মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি
১১:৪৭ পি.এম
জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা কাজী মোঃ মসিউর রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।
মাওলানা কাজী মোঃ মসিউর রহমান ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ৬নং নরুন্দি ইউনিয়ন বিএনপির ১নং সদস্য, সদর উপজেলা বিএনপির ১নং সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ময়মনসিংহ সাংগঠনিক টিমের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
জামালপুর জেলা বিএনপিতে তিনি ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতেও দীর্ঘদিন সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরে ছাত্রদল, যুবদল ও ওলামা দলে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন। ২০১৬ সালে জিআর ৫৫ ও ৫৬ নম্বর রাজনৈতিক মামলায় ৪২ দিন কারাভোগ করেন। এছাড়াও ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে আরও সাতটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে।
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, জেলা জমিয়াতুল মোদার্রেসিনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় জমিয়াতুল মোদার্রেসিনের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, জামালপুর জেলা নিকাহ্ রেজিস্টার (কাজী) সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নিকাহ্ রেজিস্টার সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনি শক্ত অবস্থানে থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী" রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি হাট চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি এবং একটি প্রাইভেটকারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ|
সোমবার (২ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গোদাগাড়ী থানাধীন প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা এ অভিযান চালায়|
গ্রেফতারকৃতরা হলো: মোঃ দোলাল ইসলাম ওরফে দুলাল (৩৬), সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন শেখের ছেলে এবং একই এলাকার মোসাঃ সানজিদা আক্তার শিমু (১৮), সে মোঃ রিয়াজের স্ত্রী|
মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন|
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র জানতে পারে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁনসাট এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারযোগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি বিক্রির উদ্দেশ্যে রাজশাহী শহরের দিকে নেওয়া হচ্ছে| এ তথ্যের ভিত্তিতে গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর্জা মোঃ আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে এবং প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এস. এম. মাকছুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে রাজাবাড়ি হাট চেকপোস্টে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়|
অভিযানকালে ঢাকা মেট্রো-গ-১৯-১৫১৭ ন¤^রের একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়| তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়িটির ডিকির ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন এবং ৫৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়| এ সময় অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয় এবং গাড়িতে থাকা দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়|
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে|
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি|
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে ঘুরতে এসে ফিরে আসার সময় এক বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী নাফিজ বিন ফারুকী, যে একজন কলেজছাত্র।
ইতিহাস অনুযায়ী মঙ্গলবার, ২ জুন, দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুকী (২১) ছিলেন রাউজান উপজেলা পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মীরধাপাড়া বড় বাড়ির ফারুক আহমেদের পুত্র।
নিহতের মামা আতিকুল্লাহ মুরাদ বলেন, ‘২৩ মে তারিখে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বান্দরবান ট্যুরে গিয়েছিল ভাগিনা ফারুকী। বাড়িতে ফেরার সময় বিকেল ৪টার দিকে পটিয়া বাইপাস রোডে সৌদি পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ভাগিনা ফারুকী এবং তার বন্ধু মোটরসাইকেল চালক ফাহিম গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর, ভাগিনা ফারুকী মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে মারা যান।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফারুকী ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। তিনি নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুবির ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এই শিক্ষিকা প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) তিনি তার এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কারে ভূষিত করে।
নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই।
এছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ করতে, এমনকি ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশনথ’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়।
এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তীতে গবেষণাটিকে আরো বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করতে সম্ভাবনা রয়েছে।
মর্যদাপূর্ণ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড়ো অর্জন। পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।’
গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা রয়েছে।
আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগার পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এই পুরস্কার লাভ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগও সবসময় সহযোগিতা করেছে, শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।’
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরো বলেন, ‘ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে। এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে জাপানে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।’
প্রসঙ্গত, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্নই কেড়ে নিল সবকিছু। দীর্ঘ ৪৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে তিনি পরিবারের কাছে ফিরেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসাক মিয়া, যার জীবনের দুঃখভরা গল্প এখন সবার চোখে জল আনছে।
ইসাক মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মৃত সাদু মিয়ার ছেলে। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। আশির দশকে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বিঘা কৃষিজমি ও ৪০ শতাংশ বসতভিটা মাত্র ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সিলেটে যান।
কিন্তু সেখানে তিনি দালালের খপ্পরে পড়ে সব টাকা হারান। ফলে ভেঙে যায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন। এরপর তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। জীবনের প্রায় ৪৫ বছর তিনি পথে পথে ঘুরে কাটান।
বর্তমানে তার বয়স সত্তর। দীর্ঘদিনের কষ্টে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যান।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে অসুস্থ অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে স্বজনরা তার সন্ধান পান।
মঙ্গলবার সকালে স্বজনরা কুমারখালী স্টেশনে এসে ইসাককে শনাক্ত করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুপুরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, থানার পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম, ভাগ্নে বাচ্চু মিয়া, সাজাহান মিয়া, ভাতিজা তাহের মিয়া এবং কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম শাহিনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
স্টেশনের বিশ্রামাগারে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ শরীর নিয়ে কখনও বসছেন, কখনও মেঝেতে শুয়ে পড়ছেন ইসাক। তাকে ঘিরে স্বজনদের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
ভাগ্নে বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগে সবাই মিলে জমিজমা বিক্রি করে তাকে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর তিনি ফিরে আসেননি।
আরেক ভাগ্নে সাজাহান মিয়া বলেন, তারা অনলাইনে ভিডিও দেখে ইসাককে শনাক্ত করেন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুমারখালীতে আসেন।
ভাতিজা তাহের মিয়া জানান, তিনি বাবার মুখে চাচার গল্প শুনেছেন। কিন্তু এত বছর পর তাকে ফিরে পাবেন, তা তারা কখনো ভাবেননি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রায় ২৬ দিন আগে স্টেশনের পাশে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ইসাককে। চিকিৎসা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি কথা বলতে শুরু করেন।
ইসাক মিয়া ভাঙা কণ্ঠে বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য তিনি সব সম্পত্তি বিক্রি করে সিলেটে গেছিলেন। দালাল টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তিনি পাগলের মতো পথে পথে ঘুরেছেন। এখন স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।
কুমারখালী প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন জানান, তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই স্বজনরা এগিয়ে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি একটি মানবিক ও আনন্দের ঘটনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ