আলো’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে ‘দৈনিক দখিনের মুখ’-এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ‘ঢাকা টাইমস’ এবং সর্বশেষ ‘দৈনিক কালবেলা’র বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে যান তিনি।

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আরিফিন তুষারের গ্রামের বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নে পরিবার ও ‘বার্তা সম্পাদক ফোরাম, বরিশাল’-এর যৌথ উদ্যোগে স্মারক আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সহকর্মী, অভিভাবক কিংবা প্রাণের বন্ধু—সব পরিচয়েই আরিফিন তুষার রেখে গেছেন এক অপূরণীয় শূন্যতা। সময়ের নিয়মে দিন গড়ালেও তাঁর কাজ, সহকর্মীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বরিশালবাসীর স্মৃতিতে তাঁকে চিরকাল জীবিত রাখবে।

তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘খবর বরিশাল’-এর সম্পাদক এইচ আর হীরা বলেন, “কর্মে ও স্মৃতিতে চিরজীবী হয়ে থাকুন আরিফিন তুষার। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—আমীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%