০৭:০৩ পি.এম
২০১৭ সালে দেশের প্রথম স্মার্ট নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল নগরজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা প্রদান। তবে উদ্বোধনের পর কয়েক বছরের মধ্যে কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন অচল অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চে সিলেট নগরীতে ৬২টি স্থানে ১২৬টি ওয়াইফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট চালু করা হয়। তখন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, প্রতিটি পয়েন্টে একসঙ্গে ৫০০ জন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ ১০ এমবিপিএস গতিতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুদিন পর থেকেই ধীরগতির সংযোগ, বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরবর্তীতে পুরো সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
বর্তমানে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যেমন বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, টিলাগড় ইত্যাদিতে স্থাপিত ওয়াইফাই ডিভাইসগুলো সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্থাপিত এই প্রকল্প বর্তমানে কেবল নামেই আছে, বাস্তবে এর কোনো সেবা নেই। এটি জনগণের অর্থের স্পষ্ট অপচয় এবং দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে দাবি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ২০২১ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিসিসি ওয়াইফাই জোনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি পাঠায়। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কাছে পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল না থাকায় প্রকল্পটি সচল রাখতে পারেনি। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে না পেরে সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার কারণে মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে গেছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সময় সংবাদকে বলেন, 'প্রকল্পটির নকশাগত ত্রুটি ছিল। ফলে এক বছর সেবা চালুর পর এটি আর টেকসই হয়নি। প্রকল্প পরিকল্পনার সময় দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।'
অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাস প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেন, 'বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নির্দেশনা দিলে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
স্মার্ট সিটির যে স্বপ্ন দেখিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল, তার বড় অংশ এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোটি টাকার এই প্রকল্পে সেবা নেই, কার্যকর জবাবদিহি নেই। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, নাকি জনগণের অর্থ অপচয়ের আরেকটি বড় নজির? বর্তমানে পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং উত্তর খুঁজছেন সিলেটবাসী।
আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষা: সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল বিএমপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন