ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’


ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় আজও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬৭ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের চতুর্থ দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে, কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ২২৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তাৎক্ষণিক বায়ুমান সূচকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর, যার স্কোর ২০১। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, যার স্কোর ১৬৮। মালয়েশিয়ার শহর কুচিং তালিকার পঞ্চম স্থানে ১৫৪ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার একটি শহরের বাতাসের নির্মলতা বা দূষণের লাইভ সূচক প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে ধরা হয়।

স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে সেটিকে মাঝারি বা সহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে বায়ুকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এছাড়া, ৩০১-এর বেশি স্কোর ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের স্বর্ণের দাম: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


আজকের স্বর্ণের দাম: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। ভরিতে সবশেষ ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভালো মানের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী, মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ এম


বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজতে রাতদিন কাজ করছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এজন্য নানামুখী বৈঠক ও পর্যালোচনা অব্যাহত আছে। কীভাবে দেশে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে জ্বালানি বিভাগ। পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই মনিটরিং করছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিদ্যমান সংকটের অন্যতম কারণ চারটি। এগুলো হলো : দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানের ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ খাত এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়া। তবে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বড় দায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের। যারা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি ডুবিয়ে দিয়েছে। লোডশেডিং কমিয়ে উৎপাদন বাড়ালেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরকে একেবারে বিদেশনির্ভর করে ফেলে। এছাড়া পছন্দের লোকজনকে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর অনুমতি দিয়ে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠানকে এই ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে গিয়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হতে বসেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরকে পুঁজি করে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীত করা হয়। যার ভয়াবহ ক্ষত এখন বেরিয়ে আসছে। আর খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। এ সংকট মোকাবিলা করতে বিএনপি সরকারকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন এবং ৩টি এলএনজি টার্মিনাল বসিয়ে দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। এতে এ সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৫০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করতে চায় সরকার। বর্তমান গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এ হিসাবে ৪ বছরে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে দ্বিগুণ। একই সঙ্গে কয়লার উৎপাদন বাড়াতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে বলেন, বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা হবে।

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। তবে এ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুলনীতি ও অনিয়মের ফসল। তিনি বলেন, এ সমস্যা হঠাৎ তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। 

সূত্র জানায়, জ্বালানি ছাড়াও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের উন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সাধারণ উদ্যোক্তা তৈরি করতে প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় বিদ্যুৎ কেনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাব আসতে পারে। এছাড়া তিন বছরের মধ্যে পায়রা, বড়পুকুরিয়া ও মাতারবাড়ীতে কমপক্ষে তিনটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বসিয়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতের ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী। বিশেষ করে কোনোরকম যাচাই-বাছাই না করে বিশেষ আইনে (২০১০) বেসরকারি খাতে যেখানে-সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো আউটপুট পাচ্ছে না। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। 

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, জ্বালানি খাতের ক্রমাগত চাহিদা পূরণে সরকার সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাইমারি জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহে স্থানীয় উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি আমদানিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে একটি টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসাবে আরও কমপক্ষে দুটি এফএসআরইউ স্থাপন ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সমুদ্রে ব্লক বরাদ্দে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেই দরপত্রের শেষ তারিখ আগামী নভেম্বরে। এর বাইরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে শিগ্গিরই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। 

মূল চ্যালেঞ্জ প্রাথমিক জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো : প্রাথমিক জ্বালানি অর্থাৎ তেল, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ বাড়ানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই প্রাইমারি ফুয়েল বা প্রাথমিক জ্বালানি ছাড়া দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কলকারখানা, রান্না ও পরিবহণসহ কোনো খাতই চলবে না। কিন্তু এ খাতই এতদিন বড় সংকটে আটকে আছে। 

গ্যাসের ব্যাপারে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এ মুহূর্তে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২৬০ কোটি ঘনফুটের মতো। আবার এই ২৬০ কোটির মধ্যে ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি (স্বাভাবিক সময়ে) গ্যাস আমদানি করে গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে জ্বালানি তেলের চাহিদা বছরে ৭০ লাখ টন, যার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানিতে চাহিদা পূরণ করা হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি জানিয়েছে, দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কয়লার চাহিদা পূরণ। দেশে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে কিছুটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ৬ হাজার মোগাওয়াট। সেই কেন্দ্রে বছরে দেড় কোটি টন কয়লা ব্যবহার হয়। যার শতভাগ আমদানি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সপ্তাহে সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে ১০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বলা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত (কয়লা ছাড়া) মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে এখন সরবরাহ এবং ক্রয়মূল্যে বড় ধরনের খেসারত দিতে হচ্ছে সরকারকে। এর বাইরে আওয়ামী সরকারের আমলে সমুদ্র ও ভূমিতে কোনো কূপ খনন করা হয়নি। বিশেষ করে ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার মীমাংসা হওয়ার পরও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কূপ খননের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়নি। এমনকি কোরিয়ার ডাইয়ু কোম্পানি সমুদ্রে গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে কূপ খননের জন্য তারা সরকারকে কিছু শর্ত দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেই শর্ত মানেনি। 

বিদ্যুৎ খাতে সরকারের পরিকল্পনা : বিদ্যুৎ খাতে আপাতত ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এজন্য সবার আগে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করতে ইতোমধ্যে কৌশলপত্র ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য মার্চেন্ট পাওয়ারের আওতায় বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে যে কেউ ব্যাটারিসহ সোলার প্যানেল বসিয়ে সরকারের বিতরণ কোম্পানির কাছে সাড়ে ১০ টাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পারবে। এই প্যাকেজে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে চাইছে সরকার। এ সুবিধা নেওয়া যাবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং এর মেয়াদ থাকবে তিন বছর। এছাড়া পায়রা, মাতারবাড়ী এবং বড়পুকুরিয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক তিনটি কেন্দ্র বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ীতে জমি প্রস্তুত আছে। এখন কোন পদ্ধতিতে এই কেন্দ্র বসানো হবে, সেই পরিকল্পনা হচ্ছে। এছাড়া এবার লোডশেডিং কাটাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার গ্রিড লাইনের ক্ষমতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলে পিডিবি দাবি করেছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সৌরবিদ্যুতের ৩৭টি প্রকল্পের সম্মতিপত্র (এলওআই) বাতিল করা হয়েছে, যা বিদ্যুৎ খাতের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। 

এদিকে গত সাত মাসে সরকারকে গ্যাস ও জ্বালানি তেল নিয়ে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাসের সংকট ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। 

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে এ পর্যন্ত সরকারের লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে তেলের দাম সোমবার আরও এক দফা বেড়ে ব্র্যান্ড ক্রুডের দাম ১০৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। সুতরাং তেল কিনে সরকারের এই লোকসান আরও বাড়বে। এছাড়া বেশি দামে এলএনজি কিনে কম দামে বিক্রির কারণে এ পর্যন্ত সরকার এই খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

দেশকে এগিয়ে নিতে সবার আগে জ্বালানি খাতে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে ১৫০টি কূপ খনন করে ১৭৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো হবে। আগামী ১০ বছরে আরও ৪/৫টি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বসিয়ে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। এছাড়া মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড বেইজড টার্মিনাল বসিয়ে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হবে জাতীয় গ্রিডে। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে দৈনিক ৫০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে তেলের মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তেলের মজুত আছে ৩২ দিনের। আগে এই মজুত ছিল মাত্র ১৭ দিনের। এছাড়া ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ বসানোর জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-আইডিবির সঙ্গে ইতোমধ্যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। এর বাইরে ভর্তুকি মূল্যে গরিব পরিবারকে প্রতি মাসে এলপিজি দিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিপিসিকে প্রতি মাসে ৯০ হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিপিসি ইতোমধ্যে মহেশখালী, কাট্টলী, মাতারবাড়ী, মোংলা এবং অ্যালেঙ্গায় এলপিজির ডিপো করতে উদ্যোগ নিয়েছে। 

গরম বাড়ার কারণে এবার বিদ্যুতের চাহিদা বেশ বেড়েছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অনেক কেন্দ্র ঠিকমতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। পিডিবি অভিযোগ করেছে বিদ্যুৎ খাতে ২০২২ সালে যেখানে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হতো, সেখানে এখন দেওয়া হচ্ছে ৮৭ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎ খাতে লোডশেডিং হওয়ার অন্যতম কারণ হিসাবে পিডিবি জানিয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করেনি। এই খাত ভর্তুকিনির্ভর করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে বর্তমান অর্থবছরে সরকার এ পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়েছে বিদ্যুৎ খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকা। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

মানুষ বিভিন্ন কারণে দোকানপাট ও মার্কেটে যায়। কিন্তু যদি তারা তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে দেখেন যে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যাবে। তাই মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জানা প্রয়োজন।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে

যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে সেগুলি হলো: কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া এভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরীপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা, লালমাটিয়া।

যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

এছাড়া, বন্ধ থাকবে বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমণ্ডি হকার্স, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট, অর্কিড প্লাজা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে জাহাজ চলাচল কমায় বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


হরমুজে জাহাজ চলাচল কমায় বাড়ছে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে আরও কমে গেছে জাহাজ চলাচল। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠে যায়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই দাম স্থানীয় সময় বাংলাদেশে সকাল ৬টা ২৬ মিনিটের দিকে রেকর্ড করা হয়।

 

কেপলারের প্রাথমিক তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৪টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন রোববার এই সংখ্যা ছিল ১০টি।

হরমুজ স্ট্রেইট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪৩৬টি জাহাজ স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে এই পতন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার খবরও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%