ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাকিস্তানে অধিকার আদায়ে কথা বলতে ভয় পান ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা


পাকিস্তানে অধিকার আদায়ে কথা বলতে ভয় পান ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা

পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের অধিকার আদায়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহত খ্রিষ্টান মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির ভাই পল ভাট্টি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামি উগ্রপন্থীদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

শাহবাজ ভাট্টি ২০০৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘুবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন মন্ত্রিসভার একমাত্র খ্রিষ্টান সদস্য। মন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালে গোজরা দাঙ্গায় হামলার শিকার খ্রিষ্টানদের পক্ষে তিনি কথা বলেন এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া খ্রিষ্টান নারী আসিয়া বিবির পক্ষেও অবস্থান নেন। আসিয়া বিবি দীর্ঘ আইনি লড়াই ও কয়েক বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে কানাডায় আশ্রয় নেন।

ক্রিশ্চিয়ান টুডের খবরে প্রকাশ, খ্রিষ্টানদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ায় শাহবাজ ভাট্টিকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ২০১১ সালে পাকিস্তানি তালেবানের সদস্যদের হাতে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার মৃত্যুর পর ভাই পল ভাট্টি জাতীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: সরকারের জরুরি নির্দেশ, ৭ নভেম্বর জাতীয় পতাকা উত্তোলন

সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় পল ভাট্টি উল্লেখ করেন, শাহবাজের মৃত্যুর পর মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অনেকেই উগ্রপন্থীদের হামলার ভয়ে নীরব হয়ে গেছেন। এর ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ধর্ম অবমাননা আইন অপব্যবহার, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বাল্য বা জোরপূর্বক বিয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

ক্যাথলিক দাতব্য সংস্থা ‘এইড টু দ্য চার্চ ইন নিড’ (এসিএন) প্রকাশিত নিপীড়িত খ্রিষ্টানদের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বাস্তবতা তুলে ধরতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পল ভাট্টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তদন্তের দাবি জানান। তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক নির্বাচন কমিটি অথবা মানবাধিকারবিষয়ক যৌথ কমিটির নেতৃত্বে এই তদন্ত পরিচালনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এসিএনের প্রতিবেদনের সম্পাদক ড. জন নিউটন বলেন, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও সামাজিক অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় ধর্মের সঙ্গে মিলে মানুষকে নিপীড়নের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে ধর্মীয় বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে খ্রিষ্টানবিরোধী বিদ্বেষের বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, এমনকি বাদও পড়ে যায়।

আরও পড়ুন: শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বৈঠকে পূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আগামী ১ থেকে ৪ নভেম্বর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। হুমায়ুন কবির গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা ছেড়ে গেছেন। তিনি দুবাই ও লন্ডন হয়ে আজ রবিবার সেন্ট জনসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি বৈঠকের উদ্বোধনী ও নির্বাহী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক বৈঠক এবং বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে উল্লেখযোগ্য যে, গত ২৫ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে হুমায়ুন কবিরকে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান করা হয়। সফরকালে তিনি একজন মন্ত্রিসভার সদস্যের সমমর্যাদা ও প্রটোকল সুবিধা ভোগ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ বিতরণ, বিডি ক্লিনের দিনব্যাপী আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ বিতরণ, বিডি ক্লিনের দিনব্যাপী আয়োজন

প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা টিম। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সহযোগিতায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় থানা শিশু পার্কে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বনভোজন এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণ করা হয়।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বোতল দিন, গাছ নিন’ কর্মসূচি। এতে প্লাস্টিকের বোতল জমা দিয়ে গাছ সংগ্রহ করেন দর্শনার্থীরা। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে প্লাস্টিকের বোতলের পাশাপাশি চিপস ও চকলেটের প্যাকেট জমা দিয়েও গাছ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।

আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা কমানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। প্লাস্টিকের বোতল ও বিভিন্ন প্যাকেট পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিবাকর বিশ্বাস।

এ সময় দিবাকর বিশ্বাস বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অন্যতম শর্ত। শুধু প্রশাসন বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষে এককভাবে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রত্যেকে নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকলে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বিডি ক্লিনের এ ধরনের উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সমন্বয়ক মেহেদী হসান বলেন,  পরিচ্ছন্নতা শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়, এটি প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত। প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট কিংবা চকলেটের প্যাকেট যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব ভাণ্ডারিয়া গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বনভোজনের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধানুশের রাজনীতিতে প্রবেশের গুঞ্জন, ভক্তদের উদ্যোগে আলোচনা তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


ধানুশের রাজনীতিতে প্রবেশের গুঞ্জন, ভক্তদের উদ্যোগে আলোচনা তুঙ্গে

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। বহু অভিনেতা রাজনীতিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানের পর, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ধানুশও নতুন করে আলোচনায় আসেন। প্রশ্ন উঠেছে, তিনিও কি এবার রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন?

ধানুশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং ভক্তদের নিয়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিনেতার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এসব গুঞ্জনে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে একটি বেসরকারি কলেজে নারী ভক্তদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেন ধানুশ। সেখানে তিনি পদ্মফুল খোদাই করা রুপার প্রদীপ উপহার দেন, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক। এই উপহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে দিল্লি সফরে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ধানুশের সাক্ষাতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার পর অভিনেতার সঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কংগ্রেস নেতা মানিকম ঠাকুর বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি একজন জনপ্রিয় অভিনেতাকে সামনে এনে রাজনৈতিক সমীকরণে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে এআইএডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীকে কাজে লাগানো, দ্বিতীয় ধাপে কে আন্নামালাইয়ের মাধ্যমে নতুন দল গঠন এবং তৃতীয় ধাপে কোনো অভিনেতাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা।

অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকের কিছু নেতা ধানুশকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ধানুশের সম্ভাব্য প্রবেশের জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে তার ভক্ত সংগঠনের সাম্প্রতিক পরিবর্তন। ১৪ অক্টোবর ভক্ত সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে ‘ধানুশ ওয়েলফেয়ার মুভমেন্ট’ রাখা হয়েছে। এরপর সংগঠনের নতুন পতাকা ও প্রতীক চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সংগঠনের নেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবা জানিয়েছেন, পতাকাটি নতুন নয়। এটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। পতাকার মাঝখানে লাল তারকা ও ধানুশের ছবি রয়েছে। দুই পাশে তামিল ভাষায় লেখা ‘এন্নামপোল থান ভাঝক্কাই’। এর অর্থ, মানুষের জীবন তার চিন্তারই প্রতিফলন।

শুধু ভক্ত সংগঠন নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ধানুশের সংগঠনের। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনে শিক্ষার্থীদের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিনা মূল্যের পাঠদানকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এসব কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন শিক্ষক ও একজন সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের বেতনের দায়িত্বও নেবে সংগঠনটি।

এ ছাড়া সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তার জন্য রাজ্যজুড়ে তিন হাজার আইন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২৭ জুলাই তিরুভাল্লুর জেলায় এক অনুষ্ঠানে ভক্তদের উদ্দেশে ধানুশ বলেছিলেন, শুধু তার সিনেমার মুক্তি কিংবা গানের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেই হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও বড় কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। তার এই বক্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

এক ভক্তের দাবি, ২০২৫ সাল থেকেই নিয়মিত সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন ধানুশ। তৃণমূল পর্যায় থেকে নিজের সমর্থকগোষ্ঠীকে সংগঠিত করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। ওই ভক্তের আরও দাবি, ধানুশের সমর্থকদের একটি বড় অংশ ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়কে ভোট দিয়েছিলেন।

তবে এতসব আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেও ধানুশের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, আপাতত অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত তিনি। তার আগামী ছবি ‘ওএম’-এর পরিচালক রাজকুমার পেরিয়াসামিও রাজনীতিতে ধানুশের যোগ দেওয়ার গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিতে চাননি। পরিচালকের ভাষ্য, ধানুশ সিনেমার প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনার কথা তার জানা নেই।

বর্তমানে ধানুশের ৫৫তম ছবির কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৫৬তম ছবির মহরতও সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি অন্য ভাষার সিনেমাতেও অভিনয় করছেন তিনি। ‘ওএম’ ছবিটি আগামী ২০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআইয়ের ব্যবহারে চীনের সামাজিক ক্রেডিট ব্যবস্থায় নজরদারির ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


এআইয়ের ব্যবহারে চীনের সামাজিক ক্রেডিট ব্যবস্থায় নজরদারির ঝুঁকি

চীনের সামাজিক ক্রেডিট ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ব্যবস্থা সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যের অস্বচ্ছ ব্যবহার, বৈষম্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কারণও হতে পারে। চীনের এক আইন গবেষকের গবেষণায় এ আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

গত মাসে ‘জার্নাল অব সিচুয়ান নরমাল ইউনিভার্সিটি’ সাময়িকীতে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। এর লেখক লিন জিয়ানশিং সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের একজন ডক্টরাল গবেষক। সিচুয়ান প্রদেশে সামাজিক শাসনব্যবস্থার মডেল ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন নিয়ে পরিচালিত একটি সরকারি অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা করা হয়েছে।

লিনের মতে, সামাজিক মূল্যায়নব্যবস্থায় বিগ ডেটা ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নাগরিকদের অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডকে পরিমাপযোগ্য স্কোরে রূপান্তর করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির সম্ভাব্য আচরণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া এবং তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, এআইনির্ভর এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়ালেও এর ফলে তথ্যের অস্বচ্ছতা, ব্যাপক নজরদারি ও বৈষম্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা ও ঋণ পাওয়ায় প্রভাব

লিনের গবেষণায় বলা হয়েছে, সামাজিক মূল্যায়নব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির স্কোর বেশি বা কম হওয়ার বিষয়টি সরাসরি তার অধিকার ও দায়িত্বে প্রভাব ফেলছে বলে মনে না-ও হতে পারে। তবে বাস্তবে স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়া এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে, তা এ মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করতে পারে।

গবেষকের আশঙ্কা, নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করা হলে এ ব্যবস্থা একপর্যায়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার থেকে আচরণগত নজরদারির মাধ্যমে পরিণত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তথ্যের গুণগত মান এবং স্কোর নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত অ্যালগরিদমের নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্যের মান, মডেল তৈরির পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধরন—সবকিছুই এ ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন লিন।

তার মতে, কঠোর তথ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি না থাকলে নাগরিকদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ডের তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হবে।

চীনের সামাজিক ক্রেডিট ব্যবস্থা কেমন

চীনের সামাজিক ক্রেডিট ব্যবস্থা পশ্চিমা বিশ্বে প্রায়ই নাগরিকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও স্কোরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের একটি বিস্তৃত কাঠামো হিসেবে আলোচিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গত বছর প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এ ধারণার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধ অনুযায়ী, চীনের সামাজিক ক্রেডিট ব্যবস্থা একক ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো অভিন্ন নেটওয়ার্ক নয়। বরং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পরিচালিত একাধিক উদ্যোগ ও পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার সমন্বয়ে এটি গড়ে উঠেছে।

এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে গুরুতর আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কালো তালিকাভুক্ত করা, আর্থিক ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরি এবং বিভিন্ন শহরের স্থানীয় সরকারের পরিচালিত মূল্যায়নব্যবস্থা। কিছু স্থানীয় ব্যবস্থায় নাগরিকদের আচরণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পুরস্কার ও শাস্তির বিধানও রয়েছে।

স্ট্যানফোর্ডের নিবন্ধে বলা হয়েছে, চীনের অল্পসংখ্যক শহরে এ ধরনের স্থানীয় ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সামাজিক ক্রেডিট কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সরকারি সেবায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে চীন

চীনের সরকার সামাজিক শাসনব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিষদ প্রকাশিত একটি কর্মপরিকল্পনায় সরকারি খাতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে এআইয়ের ব্যবহার এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়।

এর লক্ষ্য হলো এমন একটি জনসেবাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের প্রয়োজন যথাযথভাবে শনাক্ত করা, আগাম সেবার পরিকল্পনা করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

এর উদাহরণ হিসেবে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশের একটি সামাজিক সহায়তা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর তথ্যভান্ডার তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক সেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।

লিনের মতে, সামাজিক মূল্যায়নব্যবস্থা নাগরিকদের প্রয়োজন শনাক্ত করা, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া এবং প্রশাসনিক সম্পদ বণ্টনে সরকারকে সহায়তা করতে পারে। তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তথ্যের মান, নির্ভরযোগ্য অ্যালগরিদম এবং প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ জরুরি।

তার গবেষণায় মূলত সতর্ক করা হয়েছে, যথাযথ নীতিমালা ও তদারকি ছাড়া সামাজিক মূল্যায়নব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ালে জনসেবা উন্নত করার প্রযুক্তি নাগরিকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%