বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:০৯ পি.এম
ঝিনাইদহে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তুহিন রেজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুইজন হলেন- স্থানীয় ইয়াফাত ফিলিং স্টেশনের মালিক ও আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদুল হক সোহাগ এবং নলডাঙ্গা গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন।
ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দক্ষ দল জেলার বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তাদের গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বুধবার মধ্যরাতে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে থেকেই নাশকতা ও সন্ত্রাস দমন আইনে কালীগঞ্জ থানায় মামলা বিচারাধীন ছিল। তারা পলাতক অবস্থায় নাশকতার পরিকল্পনা ও গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কাজ করছিল। নাশকতা ও সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছেছে ভারত। সকালে প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। ফলে নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে স্বর্ণ জয়ের মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।
টস জিতে প্রথম ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কার জন্য চরম আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়। তরুণ ও প্রায় অপরিচিতদের নিয়ে টুর্নামেন্টে আসা লঙ্কানদের বিপক্ষে সোনার পদক জয়ের দৃঢ় প্রত্যয়ে নামা ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই তাণ্ডব চালাতে থাকে। টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের নিয়মিত তারকাদের নিয়ে গঠিত শ্রেয়াস আইয়ারের শক্তিশালী দল নির্ধারিত ওভারে ১৬৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।
১৭০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ৪৫ রানেই লঙ্কানদের পুরো ইনিংস শেষ হয়ে যায়, ফলে ১২৪ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
ভারত-পাকিস্তান বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন স্বর্ণের লড়াইয়ের দিকে। অন্যদিকে, ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ দল ব্রোঞ্জ বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া কক্সবাজার ও মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ এই প্রস্তাবিত ফ্লাইট কক্সবাজারকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যে এ অগ্রগতি ঘটেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার থেকে বিদেশি এয়ারলাইনসকে আকৃষ্ট করে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একই সঙ্গে আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থলবেষ্টিত নগরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার-কাঠমাণ্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুরও পরিকল্পনা করছি। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য।’
কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল একটি গন্তব্যের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রস্তাবিত এসব রুটকে।
তবে এয়ার এশিয়া কবে থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে, কিংবা সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনই জানাননি মন্ত্রী।
এয়ার এশিয়ার এই আগ্রহকে কক্সবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে সরকার বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসকে যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে।
এর আগেও মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য সরকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
সর্বশেষ এই উদ্যোগে সেই প্রচেষ্টায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এয়ার এশিয়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্ভাব্য বিদেশি অপারেটর হিসেবে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি শেষে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনাল দিয়ে হবে। তবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন বর্তমান টার্মিনাল দিয়েই হবে। অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর পুরনো টার্মিনালে গিয়ে বিমানে উঠবেন।
প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি সরঞ্জাম, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রয়েছে।
টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বেবিচক রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করেছে।
বর্ধিত রানওয়েটি বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। এটি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, মালয়েশিয়া, নেপাল, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে হোটেল ও রিসোর্টে বিনিয়োগ বাড়বে এবং পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের কার্যক্রম, যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি এবং পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে সামনে রেখে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এয়ারলাইনসগুলোর আগ্রহকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে রূপ দেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুটিংয়ের সময় পিছলে পড়ে হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। ৮৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা জানিয়েছেন, চোটের কারণে দাঁড়াতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র সর্বশেষ পর্বে অমিতাভকে অন্যান্য দিনের মতো দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপস্থাপন করতে দেখা যায়নি, বরং তিনি বসে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন শুটিংয়ের সময় পিছলে পড়ার ফলে হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন।
অমিতাভ জানিয়েছেন, চোটটি গুরুতর নয়। তবে হাঁটুর সমস্যার কারণে দাঁড়াতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। প্রতিযোগীদের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও তিনি বসে থেকেই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানের দর্শক ও প্রতিযোগীরা অমিতাভের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ক্ষমতাসীন দলের কট্টরপন্থী আইন প্রণেতা হামিদ রাসাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি দেশের বর্তমান সংসদে দায়িত্ব পালনকালে কারাগারে যাওয়া প্রথম ক্ষমতাসীন এমপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। রাসাইয়ের কারাদণ্ডের ঘটনায় সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেইয়ের বিরুদ্ধে অতি-রক্ষণশীলদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের কারণে রাসাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই প্রতিবেদনে গালিবফের বিরুদ্ধে সংসদীয় নথি বিকৃত করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে একটি বিশেষ ধর্মীয় আদালত রাসাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে দেশটিতে যখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন রাসাইয়ের কারাদণ্ড ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভাজনকে আরো স্পষ্ট করেছে। রাসাই ইরানের অতি-রক্ষণশীল রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তার কারাদণ্ড নিয়ে অতি-রক্ষণশীলদের একাংশ গালিবফ ও মোহসেনি-এজেইয়ের ভূমিকার সমালোচনা করছেন।
তবে রাসাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত কারণ এবং আদালতের রায় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই এসব দাবিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালে তেহরান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হামিদ রাসাই। এর আগে তিনি কট্টরপন্থী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘৯ দে’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ‘গালিবফের সংসদীয় নথিতে কারসাজি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে রাসাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনের জন্য তার বিরুদ্ধে অন্যদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে রাসাই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গালিবফ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। রাসাই একজন ধর্মগুরু হওয়ায় তার মামলার বিচার করা হয় ধর্মগুরুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আদালতে।
বাস্তববাদী বনাম কট্টরপন্থী
আইআরএএম সেন্টার ফর ইরান স্টাডিজের (আইসিআইএস) গবেষক রহিম ফারজাম মন্তব্য করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের রক্ষণশীল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে ক্রমেই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছে। এক পক্ষকে তিনি আলোচনার পক্ষে থাকা বাস্তববাদী এবং অন্য পক্ষকে আলোচনার বিরোধী কট্টরপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার মতে, এই দুই পক্ষ ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কৌশল ও নীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই ধারণা এখন শুধু গণমাধ্যমেই নয়, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ও রাজনীতিক মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা থেমে যাওয়ার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নয়।
অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা
শিক্ষাবিদ রহিম ফারজাম বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ ও অচলাবস্থাও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা থেমে যাওয়ার একটি কারণ।
তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দায় যদি প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ওপর দেওয়া যায়, তাহলে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ব্যর্থতার রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো যায়।’ ফারজাম আরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনের বিষয়টি কূটনৈতিক অগ্রগতি না হওয়ার একটি সহজ ব্যাখ্যা হিসেবে কাজ করছে।
এর ফলে ওয়াশিংটন একদিকে নিজেকে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে তুলে ধরতে পারে, অন্যদিকে আলোচনায় অচলাবস্থার দায় ইরানের বিভক্ত ও অসংগঠিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থার ওপর দিতে পারে।
ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
তবে আইসিআইএসের জন্য লেখা এক প্রতিবেদনে ফারজাম বলেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি ঐক্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—তিনটি বিভাগই নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও একই বার্তা দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সব মিলিয়ে এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বিভক্ত, এমন ধারণার বিরোধিতা করার জন্য একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য দেখায় যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কোনো নিয়ন্ত্রণহীন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নেওয়া হচ্ছে না।’
কট্টরপন্থীদের সমালোচনা ও বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি
রাসাইকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় পায়দারি পার্টি এবং সাবেক পারমাণবিক আলোচক সাঈদ জলিলির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী রাজনীতিক ও গণমাধ্যমগুলো তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। রাসাইয়ের সমর্থকেরা গালিবফের বিরুদ্ধে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার অভিযোগ করেছেন। তারা আরো অভিযোগ করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের চেয়ে গালিবফ ব্যক্তিগত বিরোধকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কোমের আইনপ্রণেতা মোহাম্মদ-মানান রাইসি গালিবফসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। দুই বছর আগে কোম শহরে সাঈদ জলিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাইসি।
রাইসি লিখেছেন, ‘আমার মনে হয়, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ আপনাকে কোনো মসজিদ, সমাবেশ, জনসমাগম বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেতে দেবে না। সেখানে আপনি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন।’
রাজা নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পায়দারি পার্টির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মেসাম নিলি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবিচার ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পায়দারি পার্টির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে একটি ‘অভ্যুত্থান’ চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।
কট্টরপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মোহসেন মাগসুদি প্রশ্ন তুলেছেন, ঐক্য বজায় রাখতে এবং লাখ লাখ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করা একজন এমপিকে ১০ মাসের জন্য দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ঠেকাতে তিন বছর আগের একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে করা অভিযোগ কেন প্রত্যাহার করা হলো না।
সাম্প্রতিক কয়েকটি সরকারপন্থী রাতের সমাবেশেও এই সমালোচনা দেখা গেছে। তাবনাক ওয়েবসাইট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কট্টরপন্থীদের রাসাইয়ের সমর্থনে এবং গালিবফের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাবনাক তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, অল্পসংখ্যক মানুষ এসব সমাবেশকে নিজেদের দলীয় স্বার্থ পূরণের জন্য ব্যবহার করছে।
আসল প্রশ্ন
ফারজাম বলেন, ‘আসল প্রশ্ন হলো, ইরানের মধ্যে মতবিরোধ আছে কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, এসব মতবিরোধ কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?’
আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া ফারজাম বলেন, ‘এ বিষয়ে বাইরের অনেক পর্যবেক্ষক যে ধারণা করছেন, তার পক্ষে প্রমাণ খুব বেশি শক্তিশালী নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাই এই বিষয়টিকে শুধু আলোচনার পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা দুই পক্ষের লড়াই হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটিকে এমন একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা ভালো, যেখানে একই রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে বিভিন্ন মতাদর্শ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা মতবিরোধ সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বিশৃঙ্খলা আর বিভাজন এক নয়
ফারজাম বলেন, ইরানের নেতৃত্বকে একই সময়ে নানা ধরনের চাপ সামলাতে হচ্ছে। একদিকে তাদের কৌশলগতভাবে নমনীয় থাকতে হচ্ছে, অন্যদিকে আত্মসমর্পণের মতো কোনো বার্তা এড়াতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধরে রাখা, অতিরিক্ত উত্তেজনা ঠেকানো এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আদর্শের প্রতিও অনুগত থাকতে হচ্ছে।
ফারজামের মতে, এটি একটি কঠিন ‘ভারসাম্য রক্ষার কাজ’। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ থাকতেই পারে এবং বাইরে থেকে কখনো কখনো পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে প্রতিষ্ঠানের ভেঙে পড়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। সহজ কথায়, বিশৃঙ্খলা আর বিভাজন এক বিষয় নয়।
ফারজাম বর্তমানে তুরস্কের এসকিশেহির ওসমানগাজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পিএইচডি করছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ইরানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ