মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৯:০০ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৪০ কেজি গাঁজাসহ মো. সোহাগ প্রকাশ সোহান (নাম) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা ৭ নং সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার হেফাজত থেকে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ কাশিনগর গ্রামের মৃত হুমায়ুনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে এর আগে চারটি মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা গাঁজা উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে বিজয়নগর থানায় একটি মাদক মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জে নৌকায় ভাসমান বেদে ও জেলে সম্প্রদায়ের উপর তথ্য হালনাগাদ এবং তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বাবুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ কার্যক্রমটি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নির্দেশনায় এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এর আওতায় রহমতপুর ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকা, আড়িয়াল খাঁ নদীর মীরগঞ্জ সংলগ্ন নদীতীর, এবং সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় অবস্থানকারী বেদে ও ভাসমান জেলে সম্প্রদায়ের তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এবং সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান শিমুল সিকদার এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রনেতা মো. আজিজুল হককে।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল ১১টার দিকে বাবুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এ সময়ের উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এফ এম নাজমুস সালেহীম খান, রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজন শিকদার, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আজিজুল হক, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক আল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রাথমিকভাবে রহমতপুর ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক বেদে ও ভাসমান জেলে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নদী ও নৌকায় ভাসমান অবস্থায় জীবনযাপন করা এসব মানুষের প্রকৃত সংখ্যা, পেশা, পরিবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হলে তাঁদের জন্য সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“জনসেবার জন্য প্রশাসন”- এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সরাসরি মানুষের কথা শুনছেন। গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার কথা শোনার পর তাৎক্ষণিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
বুধবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা, চিকিৎসা ব্যয়, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষাভাতা, ঘর মেরামতসহ নানা ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে হাজির হন। জেলা প্রশাসক গণশুনানিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যেসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শামীমা সুলতানা স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে গণশুনানিতে আসেন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এত সহজে ডিসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করা যায়। তিনি আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। এতে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি।”
নিজের বসতঘরের সমস্যার কথা জানাতে আসেন মো. শাহজাহান আলী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও সমাধান না পেয়ে গণশুনানিতে বিষয়টি জানান। পরে তার ঘর মেরামতের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে বই কেনার জন্য সহযোগিতা চাইতে আসে এক শিক্ষার্থী। জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানালে বই কেনার জন্য সহযোগিতা দেওয়া হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, “আমি বইয়ের জন্য এসেছিলাম। ভাবতেই পারিনি স্যার আমার কথা শুনে সহযোগিতা করবেন।”
গণশুনানিতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কাছে সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন। পাশাপাশি দ্রুত সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থাও বাড়ছে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা। একজন ব্যক্তি যখন তার সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেন, তখন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বিধি অনুযায়ী যতটা সম্ভব দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “গণশুনানির মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সরকারি সেবা পেতে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তি আরও কমবে। এছাড়া গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হарুন মোল্লা ফাউন্ডেশন মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে, অসহায় ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুল্লাহ।
জানা যায়, আমজাদ হোসেন চিকিৎসা সহায়তার জন্য হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। তাঁর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সামগ্রিকভাবে আমজাদ হোসেনকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ ভর্তি করার জন্য।
এদিকে, ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অসুস্থ একজন মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়; বরং এর মাধ্যমে একটি অসহায় পরিবারের মাঝে নতুন করে আশার আলো জ্বলে ওঠে। হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়দের সহযোগিতা করা।
ফাউন্ডেশন আমজাদ হোসেনের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতার জন্য সকলের কাছে আন্তরিক দোয়া কামনা করছে। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার হাতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হচেছ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের মৃত্যুর পর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার জেরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মারুফ সেরনিয়াবাত মো. মজিবুর রহমান সেরনিয়াবাতের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শীলা আক্তার গত ২৫ জুলাই নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এ ঘটনার পর শীলা আক্তারের বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদি হয়ে ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মৃতের স্বামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মৃত শীলা আক্তারের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৫ জুলাই বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের কারণে শীলা আক্তারকে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত মারধর করেন। পরে ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ স্থানীয়রা দেখে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনটি কন্যা সন্তানের জননী শীলা আক্তার ছিলেন গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
শীলা আক্তার ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। মৃত শীলা আক্তারের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত তার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে এবং বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায়ই অকারণে মারুফ তার স্ত্রী শীলা আক্তারকে মারধর করতেন।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসার পর বুধবার দুপুরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ