১০:৩৬ এম
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরনো গবেষণা মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। এই ঘোষণার আওতায় ক্লাস, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও একাডেমিক ট্যুরসহ সব শিক্ষাকার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মসূচি কার্যকর হচ্ছে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শাটডাউন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এবং প্রতিদিন সকাল ১১টার পর ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। রাতে টিএসসির সভায় সেই কর্মসূচি আরও কঠোর করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমির অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও ব্যবহারিক গবেষণা কার্যক্রম নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ক্যাম্পাসে গণজমায়েত, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও রয়েছে। গত ২ নভেম্বর পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে অবশিষ্ট স্থাপনা সরিয়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করেন আন্দোলনকারীরা। এর মাধ্যমে মাঠটি কৃষি গবেষণার কাজে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। তবে দাবি পূরণে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় আন্দোলন আরও জোরালো করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, গবেষণার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। সংগঠনটি মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মানবিক হতে হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন