১০:০৬ এম
মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি) দেশের খোলাবাজারে ডলারের নতুন দাম ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে ঘোষণা করেছে। নতুন এই দর অনুযায়ী, মানি এক্সচেঞ্জগুলো প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় ক্রয় করবে এবং বিক্রি করবে ১ টাকা বেশি দামে। সম্প্রতি খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকায় পৌঁছায়। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক মানি চেঞ্জারদের ওপর তদারকি বাড়িয়েছে। ফলে খোলাবাজারে ডলারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে এমসিএবি সভাপতি এম এস জামান নতুন দর ঘোষণা করেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।
এম এস জামান জানান, নতুন দরটি সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে জানানো হচ্ছে। ডলার বাজারের অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, "ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, ব্যাংকগুলোর। মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এ খাতে বাজার ম্যানিপুলেট বা 'গেম' করার সুযোগ নেই।"
আরও পড়ুন: মুসলিম বনাম মুসলিম যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে! হাসছে মার্কিন-ইসরাইল
তিনি অভিযোগ করেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করে ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।
এমসিএবি সভাপতি উল্লেখ করেন, মানি চেঞ্জাররা কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করে। তারা ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও আনতে পারে না। বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার মূল উৎস।
তিনি বলেন, "প্রবাসীরা কষ্টের উপার্জনের নগদ অর্থ দেশে নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ ধারায় নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে তারা।"
এম এস জামান দাবি করেন, ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মানি চেঞ্জারদের নেই। তিনি বলেন, "মানি চেঞ্জারদের মূলধন বা সক্ষমতা কতটুকু যে তারা ডলারের রেট নিয়ন্ত্রণ করবে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। অথচ বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেই অভিযোগ তোলা হয় যে মানি চেঞ্জাররা রেট বাড়াচ্ছে।"
আরও পড়ুন: জাপান ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা করলেও এবং শিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের দাম নির্ধারণ করে দিলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকে না। এ বৈষম্য দূর করে বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানো এবং অবৈধ মার্কেট বন্ধে নীতি সহজ করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এম এস জামান জানান, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে ইতিমধ্যে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন