০৯:৫৩ এম
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গত চার বছরে আমদানি করা ২৫০টি পণ্যবোঝাই কনটেইনারের হদিস না পাওয়া নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস হাউজের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মধ্যে পাল্টাপাল্টি চিঠি চালাচালি চলছে। কাস্টমস হাউজের অভিযোগ, ছয় দফা চিঠি দিয়েও কনটেইনারের অবস্থান জানা যায়নি। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি হলো, নিয়ম মেনেই ৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন অফডক ও নিলামের জন্য সংরক্ষণ করা আছে।
বিদেশ থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যদি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়, তাহলে কাস্টমসের শুল্কায়নসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই তা ডেলিভারি দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ বন্দরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পণ্যবোঝাই ২৫০টি কনটেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ৫ শিশু আহত, এক শিশু আইসিইউতে ভর্তি
চিঠিতে বোঝানো হয়, ২০২১ সালে ৮৩টি, ২০২২ সালে ৬১টি, ২০২৩ সালে ৪০টি এবং ২০২৪ সালে ৬৬টি কনটেইনারের অবস্থান জানা যায়নি। চোরাচালান, রাজস্ব ফাঁকি বা সন্দেহজনক পণ্যের তথ্য পাওয়ায় এসব কনটেইনার খালাস স্থগিত অথবা লক করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যচালানের ক্ষেত্রে আগের তথ্য, বিভিন্ন উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পুরো চালানে লক দেয়া হয়।
অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমসের অভিযোগে উল্লেখ করা ২৫০টি কনটেইনারের মধ্যে ১৬৪টি পণ্যচালানে ২৯৩টি এফসিএল বক্স এবং ৮৩টি পণ্যচালানে এলসিএল কার্গো রয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে ৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। ৭০টি কনটেইনার বিভিন্ন প্রাইভেট ডিপোতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৩১টি কনটেইনার এখনো বন্দরের ইয়ার্ডে রয়েছে। এছাড়া কাস্টমসের চিঠিতে ৪০টি চালানের ভুল বিএল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো কনটেইনারও হারিয়ে যায়নি। এ নিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাস্টমসকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, কোনো কনটেইনার বা পণ্যচালান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যচালানের তথ্য চেয়েছিল এবং তার জবাবে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে
আমদানি করা পণ্যবোঝাই কনটেইনারের হদিস না পাওয়া নিয়ে দুই সংস্থার এই চিঠি চালাচালি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে যেমন পণ্য গায়েব হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়, তেমনি আমদানিকারকরাও কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত করে এ জটিলতার সমাধান করতে হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, কনটেইনার উধাও হওয়ার পেছনে কোনো দুষ্টচক্র থাকতে পারে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই খুঁজে বের করতে হবে।
বাফার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের অনেক সময় কনটেইনারে যে পণ্য আনে, তার সঠিক ঘোষণা দেওয়া হয় না। আমরা ব্যবসায়ীরাও চাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা আর না ঘটুক।
প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ আমদানি-রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। এসব কনটেইনার বন্দরে প্রবেশ ও ডেলিভারির সময় অন্তত চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হয়। জনপ্রিয় চোরাচালান বা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহ হলে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্যের ডেলিভারি আটকে দিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কায়িক পরীক্ষা করে।
আরও পড়ুন: ডান পাশে বালুচোর-বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না: রুমিন ফারহানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন