শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৬ এম
শেরপুরের নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্য বকসহ বিভিন্ন বন্য পশু-পাখি শিকার বন্ধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। বিশেষ অভিযানে এক পাখি শিকারিকে তিনটি বক ও শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে জমে থাকা পানিতে মাছ ও জলজ ছোট প্রাণী খেতে প্রতিবছরের মতো এবারও বক নামতে শুরু করেছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে বন্য বক শিকার করছে। খাদ্যের সন্ধানে আসা বকগুলোই শেষ পর্যন্ত মানুষের শিকারে পরিণত হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাণিবৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাল-বিল ও নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিতে কলাগাছ ও কলাপাতা দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ছোট ঘরের ভেতরে বসে পালিত বক উড়িয়ে বন্য বককে আকৃষ্ট করা হয়। বন্য বক ঘরের ওপর বসামাত্র ভেতর থেকে তাদের পা টেনে ধরে শিকার করা হয়। এছাড়া বিষটোপ, চিকন প্লাস্টিকের সুতার ফাঁদ এবং বড়শিতে ছোট মাছ বা ব্যাঙ গেঁথেও অবাধে বক শিকার করা হচ্ছে।
এ ধরনের বন্য পাখি শিকারের খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন যৌথভাবে বন্য পাখি রক্ষায় মাঠে কাজ শুরু করে। তাদের উদ্যোগে বুধবার শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি। এ সময় ওই গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে তিনটি বক ও বক শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিন প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি শিকারের সরঞ্জাম জব্দ এবং মোট ১২টি জীবিত বক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা বকগুলো উপস্থিত স্থানীয়দের সামনে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বন্য পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা জানান, এলাকায় এভাবে অবাধে বক শিকার করা হচ্ছে; এই তথ্য আগে তাদের জানা ছিল না। এখন থেকে প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিত নজরদারি করবেন।
তারা বলেন ‘বন্য পশু-পাখি শিকার পরিবেশ ও প্রাণিবৈচিত্র্য ধ্বংসের একটি বড় হুমকি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু বক নয়, কোনো বন্য পশু-পাখিই শিকার করতে দেওয়া হবে না। বন্য পশু-পাখির শিকারি সে যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক মুগনিউর রহমান মনি, পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানিসহ আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্য পশু-পাখি শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২ কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া এসব নিয়োগে সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান।

গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় ১২ জন কর্মচারীর নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের সবার স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তাঁদের মধ্যে আটজনের বাড়ি ফতেহপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকায় বলে প্রাপ্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদের ঠিকানা হাটহাজারীর আলমপুর, চন্দ্রপুর, ফটিকা, পশ্চিম ধলই ও মীরেরখীল এলাকায়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগার মো. জোনায়েত হোসাইন মারুফ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নমুনা সংগ্রাহক মোহাম্মদ আদিল ও নার্সারি সহকারী মো. হানিফ, সূর্যসেন হলের ঝাড়ুদার মো. শাওন, মার্কেটিং বিভাগের ঝাড়ুদার মো. সাইম উদ্দীন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পিয়ন শহীদুল ইসলাম রিপন, জাদুঘরের মালী মাহী আল মাহাবুব, শাহজালাল হলের বার্তাবাহক শাহরিয়ার শহীদ রাফি, ফরেস্ট্রি বিভাগের পিয়ন মাহফুজ আলম ও হেলপার মাহমুদুল হোসাইন এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের পিয়ন মেহেদি সুলতান ও মো. ইমতিয়াজ।
নিয়োগপ্রাপ্তদের কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে।
বিশেষ করে মোহাম্মদ আদিলকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদি সুলতানকে ফতেহপুর এলাকার যুবলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিক প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, মেধা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নিয়োগে আঞ্চলিক ও দলীয় বিবেচনার প্রভাব থাকার প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মীকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগে যাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগ প্রত্যাহারের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
তবে নিয়োগে আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার অভিযোগ নাকচ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
চবি রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেন, ১২ জন নিয়োগ পেয়েছে, তারা সবাই হাটহাজারীর—এটা সত্য। কিন্তু আমরা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেখিনি, আমরা তাদের যোগ্যতা দেখেছি।
নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আগামী সিন্ডিকেট সভায় প্রশ্ন তোলার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মানজুরুল কিবরিয়া। তিনি বলেন, গত সিন্ডিকেটে সময়স্বল্পতার কারণে ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা দেখার সুযোগ হয়নি। সেখানে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলব।
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন না। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমার মনে হয়, আমাকে এ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত না করলে ভালো হয়।
এদিকে নিয়োগে নিজের এলাকার পরিচয় প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। উপাচার্যের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যতার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরি পেয়েছেন। কেউ তার এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে নিয়োগ পেয়েছেন—এমনটি হয়নি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান চলতি বছরের ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বাড়িও হাটহাজারী উপজেলার মদনহাট এলাকায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাতে কেনাকাটার প্রয়োজনে হয়তো প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে কোনো মার্কেটে যাওয়ার আগে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি অবশ্যই জানা থাকা জরুরি। তা না হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে, সেই সঙ্গে মনও খারাপ হবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল ও এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার মার্কেট
আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাঁটারা, বড় কাঁটারা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট
বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঁনখারপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছে অতি পরিচিত একটি শব্দ ‘ঝুপড়ি’। কখনো কলার ঝুপড়ি, কখনো সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কখনোবা লেডিস ঝুপড়ি। এসব ঝুপড়ি মূলত ক্যাম্পাসের চা-নাস্তা ও খাবারের ছোট ছোট দোকানের সমাহার। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো শুধু খাবারের দোকান নয়। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে ঝুপড়িগুলো হয়ে ওঠে তাদের আড্ডার ঠিকানা। চায়ের চুমুকে চলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবার কখনো জমে ওঠে দলবদ্ধ পড়াশোনা, গিটারের সুর কিংবা কাহন ও টেবিল চাপড়ে গানের আসর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শাটল ট্রেন, প্রশাসনিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতিকাতর অংশের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এসব ঝুপড়ি। ক্লাস থাকুক বা না থাকুক, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝুপড়িতে জমে আড্ডা।
চবিতে সবচেয়ে পরিচিত ঝুপড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কলার ঝুপড়ি ও লেডিস ঝুপড়ি। সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদের পার্শ্ববর্তী ঝুপড়িগুলোর নামকরণ হয়েছে সংশ্লিষ্ট অনুষদের নাম অনুসারে। আর মেয়েদের হলের কাছাকাছি হওয়ায় একটি ঝুপড়ির নাম হয়েছে লেডিস ঝুপড়ি।
তবে নাম শুনে এটি শুধু মেয়েদের জন্য—এমন ধারণা হওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে লেডিস ঝুপড়ি সবার জন্যই উন্মুক্ত। বরং সন্ধ্যার পর সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে এই ঝুপড়ি। সমাজবিজ্ঞান ও কলার ঝুপড়িতেও ক্লাসের ফাঁকে চলে আড্ডা ও গান। কখনো খেলাধুলা কিংবা রাজনৈতিক তর্কে এসব জায়গা হয়ে ওঠে যেন টকশোর মঞ্চ।
এসব ঝুপড়ির অনেক দোকানি কয়েক যুগ ধরে ব্যবসা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ঘটনাপ্রবাহেরও সাক্ষী তারা। এমনই একজন মো. আলমগীর। তিনি সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়িতে ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করছেন।
আলমগীর জানান, দীর্ঘ সময়ে তার দোকানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর স্মৃতি জড়িয়ে গেছে। বহু সাবেক শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে এলে ঝুপড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।
লেডিস ঝুপড়ি যেন ছোট্ট এক ভ্রাম্যমাণ বাজার। এখানে মেয়েদের পোশাক, চুড়ি, স্যান্ডেল ও প্রসাধনসামগ্রীর পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকানও।
ছাত্রী হলগুলোর আশপাশে খাবারের দোকান তুলনামূলক কম থাকায় হলের খাবারের পর অনেক শিক্ষার্থীর ভরসা হয়ে ওঠে লেডিস ঝুপড়ি। এখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের খাবার ও নাশতা।
অন্যদিকে কলার ঝুপড়ির ভর্তা-ভাতের জন্য পরিচিত মোজাম্মেলের দোকান। মোজাম্মেল বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কই তাকে এখানে ধরে রেখেছে। স্বল্প দামে খাবার বিক্রির পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে পরে টাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানান তিনি।
বিশেষ দিবসগুলোতে ঝুপড়িগুলো ধারণ করে অন্যরকম রূপ। পয়লা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে এসব এলাকায় থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সম্প্রতি চারুকলা ইনস্টিটিউট শহর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর কলার ঝুপড়ির আশপাশ আরও প্রাণবন্ত হয়েছে। রঙতুলির আঁচড়ে ঝুপড়ির দেয়াল, আঙিনা আর চায়ের টেবিলও যেন হয়ে উঠেছে শিল্পের অংশ।
এই তুলির আঁচড়ে যাদের হাত, তাদের একজন চারুকলার শিক্ষার্থী তানজিনা প্রমি। তিনি বলেন, ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে প্রতিদিন এখানে আসা হয়। বিশেষ বিশেষ দিবস কিংবা উপলক্ষেও আঁকাআঁকি তো আছেই। অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই জায়গাটার সঙ্গে।
অর্থনীতির সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময়ও একসময় ঝুপড়িতে গান-বাজনা করতেন। ঝুপড়ির কথা উঠতেই তিনিও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবনের নানা আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এসব জায়গার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা ঝুপড়ির দোকানগুলো যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে। একই সঙ্গে এসব ঝুপড়িকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ঝুপড়ি শুধু চা-নাস্তার দোকান নয়, বরং ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতি ও সংস্কৃতিরও একটি অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাস ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল এবং আজ শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ