০৫:১০ পি.এম
ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ ও তীব্র শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েক ডজন স্কুল মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতানে, যেখানে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করেছে, পন্টিয়ানাকের মেয়র শহরের ওপর ভেসে আসা ধোঁয়ার কারণে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরাবায়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা হুমকির মুখে, শান্তি সুদূরপরাহত
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পন্টিয়ানাকের সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক হাজার।
বায়ুর মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে পাঠ নেবে বলে সোমবার মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন। তবে কতটি স্কুল এ সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে, তা উনি জানাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছি। বিশেষ করে রাত ও সকালে। কারণ ধোঁয়ার আস্তরণ ইতোমধ্যে পন্টিয়ানাক শহর ঢেকে ফেলেছে।’
জাভা দ্বীপে দমকলকর্মীরা নবম দিনের মতো একটি জাতীয় উদ্যানে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। গত সোমবার শুরু হওয়া দাবানলে ইতোমধ্যে ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’
শনিবার থেকে দর্শনার্থীকদের জন্য বন্ধ থাকা ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানের এই আগুন ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বড় দাবানলের মধ্যে একটি। দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার দমকলকর্মী এসব আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছেন।
আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কঠিন শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেশি রয়েছে।
চলতি বছরে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাদ্য মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।
পূর্ব জাভার ব্রোমো উদ্যানে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০ হেক্টর বা ২ হাজার ২০০ একরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এটি ১ হাজার ২০০টির বেশি ফুটবল মাঠের সমান এবং পুরো উদ্যানের প্রায় ২ শতাংশ এলাকা।
আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক
স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা সাত্রিয়ো নুরসেনো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে আগুন নেভানো যায় এবং এলাকায় পানি ছিটানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আজ সকল এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এরপর পানি ছিটিয়ে নিশ্চিত করা হবে, যাতে আগুন আবার না ছড়ায়।’
আগুন নিয়ন্ত্রণে ২০০ দমকলকর্মী, বনরক্ষী, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সহায়তায় তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক কাজ করছে।
দুর্যোগ সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত
নিরাপত্তামন্ত্রী জামারি চানিয়াগো সোমবার বলেছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ইন্দোনেশিয়া ৪৩টি হেলিকপ্টার এবং সর্বোচ্চ ১৫টি নির্দিষ্ট ডানার বিমান দায়িত্বে নিয়োগ করেছে।
এ প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর জন্য আকাশে মেঘ থাকা প্রয়োজন।
এল নিনোর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। বিএমকেজি উল্লেখ করেছে, জুলাই মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক ২৬.২ ডিগ্রির চেয়ে বেশি।
১৯৯১ সালের পর জুলাই মাসে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুজনিত ঘটনা, যার কারণে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: “অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”
ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে। সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল বৈশ্বিকভাবে রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ দুই বছর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন