১০:১৭ এম
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ইউরোপের চারটি দেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। শনিবার ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছু শহরে এই প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ফ্রান্সে, স্কুলের পরিবেশ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ এবং স্ত্রাসবুর্গ শহরে বেশ কয়েকটি দোকান লুট করা হয়েছে।
প্যারিসে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ ছাড়া, দাঙ্গাকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফ্রান্সের ১৪৩ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থাপনাটির ছাদ ভেঙে নিচের তলায় পড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে নিয়ে উদ্বেগ-হতাশায় ৭১% মার্কিন নাগরিক: জরিপ
লিমোজের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিক্ষোভকারীদের আগুনে টাউন হলের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা এই ক্ষয়ক্ষতিকে ঐতিহ্যের জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। স্কুলের অবনতিশীল পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পুলিশের অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যায়। উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের আলঁসোঁ শহরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এক কিশোরীকে হেডলক দিয়ে আটকাতে দেখা যায়, যা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, "যারা পুলিশ প্রশাসনের কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও টাউন হলে হামলা এবং লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।"
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পক্ষে গেলে হবে ঐতিহাসিক ভুল : জেলেনস্কি
ফ্রান্সের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজধানী ব্রাসেলসে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া ও আগুন জ্বালানোর অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করা হয়। লিয়েজ শহরেও জলকামান মোতায়েন করা হয়।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কয়েক দশ হাজার মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি এবং বড় শহরগুলোতে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে মিছিল করেন। দেশটিতে ২০১৭ সালের পর থেকে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। নতুন চুক্তিতে বাসাভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার পর্তুগালের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম বলেন, ‘রাস্তায় চিৎকারের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না।’ অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও সমস্যার সঙ্গে সংযোগ হারানোর অভিযোগ তুলেছেন।
ইতালির মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন