ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের দাবি রাশিয়ার, অস্বীকার ইউক্রেনের


কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের দাবি রাশিয়ার, অস্বীকার ইউক্রেনের

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। মস্কো শহরটি সম্পূর্ণ দখলের দাবি করেছে, তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশের জেনারেল স্টাফ এই দাবি শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, "এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাশিয়ার আরেকটি প্রোপাগান্ডা। কস্তিয়ানতিনিভকা যদি আসলেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তবে এই যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক উপায় খুঁজতে পুতিনের আমার সাথে সেখানে দেখা করতে কোনো সমস্যা হতো না।"

এছাড়া, ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সামরিক বাহিনী শহরের ভেতর ও প্রবেশপথগুলোতে সফলভাবে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে।

আরও পড়ুন: নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে ককরোচ পার্টির সমর্থন

অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাবকে উপহাস করে বলেন, "কস্তিয়ানতিনিভকা ইতিমধ্যে রাশিয়ার অংশ হয়ে গেছে।" ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জেলেনস্কিকে মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে দেখা করার পূর্ব আমন্ত্রণ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শহরটি এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তারা শহরে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সোমবার (৬ জুলাই) একটি ৬ ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।

এই প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার জন্য ইউক্রেনকে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর (০৯:০০ জিএমটি) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কস্তিয়ানতিনিভকা হলো দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামূলক 'দুর্গ বলয়'-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শহরটি দখল করতে পারলে রুশ বাহিনী ওই অঞ্চলের পুরো প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেঙে আরো উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার বড় সুবিধা পাবে।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইরানিদের শোক দেখে ‘বিস্মিত’ ট্রাম্প

'মনে করেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের শোক প্রকাশ দেখে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'মনে করেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে। তবে এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।'

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আগের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে (খামেনি) ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।'

তিনি আরও দাবি করেন, চাইলে জানাজায় উপস্থিত সবাইকে তিনি 'নির্মূল' করতে পারেন। যদিও তিনি এ কথাও বলেন যে, তা করলে আলোচনা করার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।

ট্রাম্প জানান, খামেনির জানাজার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক আলোচনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানাজার সময় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো হামলা চালাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দ্রষ্টব্য, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে শনিবার (৪ জুন) লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন। এ সময় উপস্থিত মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভও দেখা গেছে, যেখানে তারা প্রতিশোধের আগুন জ্বালাচ্ছেন।

জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ খামেনির মৃত্যুকে পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজারে

ভেনেজুয়েলা দেশটিতে সম্প্রতি জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সরকারি হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে, ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর খবর এখনও নিশ্চিত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।

লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। এই অঞ্চলে অসংখ্য আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার— দুই ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। যদিও অনেক পরিবার এখনও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে জীবিত উদ্ধার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল প্রথম ৭২ ঘণ্টা। তথাপি চলতি সপ্তাহে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করেন। এ সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি কুকুরকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা গভীর শোকের মধ্যে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি, আবার অনেকেই সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল শনিবার তাদের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগের উদ্ধারকারী দল জানায়, সর্বশেষ অনুসন্ধানে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় তারা অভিযান সম্পন্ন করছে। একইভাবে ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার উদ্ধারকারী দলও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকারের তৎপরতা ছিল ধীরগতির। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই পরিবারগুলো নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল। লা গুয়াইরায় শনিবার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধসে পড়া ভবন অপসারণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, অনেক পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের চেষ্টা করে চলেছে। স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও মরদেহ খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কাজটি ভীষণ কঠিন। আজ আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ভূমিকম্পে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলোও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাগরপাড়ে বন্দর থানার দুমপাড়া এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনা শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে ঘটে।

নিহতদের একজনের নাম বরিশালের আসাদুল ইসলাম (৫০)। তিনি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশনে চাকুরি করতেন। অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম জানান, দুর্ঘটনায় দুজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছে। আমরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছি। রাত সাড়ে ১২টায় চমেক হাসপাতালের সামনে আসাদুল ইসলামের ছেলেসহ অন্যান্য স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বরাতে কাওসার দাবি করেন, একটি লরি আসাদুলের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তারা রাস্তায় পড়ে যান। এরপর একটি পেছনের লরি এসে তাদের পিষ্ট করে যায়। লরি দুটি ছিল ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায়। লরির চালকটি বলে জানা যায়, কম বয়সী ছিলেন।

বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহিম জানান, দুর্ঘটনার সময় দুজনই একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। তিনি জানান, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শোকানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও দাবদাহ উপেক্ষা করে ইরানিদের শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ এম


খামেনির শোকানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও দাবদাহ উপেক্ষা করে ইরানিদের শ্রদ্ধা নিবেদন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো শোকাহত মানুষের ঢল নেমেছে।

তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ সত্ত্বেও আজ রোববার (৫ জুলাই) ভোর থেকেই নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

আয়তুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্রান্ড মোসাল্লার সামনে শোকাহত ইরানিরা। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে শোকাহত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মোসাল্লা প্রাঙ্গজুড়ে পানি ছিটানোর মিস্টার স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া, হাজারো স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত মানুষের মধ্যে ঠান্ডা পানি, শরবত ও অন্যান্য পানীয় বিতরণ করছেন। চিকিৎসা সহায়তার জন্য মোবাইল মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে তেহরানজুড়ে আজও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই খামেনির প্রতিকৃতি, ইরানের জাতীয় পতাকা এবং ধর্মীয় পতাকা বহন করছেন। বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত জনতা স্লোগান দিচ্ছেন এবং দেশটির নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়, মরদেহবাহী কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ওই সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে ছিলেন।

গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতেই খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার সামনে ঢল নামে মানুষের। খামেনির প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হন ইরানিরা।

দিনভর শ্রদ্ধা জানান প্রিয় নেতার প্রতি।

এদিন গ্রান্ড মোসাল্লায় শায়িত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের মিত্রদের পরিবারও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। তবে এবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।

এদিকে খামেনির স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে অন্তত ১৩টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে খবর প্রকাশ করেছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, উপসাগরীয় অঞ্চল ও পূর্ব এশিয়ার অন্তত ১৩টি দেশ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন: খামেনির শেষ বিদায়: ধারাবাহিকতা ও প্রতিশোধের বার্তা প্রচার ইরানের।

মূলত তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য দুই দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ সময় সর্বস্তরের মানুষ খামেনি ও তার পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। এরপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ গন্তব্য হবে মাশহাদ।

শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের মাজার এবং খামেনির জন্মস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরান।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮৯ সালে খামেনির পূর্বসূরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে।

খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কোটি কোটি মানুষ অংশ নিলেও নিরাপত্তার কারণে বাবার শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না ছেলে মোজতবা খামেনি।

সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%