০৩:০৬ পি.এম
প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়ি মেরামত করার সময় আগুন লাগার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার পরিবারের ব্যবস্থাপক ও এক টেকনিশিয়ানকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন মান্নার পরিবারের ব্যবস্থাপক মো. মামুন মণ্ডল (২৯) এবং টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান আদালতে আসামিদের হাজির করে তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলামের বক্তব্য, গাড়িটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
তিনি বলেন, "২০০৮ সালে মান্নার মৃত্যুর পর গাড়িটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। সেটি মেরামতের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুন লাগে।" আজ তাদের জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলার গ্যারেজে গাড়িটি রাখা ছিল। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মান্নার স্ত্রী বসবাস করেন। গাড়ি থেকে তেল পড়ার কারণে ভবন কর্তৃপক্ষ সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে মান্নার স্ত্রী ব্যবস্থাপক মামুনকে গাড়িটি বাইরে কোনো ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামত করার নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে সোমবার মামুন টেকনিশিয়ান সোহেলকে নিয়ে ভবনের গ্যারেজেই গাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। পাশের একটি ব্যক্তিগত গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া আগুনে ভবনের গ্যারেজ, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের কয়েকটি অংশের কাচও ভেঙে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
ঘটনার পর ভবনটির ব্যবস্থাপক মো. গাজি মানিক মিয়া মঙ্গলবার সকালে ভাটারা থানায় মামলা করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, গাড়িটি প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে ছিল। বাইরে নিয়ে মেরামতের কথা থাকলেও মেকানিক ডেকে ভবনের গ্যারেজেই কাজ শুরু করা হয়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন