০৮:২১ এম
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও আয়োজন কার্যক্রমে অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নাটকীয়ভাবে ইউটার্ন নিয়েছেন।
শুক্রবার গভীর রাতে একটি বিবৃতিতে, ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে এই প্রকল্পটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যা-ই হোক না কেন, শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যের স্বার্থে আর যায় না। আমাদের উদ্দেশ্য সব সময় ছিল সবাইকে একত্রিত করা এবং খেলাটাকে উন্নত করা; সবসময় তাই থাকবে। সে কারণে এই প্রস্তাব আর এগোচ্ছে না।’
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিরোধিতা এসেছিল উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কাছ থেকে। ইউরোপীয় কনফেডারেশন জানিয়েছিল, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করবে তাদের ৫৫টি সদস্য দেশ।
আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড
শুক্রবার সকালে ইউরোপীয় সময় অনুযায়ী ফিফা জানায়, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’ এবং তারা ‘জনসম্মুখে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগকে স্বীকার ও সম্মান করে’ জানিয়েও এই প্রস্তাবের সঙ্গেই এগিয়ে যাবে। ফিফা আরও জানিয়েছে, তারা ‘একটা উন্মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক আলোচনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।’
ফিফার এই বিবৃতির পরপরই এএফসি একটি বিবৃতি দেয়, যাতে তারা জানায়, উয়েফা এবং কনকাকাফের সঙ্গে তারা সংহতি প্রকাশ করছে।
এরপর ফিফার প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো দুটি বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ধাক্কা খেয়েছেন। প্রথমত, তার উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং বলেন, এটি ‘ফিফার সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য খারাপ চুক্তি এবং ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি।’
ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো তার কর্মীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন এবং সে কারণে তাকে চাকরিও হারাতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স
লামুর বলেছেন, ‘এটা একজন মানুষের প্রকল্প। এই প্রকল্প শুধু এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়... বরং এখন সময় এসেছে ফুটবলের রাজনৈতিক নেতাদের সঠিক প্রশ্ন করার এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার।’
এই ঘটনাগুলো ইনফান্তিনোকে কোণঠাসা করে দেয়। শুক্রবারের মধ্যে সংস্থাটির ভেতরের অনেকেই মনে করছিলেন, ফিফা এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে অটল থাকবে।
জশুয়া কুশনারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম থ্রাইভ সোমবার রাত পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে সরে আসেনি। তবে ফিফা নেতৃত্ব পুরো পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়ায় সেটি আর কোনো গুরুত্ব রাখে না।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মঙ্গলবার ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ নামে নতুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা জানায়। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রধান আয়োজনগুলো পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে
এফএফই-তে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ শতাংশ সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল। এই বিক্রির মাধ্যমে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ফিফার।
তবে ফিফা পরিকল্পনা বাতিলের পর, যে কোনো সদস্য সংস্থা এফএফই প্রস্তাবে সম্মত হলে, তারা পেত ৪ কোটি ডলার।
ফিফার এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া তিনটি ফেডারেশন ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার ১৩৭টির প্রতিনিধিত্ব করে। ফিফা জানিয়েছে, এই প্রস্তাব এগিয়ে নিতে হলে তাদের ২১১টি সদস্য সংস্থার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ৩৭ সদস্যের ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।
ডেলিবিউশনের পর, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল বিবৃতি দেয়, যেখানে তারা আর্থিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তকে ফুটবলের স্বার্থে কাজ করতে হবে বলে উল্লেখ করে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: রিজভী
উয়েফা ও কনকাকাফের বৈঠকে ইনফান্তিনোর ফিফার নেতৃত্বে থাকার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর, ইনফান্তিনো প্রেসিডেন্ট পদে আছেন।
রাজনৈতিক নেতা লিসে ক্লাভেনেস বলেন, তিনি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। আমাদের সন্দেহ ছিল। ফিফা ভালো দিক আছে, তবে শাসন নীতি ও নিয়মের ব্যাপারে শিথিল মনোভাব প্রয়োগ করলে তা দ্রুত বিশ্বাস হারিয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন