ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পকেট খরচের জন্য ভাগ্নেকে বিক্রি, মামা গ্রেফতার


পকেট খরচের জন্য ভাগ্নেকে বিক্রি, মামা গ্রেফতার

দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানা-পুলিশ চার মাস বয়সী আপন ভাগ্নেকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী যুবক জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ পরে বিক্রি হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া জিয়ারুল ইসলাম পার্বতীপুর উপজেলার চন্দ্রপুর হাফেজপাড়া এলাকার মনোয়ার ইসলামের পুত্র। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিক্রি হওয়া শিশুর নাম মাহিম ইসলাম আনাস। সে দিনাজপুর সদর উপজেলার নেমতারা গ্রামের আল আমিন ইসলাম ও মনিরা বেগমের সন্তান। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি মনিরা বেগম তার চার মাসের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার চন্দ্রপুর হাফেজপাড়ায় আসেন। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শিশুটির মামা জিয়ারুল ইসলাম গোপনে ঘুমন্ত শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং মানব পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে শিশুটিকে বিছানায় না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা-মা পার্বতীপুর মডেল থানায় অভিযোগ জানান।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ২৭ মামলার আসামি পিয়াল আহম্মেদ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ছয় ধরনের অস্ত্র

অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি হওয়া স্থান থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়ারুল স্বীকার করেছে, নিজের পকেট খরচের টাকা জোগাড় করতে শিশুটিকে ৬০ হাজার টাকায় এক চক্রের কাছে বিক্রি করেছিল। তবে বিক্রির পুরো টাকা সে হাতে পায়নি।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আল আমিন ইসলাম বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে মহাষষ্ঠীতে শুরু হল ১,৯৪৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ পি.এম


নোয়াখালীতে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।

নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।

নিহতের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের মতো ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।  

চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ পি.এম


শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে না দেওয়ার লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল, অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলা, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখতে পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব হলেও এর সঙ্গে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পূজামণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল রাখা, দর্শনার্থীদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিসর্জনের সময় বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব বা অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

সভায় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওয়াদিয়া শাবাব, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যান শাখা, ট্রেজারী শাখা, সাধারণ শাখা, ব্যবসা বানিজ্য শাখা, আইসিটি শাখা, ই-সেবা) শেখ শোয়েব ইবনে রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মুকিত সরকার, কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন ও শারদীয় দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, কিশোরগঞ্জে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে কোনো ধরনের শঙ্কা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার, দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ পি.এম


শেরপুরে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার, দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে

শেরপুরের নদী, খাল এবং বিলাঞ্চলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধন চলছে ব্যাপকভাবে। এর ফলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জানা গেছে, মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পর এখন চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে দেশীয় মাছ শিকার করা হচ্ছে। মৎস্য বিভাগের অভিযানের খবর দুর্নীতিপরায়ন লোকদের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশীয় মাছ নির্বিচারে ধরে সাবার করা হচ্ছে। এই জালের ব্যবহার এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শেরপুর জেলার বিলাঞ্চলের পানি হ্রাস-বৃদ্ধি ও মাছের প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা পুঁটি, ট্যাংরা, কই, শিং, বোয়াল, শোল, টাকিসহ দেশী প্রজাতির মাছ চায়না দুয়ারির ফাঁদে নিধন হচ্ছে।

এতে নদী-নালা, খাল-বিল ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। আইন অনুযায়ী দেশে মাছ ধরার যে সব জালের অনুমোদন রয়েছে, সেগুলোর ফাঁসের একটি গিট থেকে আরেক গিটের দূরত্ব নূন্যতম সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার হতে হয়। এর চেয়ে ছোট ফাঁস হলে সে জাল আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। চলতি বছরেই চায়না দুয়ারি নিষিদ্ধ জালের তালিকাভুক্ত হয়েছে। জেলা এবং ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও নকলা বিভিন্ন হাট-বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল বিক্রি করছেন।

হাতের কাছে এবং সহজলভ্য হওয়ায় পেশাদার জেলে ও সাধারণ মানুষ এ জাল কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নালিতাবাড়ী উপজেলায়ও এই জাল ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট ফাঁসের এই জালে আটকা পড়ে শুধু দেশি মাছই নয়, আটকা পড়ছে সব প্রজাতির জলজ-জীব। স্বল্প ব্যয়ে এবং কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরতে বিপজ্জনক এই জাল ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জালের মালিকরা বলছেন, "এমন কোনো মাছ নেই যা এই জালে ধরা পড়ে না।" সচেতন মহল বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের বিলুপ্তির শঙ্কা প্রকাশ করছে। মৎস্য বিভাগ বলছে, "এই জাল সর্বনাশা। এটা বন্ধ করা হবে।" জানা গেছে, লোহার রডের গোলাকার বা চতুর্ভুজ আকৃতির কাঠামোর চারপাশে চায়না জাল দিয়ে ঘিরে এই ফাঁদ তৈরি করা হয়।

ক্ষেত্রভেদে চায়না দুয়ারি ৫২ থেকে ৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ফাঁদ দিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার ধলি বিল, গজারমারি, বগাডুবি, বাতিয়া বিল, কাটাখালি ইত্যাদি ও নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান, নয়াবিল, বাঘবেড়, যোগানিয়া ও কলসপাড় ইউনিয়নের নদী, খাল-বিলে মাছ শিকার করছেন জেলেরা।

স্থানীয়দের মতে, এই ফাঁদ বসালে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়। জালের ছিদ্র ছোট হওয়ায় ছোট-বড় কোনো মাছ বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলে দেশি মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে অন্তত কিছুটা হলেও রক্ষা পেত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, "আগে কারেন্ট জাল ব্যবহার করলেও চায়না দুয়ারি আসার পর সেটি বাদ দিয়েছি। কারণ কারেন্ট জালের চেয়ে চায়না দুয়ারিতে মাছ বেশি পাওয়া যায়। ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আটটি চায়না দুয়ারি কিনেছি।"

কলসপাড় ইউনিয়নের কয়েকজন জেলের ভাষ্য, চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরা ঠিক নয়। তবে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছেন তারা। তারাকান্দি এলাকার মৎস্য চাষি আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, "এখন চায়না জাল দিয়ে যেভাবে ছোট মাছ ধরা হচ্ছে, তাতে শুষ্ক মৌসুমে মাছের আকাল পড়বে।" তিনি এই জাল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, "যারা চায়না জাল দিয়ে পোনা মাছ ধরে টাকা রোজগার করছেন, তারাই এক সময় আফসোস করবেন।" নালিতাবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, "চায়না দুয়ারি জাল বন্ধে সচেতনতামূলক প্রচার চলছে। শিগগির এই জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেরা জানান, চায়না দুয়ারি জালে ফাঁসের আকার সাড়ে ৪ সেন্টিমিটারের চেয়েও অনেক কম। এজন্য এই জালে সব ধরনের মাছ ছেঁকে ওঠে। শুধু তাই নয়, মাছের ডিম পর্যন্ত আটকে যায় এই জালে। সহজেই মাছ ধরা যায় এবং দাম কম হওয়ায় অধিকাংশ জেলে এখন চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেন। অনেক শৌখিন মৌসুমি মৎস্য শিকারিও মাছ ধরতে নেমেছেন।

ফলে যারা পুরোনো কৌশলে মাছ ধরতেন, তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে চায়না দুয়ারি কিনছেন। নদীতে চায়না জাল বন্ধে মৎস্য বিভাগের তৎপরতা অনেকটাই দায়সাড়া গোছের বলে জানা গেছে। ফলে প্রকাশ্যেই অনেকে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেই মাছ ধরছেন। দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় সব মাছ ও নদীতে থাকা জলজ প্রাণী ধরা পড়ে।

এমনকি ছেঁকে ওঠে মাছের ডিমও। এ জাল দিয়ে মাছ ধরলে কিছুদিন পর হয়তো নদী-নালা খাল-বিলে আর কোনো মাছ পাওয়াই কঠিন হবে। তারা আরো বলেন, "কারেন্ট জালে খরচ বেশি হওয়ায় এখন চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ ধরি। কারেন্ট জালের চেয়ে চায়না দুয়ারিতে মাছ বেশি পাওয়া যায়।"

অপর এক জেলে বলেন, "আমি অনেক বছর থেকে মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করি। এখন অধিকাংশ মানুষ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ ধরেন। বাড়ির কাছের হাট-বাজারগুলোতে আকারভেদে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় পাওয়া যায় এ চায়না দুয়ারি জাল।" জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা বলেন, "এসব বেআইনি জাল জব্দ করার জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ফিরছে ব্যাটেক্সপো, ১৮-১৯ নভেম্বর পোশাক ক্রেতাদের মেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


ঢাকায় ফিরছে ব্যাটেক্সপো, ১৮-১৯ নভেম্বর পোশাক ক্রেতাদের মেলা

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) দীর্ঘ এক যুগ পর আবারও আন্তর্জাতিক পোশাক প্রদর্শনী ব্যাটেক্সপো আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এবারের ব্যাটেক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘শ্রেষ্ঠত্বের উত্তরাধিকার, উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ’ বলে জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সোমবার (৫ অক্টোবর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সোর্সিং ও সরবরাহব্যবস্থা প্ল্যাটফর্ম পিডিএস লিমিটেডের সহযোগিতায় এবারের আয়োজন হচ্ছে। এতে প্রাইমার্ক, পেপকো, এমঅ্যান্ডএস, ওয়ালমার্ট গ্লোবাল সোর্সিং, কেমার্ট, কটন অন ও এলসি ওয়াইকিকিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

বিজিএমইএর মতে, আন্তর্জাতিক এসব ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পোশাক খাতের সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন করে।

সংগঠনটি জানায়, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিকের কল্যাণ, সামাজিক কমপ্লায়েন্স, সবুজ উৎপাদন, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, পোশাকশিল্প কেবল দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস নয়, বরং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ শিল্পকে ঘিরে সুতা, কাপড়, এক্সেসরিজ, ডাইং, ওয়াশিং, লজিস্টিকস, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের একটি বড় ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি লাখো পরিবারের জীবিকা ও নারীর কর্মসংস্থানেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আয়োজকদের আশা, ব্যাটেক্সপোতে বিশ্বের ক্রেতা, ব্র্যান্ড, পোশাক উৎপাদক, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি সেবাদাতারা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সোর্সিং অংশীদারত্ব, পণ্যে বৈচিত্র্য এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাইফুল ইসলাম (অব.) স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাটেক্সপো ২০২৬-এর মূল বার্তা হলো—বাংলাদেশ শুধু বর্তমানের ক্রয়াদেশের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক পোশাক সোর্সিংয়ের জন্যও প্রস্তুত।

প্রদর্শনীর বিস্তারিত তথ্য ও কর্মসূচি পাওয়া যাবে (www.batexpo.com.bd) ওয়েবসাইটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%