শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ এম
চট্টগ্রাম, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম নগরীর জনবহুল ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০টি পানির এটিএম বুথ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই বুথগুলো পাইলট প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে।
এ উদ্দেশ্যে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড কক্ষে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর মধ্যে।
চুক্তিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম মন্তব্য করেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছে না; বরং নগরীর পানি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার জন্য আগামী তিন বছরের একটি যৌথ পথচলার সূচনা করছে। নিম্ন আয়ের জনগণের জন্য, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পানির এটিএম বুথ কেবল পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়; এটি মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পানি সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বাস্তব উপকার বয়ে আনবে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী জানান, এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এর সুফল সরাসরি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মো. তাহমিদুল ইসলাম ও জোনাল লিড বাবুল বালা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোকে অকার্যকর করার চেষ্টা না করার জন্য বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা কার্যকর স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে সংসদে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি স্থায়ী কমিটিগুলো কার্যকরভাবে গঠিত না হয়, তাহলে বিরোধীদলের পক্ষে সেগুলোর অংশীদার হওয়া সম্ভব হবে না। তিনি সংসদীয় কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে, কমিটিগুলোকে তাদের ইচ্ছামতো গঠন না করার আহ্বান জানান।
স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ বলেন, এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় বাদ দিয়েও ১০ সদস্যের একটি স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দল থেকে তিনজন করে সদস্য রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে সরকারদলীয় চিফ হুইপ বা সরকারের পক্ষ থেকে ২৬ শতাংশ হিসাব অনুযায়ী সদস্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী, কিছু কমিটিতে তিনজন, আবার কিছু কমিটিতে দুজন বিরোধীদলীয় সদস্য রাখা হয়েছে।
নাহিদ অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যেসব মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে কতজন সদস্য রাখা হবে, সে অনুযায়ী একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা তৈরির সময় সেই কাঠামোতে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যায় অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও ভুল নামও এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছামতো সদস্যদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখা হয়েছে। কোনো কমিটিতে দুজন, আবার কোনো কমিটিতে তিনজন বিরোধীদলীয় সদস্য রাখা হয়েছে। এমনকি একটি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দল থেকে চারজন সদস্য রাখা হয়েছে।
নাহিদ বলেন, চলতি অধিবেশনে সবগুলো স্থায়ী কমিটি পাস করার বিষয়ে চিফ হুইপের কিছুটা তাড়াহুড়া ছিল। তবে তিনি পরবর্তী অধিবেশনে এসব কমিটির তালিকা ও গঠনপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সংস্কার ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিভাগীয় শাস্তির সম্মুখীন হওয়া আরও তিন কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ সরকার বাতিল করেছে।
এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে চলমান সকল বিভাগীয় মামলার দায় থেকেও সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এনবিআর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দণ্ড মওকুফ করা তিন কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন, কর অঞ্চল-২ এর উপ কর কমিশনার নুশরাত জাহান শমী, চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-৪ এর যুগ্ম কর কমিশনার মেসবাহ উদ্দিন খান এবং কর অঞ্চল-৭ এর অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা।
এনবিআর সংস্কার ও আন্দোলনের কারণে এর আগে একই ধরনের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া ২১ কর্মকর্তার দণ্ডও পৃথক আদেশের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। নতুন করে তিন কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল হওয়ায় মোট ২৪ জন কর্মকর্তা বিভাগীয় দণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন।
২০২৫ সালে এনবিআর সংস্কার ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আন্দোলনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তাদের বেতন স্কেল ২ থেকে ৩ ধাপ কমানো হয়েছিল।
পরে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন। আপিলের পর রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন মঞ্জুর করার ফলে সংশ্লিষ্ট দণ্ডাদেশ বাতিল এবং কয়েকজনকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টা করার সময় এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন।
আটককৃতের নাম মাসুদুর রহমান, বয়স ৩৪ বছর। তিনি রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করেন। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাসুদুর রহমান ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব।” বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন।
তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। এরপর আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
আনসার বাহিনীর পিসি মো. সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মিঠু নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। একই দিনে বিমানবন্দর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে আবু হুরাইবা আজমীর নামের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এক হাত ও পা হারিয়েছেন। নিহত মিঠু বৃহস্পতিবার বিকালে খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে (ওসেক) ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী জানান, আশপাশের লোকজনের বরাতে জানা গেছে নিহত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল তার। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আজমীরের বাম হাত ও বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজমীর নরসিংদীর বেলাবোর ওয়ারী গ্রামের আলামিনের ছেলে। তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজমীর জানান, কমলাপুর থেকে চট্টলা এক্সপ্রেসে চড়ে সে বাড়ি ফিরছিল। ট্রেনটি বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের ভেতরে এক যুবক জোরপূর্বক তার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। সে বাধা দিতে গেলে ওই যুবক তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মাহবুব জানান, ছেলেটির সঙ্গে আরও কয়েকজন কিশোর ছিল, যারা ট্রেনের ছাদে ছিল। সে ছাদ থেকে পড়েছে নাকি ভেতর থেকে কেই তাকে ফেলে দিয়েছে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ