ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

এক হত্যাকাণ্ডে দুই মামলা; দ্বৈত বিচার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে


এক হত্যাকাণ্ডে দুই মামলা; দ্বৈত বিচার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার মামলায় লুইজি মাঞ্জিওনির বিচার নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য আদালতে পরিচালনার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন সরকারি আইনজীবীরা। তাদের বক্তব্য হলো, হত্যাকাণ্ড এবং এর পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া হয়রানির অপরাধ দুটি ভিন্ন। সুতরাং, একই অপরাধে দুবার বিচারের নিষেধাজ্ঞা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালতে দাখিল করা নথিতে ম্যানহাটনের সরকারি আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, মাঞ্জিওনি গত আগস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের করা অনুসরণ করে হয়রানির দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে, তারা বলেন, ওই অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আইনি সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। তাই অঙ্গরাজ্যের হত্যা ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে তার বিচার অব্যাহত থাকতে পারে।

মাঞ্জিওনির আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের হত্যা ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগ বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, একই ঘটনার জন্য দুবার বিচার করা আইনসম্মত নয়। গত আগস্টে মাঞ্জিওনি স্বীকার করেন যে, তিনি ব্রায়ান থম্পসনকে গুলি করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে আইনি সহায়তার প্রয়োজন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পেনসিলভানিয়ার আলটুনা শহরের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের রেস্তোরাঁ থেকে মাঞ্জিওনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, তার ব্যাগে পাওয়া ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি নোটবুকের লেখা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে অসন্তোষের কারণে মাঞ্জিওনির প্রতি কিছু মানুষের সমর্থনও দেখা গেছে।

আগস্টে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মামলায় অনুসরণ করে হয়রানির দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর, তার আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের মামলার বড় অংশ বাতিলের জন্য আবেদন করেন। এই আইনি লড়াইয়ের কারণে অঙ্গরাজ্যের বিচার কার্যত পিছিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের বিচার সেপ্টেম্বরে এবং কেন্দ্রীয় বিচার ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সরকারি আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের কোনো অভিযোগ বাতিল করা হলেও তা যেন স্থায়ীভাবে বাতিল না হয়। তারা ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মামলায় তার দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত আপিলে বাতিল হলে নতুন করে অভিযোগ আনার সুযোগ রাখতে চান।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-পাকিস্তানে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে দুই ইমরান খান কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


ভারত-পাকিস্তানে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে দুই ইমরান খান কারাগারে

একজন বলিউড অভিনেতা এবং অন্যজন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। নামের মিল থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানের আটক হওয়ার খবর এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস- এই দুটি ঘটনা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা আমির খানের ভাগ্নে হলেন অভিনেতা ইমরান খান। তিনি ‘জানে তু... ইয়া জানে না’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ ও ‘দিল্লি বেলি’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ক্রিকেটার হিসেবে এবং পরে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ‘ককরোচ পার্টি’ আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইমরান খানের। এ কর্মসূচিটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিনেতা ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন- সম্প্রতি এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি পুলিশের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির স্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতি ছিল না। বোম্বে হাইকোর্টের অনুমতি অনুযায়ী, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান ছিল আজাদ ময়দান।

অন্যদিকে, আয়োজকদের দাবি, তাঁরা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে ই-মেইল করেছিলেন, কিন্তু কোনো জবাব পাননি। তবে আদালতের নির্দেশনা, অনুমতির শর্ত এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া না গেলে এ বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া কঠিন।

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির কয়েকজন সদস্যকে দিল্লি বিমানবন্দরে এদিন আটক করা হয়েছে।

বলিউডে পরিচিত মুখ ইমরান খান

২০০৮ সালে ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পান ইমরান খান। তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করে তিনি রোমান্টিক নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

পরবর্তী সময়ে ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’, ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ ও ‘এক ম্যায় অউর এক্কু তু’ সিনেমায় অভিনয় করেন। বিশেষ করে ‘দিল্লি বেলি’তে তাঁর অভিনয় প্রচলিত রোমান্টিক নায়কের পরিচিতির বাইরে ভিন্নধর্মী উপস্থিতি তৈরি করেছিল।

একসময় বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা গেলেও পরে তিনি অভিনয়ে বিরতি নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘটনা ভিন্ন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে। সেই সাফল্য তাঁকে দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

১৯৯৬ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধীরে ধীরে সমর্থন বাড়ান তিনি। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তবে ক্ষমতায় থাকার সময়েই তাঁর সরকারের সঙ্গে বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন বৃদ্ধি পায়। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান তিনি।

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, সাজা ও জামিন নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

যদিও ইমরান খান ও তাঁর দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। অন্যদিকে, মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে আইনি কাঠামোর মধ্যে। অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আদালতের রায়-এগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

তাঁর কারাবাসকে কেন্দ্র করে পিটিআইয়ের সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবি পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন সাইমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন সাইমন

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : সাইমন শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হয়ে মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানায়, হারিকেনটি চার মাত্রার শক্তি অর্জন করেছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে অথবা রোববার সকালে এটি মেক্সিকোর উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাইমন পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরও শক্তিশালী হতে পারে। এ সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার হতে পারে।

একটি সতর্কবার্তায় সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ‘হারিকেন সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।’

এদিকে, আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে চলতি মৌসুমে একের পর এক শক্তিশালী হারিকেন সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়াব্যবস্থার প্রভাবে বাতাসের বিভিন্ন স্তরের গতিবেগ ও দিকের পার্থক্য কমে আসছে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

সাইমনের কারণে মেক্সিকোর নৌবাহিনী পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন জনবসতি থেকে প্রায় ১০০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে।

২০২৩ সালের হারিকেন লিডিয়ার কথা স্মরণ করে ৬৩ বছর বয়সী এলেনা গুলমাস বলেন, ‘তিন বছর আগে আমরা সবকিছু হারিয়েছিলাম। এখন আমি মনে করি, সবার আগে জীবন বাঁচানোই জরুরি।’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভায়ার্তায় শনিবার আকাশ মেঘলা থাকলেও সাগর তখনো তুলনামূলক শান্ত ছিল।

তবে আরও দক্ষিণে অবস্থিত আকাপুলকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইতোমধ্যেই বন্যা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশাল ঘোড়ার খুরের আকৃতির উপসাগরের তীরে অবস্থিত পুয়ের্তো ভায়ার্তায় বাসিন্দাদের মধ্যে হারিকেন নিয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

উপসাগরের বিশেষ ভৌগোলিক আকৃতির কারণে সেখানে হারিকেনের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।

দোকানমালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন এবং দরজা-জানালা বন্ধ করে সুরক্ষিত করেছেন। তবে চারপাশে বড় ধরনের বিপর্যয় আসন্ন—এমন আতঙ্কের চিত্র খুব একটা দেখা যায়নি।

সমুদ্রসৈকতের পাশের সড়কে অবস্থিত একটি আসবাবপত্রের দোকানের মালিক পাউলিনা পেরেজ বলেন, ‘মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে, পানি যদি অনেক উঁচুতে উঠে যায়—যেমনটা হারিকেন কেনার সময় হয়েছিল।’

২০০২ সালে আঘাত হানা হারিকেন কেনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।

পেরেজ তার দোকানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন, তাতে লেখা, ‘সাইমন, তাড়াতাড়ি চলে যাও, শান্ত থাকো।’

অন্য একটি বোর্ডে কেউ স্প্রে রং দিয়ে লিখেছেন, ‘সাইমন বলছে: সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

জনপ্রিয় শিশুদের খেলা ‘সাইমন সেজ’-এর নামের সঙ্গে মিল রেখে কথাটি লেখা হয়েছে।

সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে অবস্থিত নিজের ছোট হোটেলটি রক্ষায় বালুর বস্তা ভরছিলেন ৭২ বছর বয়সী ময়েসেস ভিয়াসেনিয়র।

তিনি জানান, ঝড় নিয়ে তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ২০২৬ সালের নির্বাচনে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা রিপাবলিকানদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ২০২৬ সালের নির্বাচনে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা রিপাবলিকানদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিতর্কিত প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারণে রিপাবলিকান পার্টি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে ২০২০ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের ভূমিকা দলটির পরাজয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করেছিল।

টেক্সাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

টেক্সাসে সিনেটর জন কর্নিনের পরিবর্তে অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে অভিশংসন এবং ফৌজদারি অভিযোগসহ একাধিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর কাছে প্যাক্সটন পিছিয়ে আছেন। ফলে আসনটি ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়াতেও উদ্বেগ

নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের সমালোচনা করার পর রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস অবসরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের সাবেক গভর্নর রয় কুপারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, জর্জিয়ায় ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রিপাবলিকানদের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে।

সাউথ ক্যারোলাইনায়ও বাড়ছে চাপ

ট্রাম্পের সমর্থনে সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের জয় নিয়ে বড় আশঙ্কা না থাকলেও প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে দলের উপর বাড়তি চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসনটি ধরে রাখতে দলটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি

২০২০ সালের জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্পের প্রচার রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশকে নিরুৎসাহিত করেছিল বলে তিনি পরবর্তীতে স্বীকার করেন। ২০২২ সালেও তার সমর্থন পাওয়া কিছু বিতর্কিত প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে রিপাবলিকানরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নারীকে হত্যাকাণ্ডে সবাই ক্ষুব্ধ’: আতঙ্ক ও হতাশায় জাপানের ওকিনাওয়ার বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


‘নারীকে হত্যাকাণ্ডে সবাই ক্ষুব্ধ’: আতঙ্ক ও হতাশায় জাপানের ওকিনাওয়ার বাসিন্দারা

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে এক জাপানি নারীকে হত্যার সন্দেহে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেফতারের এক সপ্তাহ পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন।

তাদের মধ্যে একজন, তাকাকো কাকাজু, স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন সেনাদের ওকিনাওয়া থেকে চলে যাওয়ার দাবি করছেন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি ‘জঘন্য অপরাধ’। একই সঙ্গে, দক্ষিণাঞ্চলীয় এই দ্বীপে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

এএফপিকে কাকাজু বলেন, ‘আমি আর এসব মেনে নিতে পারছি না। ওকিনাওয়ার আরও কত নারীকে এভাবে ভুগতে হবে? সবাই ক্ষুব্ধ।’

৫৫ বছর বয়সী এই গৃহিণী আরও বলেন, ‘আমি জানি, যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রক্ষা করার কথা বলে। কিন্তু বিনিময়ে আমরা শুধু দুর্ভোগই পাচ্ছি। দয়া করে চলে যান।’

ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার কাছাকাছি একটি ব্যস্ত এলাকায় রৌদ্রোজ্জ্বল ছুটির দিনে মার্কিন নাগরিকদের সৈকত ও বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করতে দেখা যায়। বাইরের দৃষ্টিতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক মনে হলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

দ্বীপটিতে মার্কিন সেনাদের জড়িত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ায় মোতায়েন এক মার্কিন মেরিন সেনাকে নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওই নারীর মানিব্যাগ চুরির অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত মেরিন সেনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

২৩ বছর বয়সী ক্যাফেকর্মী আইরি হিয়ানে বলেন, ‘সত্যি বলতে, খবরটি শুনে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল—আবারও সেই একই ঘটনা!’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা এখানে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, আমরা যে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারব, তা বিশ্বাস করা কঠিন।’

তবে হিয়ানে স্বীকার করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানোও কঠিন।

অন্য কয়েকজন বাসিন্দাও বলেছেন, স্থানীয় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কিন নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ।

ওকিনাওয়ার বার্ষিক মোট আয়ের প্রায় ৫ শতাংশ আসে সামরিক ঘাঁটিসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে। কারও কারও মতে, এসব ঘাঁটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, জাপানের সংবিধানে শান্তিবাদী নীতি অনুসৃত হলেও সম্ভাব্য সামরিক হামলা প্রতিরোধে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে। জাপান সরকারও দ্বীপটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

ওকিনাওয়ায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও সর্বশেষ এ ঘটনায় স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাহার বার মালিক স্টিফেন বাটলার বলেন, ‘যারা এখানে আছি ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করতে চাই, তাদের সবার জন্যই ঘটনাটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বুধবার মার্কিন সেনাদের ৪৮ ঘণ্টার জন্য মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হলে, তার ‘সাইডলাইনস’ নামের বারটির ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিদেশিদের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন বাটলার।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে অনেক দিন ধরে আছি এবং আশপাশের অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকেও চিনি। এখানে সব সময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে।’

তবে বাসিন্দা কাকাজুর ক্ষোভের মূল লক্ষ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীই।

তিনি বলেন, ‘এটা ভীতিকর।’

এরপর কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, এসব বন্ধ করতে কিছু একটা করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%