০৫:১৪ পি.এম
পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের অধিকার আদায়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহত খ্রিষ্টান মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির ভাই পল ভাট্টি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামি উগ্রপন্থীদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শাহবাজ ভাট্টি ২০০৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘুবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন মন্ত্রিসভার একমাত্র খ্রিষ্টান সদস্য। মন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালে গোজরা দাঙ্গায় হামলার শিকার খ্রিষ্টানদের পক্ষে তিনি কথা বলেন এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া খ্রিষ্টান নারী আসিয়া বিবির পক্ষেও অবস্থান নেন। আসিয়া বিবি দীর্ঘ আইনি লড়াই ও কয়েক বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে কানাডায় আশ্রয় নেন।
ক্রিশ্চিয়ান টুডের খবরে প্রকাশ, খ্রিষ্টানদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ায় শাহবাজ ভাট্টিকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ২০১১ সালে পাকিস্তানি তালেবানের সদস্যদের হাতে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার মৃত্যুর পর ভাই পল ভাট্টি জাতীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: সরকারের জরুরি নির্দেশ, ৭ নভেম্বর জাতীয় পতাকা উত্তোলন
সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় পল ভাট্টি উল্লেখ করেন, শাহবাজের মৃত্যুর পর মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অনেকেই উগ্রপন্থীদের হামলার ভয়ে নীরব হয়ে গেছেন। এর ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ধর্ম অবমাননা আইন অপব্যবহার, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বাল্য বা জোরপূর্বক বিয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
ক্যাথলিক দাতব্য সংস্থা ‘এইড টু দ্য চার্চ ইন নিড’ (এসিএন) প্রকাশিত নিপীড়িত খ্রিষ্টানদের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বাস্তবতা তুলে ধরতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
পল ভাট্টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তদন্তের দাবি জানান। তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক নির্বাচন কমিটি অথবা মানবাধিকারবিষয়ক যৌথ কমিটির নেতৃত্বে এই তদন্ত পরিচালনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে এসিএনের প্রতিবেদনের সম্পাদক ড. জন নিউটন বলেন, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও সামাজিক অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় ধর্মের সঙ্গে মিলে মানুষকে নিপীড়নের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে ধর্মীয় বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে খ্রিষ্টানবিরোধী বিদ্বেষের বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, এমনকি বাদও পড়ে যায়।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন