১০:৩৫ পি.এম
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার তিনটি উন্নয়ন কাজের ই-জিপি টেন্ডারে ফের একই তিনটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ায় স্থানীয় নিবন্ধিত ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। টেন্ডারের ফল প্রকাশের পর সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররা।
এরপর তারা কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, জাতীয় ই-জিপি পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। তবে, পটিয়া পৌরসভার একাধিক টেন্ডারে বছরের পর বছর একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে আসছে। এটি অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি করেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ই-টেন্ডার নোটিশ নং ০৪/২০২৫-২৬ (এলটিএম)-এর আওতায় তিনটি উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার আইডি ১৩০০০৩২, ১৩০০০৪৯ ও ১৩০০০৫৬-এর দরপত্র উন্মুক্ত করার পর লটারির মাধ্যমে কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই
এর মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহচাঁন্দ আউলিয়া (রহ.) মাজার সড়কে ইউনি ব্লক বসানোর কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে জাহিন এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৯১ টাকা ব্যয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়ি মোড় থেকে আমিরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সড়কে ইউনি ব্লক বসানোর কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে সিমিন কনস্ট্রাকশন। এছাড়া, প্রায় ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৫ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে তানজিনা এন্টারপ্রাইজ।
টেন্ডারের ফল প্রকাশের পর বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে সমান সুযোগ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের কাজ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক দরদাতা অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও বারবার একই প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ যাওয়া তাদের কাছে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাকিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাকিব হাসান বলেন, ই-জিপি পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কৌশলে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।
জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান বাবলুও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, নিয়ম মেনে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পরও বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এই কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে টেন্ডারগুলো পুনরায় আহ্বান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নাহিদুরের স্ত্রী ও দুই মেয়ের সন্ধান চায় পরিবার
এদিকে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় পটিয়া পৌরসভার সদ্য বিদায়ী সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকারের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু ঠিকাদার। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি অফিস টাইমের বাইরে পৌরসভার স্টাফদের চায়ের দাওয়াতে সেখানে গিয়েছিলাম। ওই সময় টেন্ডারের লটারির প্রক্রিয়া চলছিল এবং আমি কেবল তখন উপস্থিত হই। এতে কেউ যদি মনে করে আমি উপস্থিত থেকে কাউকে কাজ পাইয়ে দিয়েছি, এটা সঠিক নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল উপস্থিত থাকার কারণে আমাকে নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘জানা প্রয়োজন, জাতীয় ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনো সুযোগ নেই। বিধি অনুসারে যোগ্য দরদাতাই কার্যাদেশ পেয়ে থাকে। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি লিখিতভাবে তা জানাতে পারেন।’
পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাকে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন। ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আসলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা সহ ৪ জন গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন