ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

তদন্ত কমিটি গঠন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ


তদন্ত কমিটি গঠন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ

কাঁঠালিয়ায় তদন্তাধীন ঘটনায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের গভীর উদ্বেগ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগের দোসর সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রীদের যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর সাথে বিভিন্ন অজুহাতে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানি করে আসছেন। এর আগে এক থেকে দুই মাস পূর্বে 'কুলসুম' নামের এক ছাত্রীর সাথেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী একই অভিযোগ নিয়ে সামনে আসে।
তবে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা জানান, এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে বাইরে অবস্থান করায় ঘটনার বিস্তারিত তার জানা নেই। এছাড়া শিক্ষা অফিসে দাখিল করা অভিযোগের ব্যাপারে জানা গেছে, অভিযোগকারী নারী শিশুটির দূরসম্পর্কীয় আত্মীয় হলেও সরাসরি পরিবারের সদস্য নন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, স্থানীয় সালিশদারদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই টাকা অন্য এক শিক্ষকের কাছে জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনা সম্পর্কে কাঁঠালিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের দোসর এ.কে.এম জামান শুরুতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানালেও, পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুর পাল্টে বলেন, "আমি কিছু জানি না, আপনাদের কাছেই প্রথম জানতে পারলাম।"
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার মুঠোফোনে জানান, "এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক সমাজের মাঝে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন জানান, "অপরাধ যেই করুক না কেন, নৈতিকতা বা ধর্ম কখনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।"
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা অফিসে বিতর্কিত ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে থাকায় এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কাঁঠালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকে নানাবিধ অনিয়ম, যেমন—শিক্ষকদের মাসের পর মাস মৌখিক ছুটি দেওয়া ইত্যাদি নিয়ে পুরো শিক্ষা বিভাগ জর্জরিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, "অভিযোগটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে শিশুদের সুরক্ষার মূল দায়িত্ব শিক্ষকদের কাঁধে, সেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন ন্যক্কারজনক অভিযোগে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা ও দ্রুত দৃশ্যমান প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, র‌্যালি ও পুরস্কার বিতরণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিলামের নামে টেংরাগিরি বনে জীবিত গাছ লুট, আলামত মুছতে গোড়ায় আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


নিলামের নামে টেংরাগিরি বনে জীবিত গাছ লুট, আলামত মুছতে গোড়ায় আগুন

বরগুনার তালতলীতে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিলামের নামে ঝড়ে পড়া গাছের আড়ালে অর্ধশতাধিক জীবিত গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের আমতলী রেঞ্জ (তালতলী) কেন্দ্রের রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলামের যোগসাজশের মাধ্যমে এসব গাছ কাটা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নিলামের শর্ত ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে। গাছ কাটার আলামত মুছতে গাছের গোড়ায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের অধীন আমতলী রেঞ্জ (তালতলী) কেন্দ্রের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের লট নম্বর ০৫ ও ০৬-এর বিপরীতে বনজ সম্পদ উত্তোলনের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহিদুর রহমান মিয়া স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, লট দুটির মূল্য ৫৯ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৮ হাজার ৯২১ টাকা এবং ১০ শতাংশ আয়কর ৫ হাজার ৯৪৭ টাকাসহ মোট ৭৪ হাজার ৩৮৮ টাকা রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে লট দুটি ক্রয় করেন মো. সোহেল রানা।

নলবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের চর রতনের পূর্ব পাশে বাগান এলাকায় অবস্থিত ৫ নম্বর লটে মার্ক করা ১ থেকে ২৫ ক্রমিক নম্বরের ২৫টি গাছ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব গাছের মোট কাঠের পরিমাণ ৭৮ দশমিক ৩৫ ঘনফুট এবং জ্বালানি ৪৮ ঘনফুট। একই এলাকার ৬ নম্বর লটে ২৬ থেকে ৫০ ক্রমিক নম্বরের আরও ২৫টি গাছ রয়েছে। এতে কাঠের পরিমাণ ৭০ দশমিক ১৯ ঘনফুট এবং জ্বালানি ৪২ ঘনফুট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত গাছ কাটার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাছ কাটা শেষ না করে গত ১০ অক্টোবর নিলামকৃত গাছ কেটে নেওয়া হয়। পরে অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণ দেখিয়ে ১২ অক্টোবর সময় বাড়ানোর আবেদন করেন ক্রেতা সোহেল রানা। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহিদুর রহমান মিয়া স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

গত ৬ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নলবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের চর রওশনের পূর্ব পাশের বাগান এলাকায় নিলামে বিক্রি করা ঝড়ে পড়া গাছের পাশাপাশি জীবিত গাছও কাটা হচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই ট্রলারে করে গাছ নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামের আওতাভুক্ত ঝড়ে পড়া গাছের আড়ালে অর্ধশতাধিক জীবিত গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

এ সময় নিলামকৃত গাছে বন বিভাগের নির্ধারিত মার্ক থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ গাছে কোনো মার্ক বা সিল দেখা যায়নি। এমনকি বিভিন্ন গাছে একই ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে চিহ্নিত করার অনিয়মও চোখে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে আকাশমনি, ঝাউ ও বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির জীবিত গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গাছ কাটার আলামত নষ্ট করতে কয়েকটি গাছের গোড়ায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও দেখা যায়। খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলেও একাধিক জীবিত গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। তবে তিনি মাত্র একটি গাছের চারটি খণ্ড জব্দ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম নিলাম ক্রয়কারী ব্যক্তির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বনের জীবিত গাছ কাটার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেও তিনি রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে নিলামে গাছ ক্রয়কারী সোহেল রানা বলেন, ‘নিলামের মাধ্যমে আমরা শুধু ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছগুলোই কেটেছি। এর বাইরে কোনো জীবিত গাছ কাটা হয়নি। আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গেও আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কে বা কারা আগুন দিয়েছে, সে বিষয়েও আমাদের জানা নেই।’

নলবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা জহিরুল হক বলেন, ‘আগের বিট কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর কিছুদিন আগে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। একই ক্রমিক নম্বর একাধিক গাছে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, যিনি গাছগুলো মার্ক করেছেন, এটি তাঁর ভুল ছিল।’ তবে বর্তমানে ঠিক কতটি গাছ কাটা হয়েছে এবং কতটি গাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে বন বিভাগের আমতলী রেঞ্জ (তালতলী) কেন্দ্রের রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের আগেই গাছের নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তাই এ ঘটনায় আমার কোনো সুবিধা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

তবে জীবিত গাছ কাটার ঘটনা ও বনে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আকাশ মনি গাছের চারটি খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ভূঞা বলেন, ‘নলবুনিয়া ক্যাম্পে অনুমোদিত দুটি লটের আওতায় মোট ৫০টি গাছ আহরণের কার্যক্রম চলমান ছিল। এর বাইরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত একটি আকাশমনি গাছ অবৈধভাবে কাটার বিষয়টি ধরা পড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে ১০ জেলে অপহরণের শিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে ১০ জেলে অপহরণের শিকার

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে জলদস্যুরা ১০ জেলেকে অপহরণ করেছে মুক্তিপণের দাবিতে। অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের আমির আলী ও আলম সানার নেতৃত্বে দুটি জলদস্যু বাহিনী এই অপহরণ ঘটিয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকা থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয়।

অপহৃত জেলেদের মধ্যে আছেন শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী, সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী এবং কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান।

অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্য এবং অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। সেখান থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বন থেকে ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা বন বিভাগের একার পক্ষে কঠিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক তিনজনের পরিচয় প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক তিনজনের পরিচয় প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক তিনজনের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন রেজাউল করিম (৪২), সোহেল রানা (৩৩) এবং নাজমুস সাদ (৩৩)।

রেজাউল করিম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলকাঠোর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত কফিরউদ্দিন প্রামানিক। বর্তমানে তিনি ঢাকার ফকিরাপুল এলাকায় বসবাস করছেন।

সোহেল রানার স্থায়ী ঠিকানা রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার খুটিপাড়া গ্রামে অবস্থিত। তার বাবার নাম মো. ইদ্রিস আলী।

অন্যদিকে, নাজমুস সাদ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কচাপাড়া গ্রামের নিজামুল হকের পুত্র।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে টিএসসি-সংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নীলক্ষেত, সিনেট ভবনের সামনে, টিএসসি এলাকায় দুটি এবং শাহবাগ মোড়ে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল স্টেশন-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় উপস্থিত লোকজন তাদের আটক করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চদ্র রায় সাহস মন্তব্য করেন, "নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের এ ধরণের কর্মকাণ্ডে প্রতিহত করতে কর্মসূচি ঘোষণা করবে ছাত্রদল। সাধারণ মানুষ যেন নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য ছাত্রদল সর্বদা সোচ্চার থাকবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং জানান, ক্যাম্পাসের একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য তারা পেয়েছেন। টিএসসি এলাকা থেকে দুজন এবং জগন্নাথ হল এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, "কেউ গুরুতর আহত হননি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।"

আটক ব্যক্তিদের শাহবাগ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বপ্ন প্রথম টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


স্বপ্ন প্রথম টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করল

দেশের বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন প্রথমবারের মতো টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে টেকসই কৃষি, দায়িত্বশীল পণ্য সংগ্রহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘লিডিং চেঞ্জ, নারচারিং টুমরো’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগ ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ নামে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতা, কূটনীতিক, টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং স্বপ্নের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে স্বপ্নের আউটলেটের সংখ্যা ৬৮৫টি ছিল। এই আউটলেটগুলো প্রতিদিন ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি পরিবারকে সেবা প্রদান করেছে। এছাড়া, স্বপ্নে কর্মরত ৮ হাজার ৫০০ জনের বেশি কর্মী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১৯ শতাংশ নারী।

কৃষকদের সহায়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্বপ্নের অগ্রগতি প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন, টেকসই কৃষি, শোভন কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন সিএসআর সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক সোবহান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ও মিনিস্টার ইয়োশিদা আয়া, এসিআই পিএলসির গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. আরিফ দৌলা, মিৎসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) পিটিই লিমিটেডের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী এবং সিএসআর সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহামিন এস জামান।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন এবং প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ফারুক সোবহান। তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্যোগে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, "নানা চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহার এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বপ্নের উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়; ব্যবসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আস্থা তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।"

ইয়োশিদা আয়া বলেন, "খুচরা বিক্রয় খাতে খাদ্য অপচয় রোধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক পণ্য বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এ অপচয় কমাতে কার্যক্রমের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং উন্নতির সুযোগ খুঁজে বের করা জরুরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বপ্নের এ উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে, যা টেকসই ব্যবসায়িক কার্যক্রম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।"

ড. আরিফ দৌলা বলেন, "কৃষকদের ন্যায্যতা ও ভালো সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরু থেকেই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খুচরা বিক্রয় খাত গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।"

কেনিচিরো কাওয়ামোতো বলেন, "দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার সফলতার জন্য টেকসই উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসিআই ও স্বপ্ন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং টেকসই ব্যবসায়িক চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বপ্নের প্রথম টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।"

ফারজানা চৌধুরী বলেন, "অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে টেকসই উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে কৃষিবিমা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এসব উদ্যোগ বিস্তৃত করতে শক্তিশালী অংশীদারত্ব ও স্বচ্ছ প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"

শাহামিন এস জামান বলেন, "দেশের খুচরা বিক্রয় খাতের উন্নয়ন, কৃষকদের সহায়তা এবং অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনে স্বপ্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রথম টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যভিত্তিক এ প্রতিবেদন স্বপ্নের বর্তমান অবস্থান মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতি পরিমাপে সহায়ক হবে।"

এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, "বাংলাদেশের খুচরা বিক্রয় খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে অতীতের অভিজ্ঞতা ও নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর। গ্রাহক, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন সম্মিলিত এ অগ্রযাত্রা নিয়ে গর্ব করতে পারে, সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য তাঁদের।"

অনুষ্ঠানে ‘ফ্রম সয়েল টু সোল: স্বপ্ন’স সাসটেইনেবিলিটি জার্নি’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এর আগে বক্তব্য দেন এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) পরিচালক, বিপণন ও প্রবৃদ্ধি বিভাগের মো. মাহাদি ফয়সাল। ভিডিওতে কৃষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে স্বপ্নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, কর্মী, গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের অংশগ্রহণে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খুচরা বিক্রয় খাত গড়ে তুলতে অবদান রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%