ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চান আইন পেশার অনেকেই: অ্যাটর্নি জেনারেল


শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চান আইন পেশার অনেকেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উল্লেখ করেছেন যে, আইন পেশার অনেকেই এখন শর্টকাট রাস্তায় অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়।

তিনি আজ প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন।

বিদায় সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, টিএইচ খান এবং সর্বশেষ ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মতো সিনিয়র আইনজীবী মৃত্যুবরণ করছেন। তারা যে মানের আইনজীবী ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই মানের আইনজীবী আমাদের মধ্যে নেই।

আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের ৪৬ লাখ টাকা দিয়েও স্বপ্নের ইতালিতে যেতে পারেননি সোহেল

অন্যদিকে, এখনকার তরুণ আইনজীবীদের মধ্যে লেখাপড়ার যথেষ্ট অভাব দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এই আইন অঙ্গনে একটি বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তাই, আমাদের সময় এসেছে এই শূন্যতা পূরণ করার জন্য এখনই ভূমিকা নিতে হবে।

আইন পেশায় সততা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই পেশায় যদি সততা এবং অধ্যবসায় না থাকে তাহলে কেউ ভালো করতে পারে না। অনেকেই শর্টকাট রাস্তায় অর্থবিত্তের মালিক হতে চান, জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী নন। আমাদের সময় এসেছে একটি সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আজকে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে যে মেধার ঘাটতি রয়েছে, সে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নিই তাহলে আমাদের সামনে অন্ধকার অপেক্ষা করছে।

দুই দশকের বেশি সময় বিচারিক দায়িত্ব পালনের পর আজ অবসরে গেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ, ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ইউএনডিপির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


বাংলাদেশে ইউএনডিপির নতুন আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেস

বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) নতুন আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্টিভেন রড্রিগেস। তিনি বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

আজ ইউএনডিপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভেন রড্রিগেস বাংলাদেশে ইউএনডিপির সব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা করবেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, দুর্যোগ-সহনশীলতা জোরদার করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি বাড়াতে তিনি বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় জনগণদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে স্টিভেন রড্রিগেস বলেন, ‘ইউএনডিপির মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং আমাদের উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি তার ভিত্তিতে নতুন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান গড়ে তুলতে আমি আগ্রহী, যা সরাসরি মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।’

জ্যামাইকার নাগরিক স্টিভেন রড্রিগেসের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও সরকারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশে যোগদানের আগে তিনি আফগানিস্তান, লাইবেরিয়া ও রুয়ান্ডায় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি এবং ইন্দোনেশিয়ায় ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ইউএনডিপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতিসংঘে যোগদানের আগে স্টিভেন জ্যামাইকা সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী পদে নিয়োজিত ছিলেন এবং দেশটির জনপ্রশাসন ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত ত্রাণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পাশাপাশি, বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বৃদ্বির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন, প্রতিষেধক ওষুধ এবং খাবার স্যালাইন মজুদ রাখার কাজটি করতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য প্রকাশ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফও উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানালেন, দেশের দুর্গম ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, গত রোববার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পোঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, বন্যা আক্রান্ত দেশের ১১টি জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ে, এবং অনেক সময় সাপের কামড়ে অনাকাক্ষিক্ষত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এটি প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন এবং পানিবাহিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

ব্রিফিংয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ইনজেকশন মজুদ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে মজুদ রয়েছে আরও ১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম। মাঠ পর্যায়ে কলেরার স্যালাইন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি, খাবার স্যালাইন প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। তাছাড়া নরমাল স্যালাইন ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ এবং ডেঙ্গু কিট সিডিসি (মাঠ ও কেন্দ্রিয় মিলিয়ে) ১ লাখ ১৯ হাজার ৯২০টি মজুদ করা আছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধ এবং ওরস্যালাইন বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জÑএই ৭টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে ৫৯টি উপজেলার ৩ শত ৪৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন এবং ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা নাগরিকদের অনতিবিলম্বে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে খাদ্যশস্যের কোনো সংকট নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছেন।

ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতির তদারকি করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে এলো বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে এলো বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি

বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া)এর তত্ত্বাবধানে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বন্যায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বিমানবাহিনী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী সালেহা খানের উদ্যোগ এবং দিকনির্দেশনায়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করা হয়।

একই দিনে, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজদিঘীরপার এলাকায়ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধ বিতরণ করেছে বাফওয়া।

এছাড়া, বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁনের সার্বিক নির্দেশনায় কক্সবাজার জেলার পেকুয়া (রাজাখালী) এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধও বিতরণ করা হয়েছে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, বিমানবাহিনী ও বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির তরফ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তা বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বিমানবাহিনী প্রধান ইতিমধ্যে বাহিনীর সকল ঘাঁটি ও ইউনিটকে পার্শ্ববর্তী বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, যেকোনো জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে বিমানবাহিনীর রেসকিউ টিম, হেলিকপ্টার এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টে নতুন বিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টে নতুন বিল

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন একটি বিল আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান এব্রাহিম আজিজি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তার ‘রেড লাইন’ রক্ষায় অটল এবং প্রয়োজন হলে আরো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আজিজি জানান, ‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা এবং টেকসই অগ্রগতির জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ’ শীর্ষক বিলটি গত রাতের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আজিজি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিষয়সহ আমাদের সব রেড লাইন রক্ষায় আমরা দৃঢ় অবস্থানে আছি।’ তিনি এও জানান, ‘এটা কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর পর আমরা আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ এই বিল উত্থাপনের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে বিকল্প নৌপথ তৈরির চেষ্টার জবাবে, গত সপ্তাহে পরপর তিন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরান। এই হামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর গত রোববার (১২ জুলাই) হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান।

পরদিন সোমবার (১৩ জুলাই) দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

জবাবে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইন এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে। ফলে, গত মাসের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেই, গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর আবারও অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থও নেওয়া হবে।

উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মধ্যেই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব। সম্ভবত এটির পরিচালনাও করব। আমরা প্রণালির অভিভাবক হব। এর জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া উচিত।’

এর কিছুক্ষণ পর, নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ কার্যকর করছে।

তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত হবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত ধরনের ব্যয় হবে, তার জন্য প্রণালি দিয়ে চলাচল করা প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তার ভাষ্য, ‘চুক্তি হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু তারা তা ভেঙেছে। তারা সব সময় চুক্তি ভাঙে। তাদের সঙ্গে ১০টি চুক্তি হয়েছে। তাই এবার আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালাব।’

তবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না।

তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা তাদের বাহিনীকে রসদ সরবরাহ ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে পুরো অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%