ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ থাকবে দোকানপাট ও মার্কেট


সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ থাকবে দোকানপাট ও মার্কেট

ঢাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য দোকানপাট ও মার্কেটের দিকে যান। তবে যদি তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে দেখা যায় যে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের সময়ের অপচয় হবে। তাই সোমবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জানানো হলো।

যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ ও সানারপাড়।

আরও পড়ুন: ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর গ্রেফতার

অর্ধদিবস বন্ধ যেসব মার্কেট

পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স ও মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মেরুদণ্ডের সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। তারা দক্ষ জনবল, আধুনিক অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে রোববার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সেমিনারে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা ‘বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময় স্পাইন (মেরুদণ্ড) ব্যথা বা কোমরব্যথায় ভুগে থাকেন। তাই মেরুদণ্ডের সমস্যা ও কোমরব্যথা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক শারীরিক ভঙ্গি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, স্পাইন (মেরুদণ্ড) মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেরুদণ্ডের সমস্যা ছাড়া জীবনযাপন করা মানুষের পক্ষে কঠিন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক ক্ষয়জনিত পরিবর্তন ও বিভিন্ন সমস্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ ও সবল রাখতে আমাদের যা কিছু করা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই আমাদের জানা নেই। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ.এফ.এম মোমতাজ হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছি। তবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা জরুরি।

নিউরোসার্জারির চিকিৎসক ডা. মো. আশিক আহসান মন্তব্য করেন, মেরুদণ্ডের সমস্যা বা কোমরব্যথা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসমস্যা। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, রাত জাগা এবং নগরজীবনের মানসিক চাপ মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উচ্চতা অনুযায়ী উপযুক্ত ওজন বজায় রাখা জরুরি। দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মের সময়ও মেরুদণ্ড আঘাত পেতে পারে বা ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময় কোমরব্যথায় ভুগতে পারেন।

নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা ইশরাত জাহান (রিফাত) বলেন, আজীবন মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক শারীরিক ভঙ্গি ও কর্মপদ্ধতি মেনে চলতে হবে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক শারীরিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি, এমনকি দাঁড়ানো বা বসার ক্ষেত্রেও মেরুদণ্ড সোজা রাখা প্রয়োজন।

অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, মেরুদণ্ডের সমস্যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসমস্যা নয়; এটি দেশের অর্থনীতি ও কর্মক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। কোমরব্যথার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, উৎপাদনশীলতা কমে এবং চিকিৎসাব্যয় বৃদ্ধি পায়। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী কোমরব্যথার কারণে প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. আশিক আহসান ও নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারের আগে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দুপুর ২টায় পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দুপুর ২টায় পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ইশরাক হোসেন, যা মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্কের কারণে হচ্ছে।

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

ইশরাক হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।"

তিনি আরও লেখেন, "ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।"

ইশরাক বলেন, "এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।"

তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, "দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, জানালেন বাবা-মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, জানালেন বাবা-মা

সৌদি আরবের মক্কায় গোপনে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, তাদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় জনগণ উভয় দেশের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

সৌদি আরবে পৌঁছানোর ৬ মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে পুলিশ নজরুল ও সুইটিকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি সরকার তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন নজরুল। তবে গত বুধবার কোনো পূর্বঘোষণা বা স্বজনদের অবগত না করেই তার ওপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে বিরামপুরে থাকা স্বজনেরা নজরুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।

নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের না জানিয়ে এবং আমার ছেলেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।"

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।"

ভাইপোর মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম।

নজরুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ছে। গ্রামবাসী জানান, সৌদি আরব সরকার বিভিন্ন নীতিতে শিথিলতা আনলেও বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন কট্টর সিদ্ধান্ত গ্রহণ হতাশাজনক। তারা দরিদ্র এই কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুই দেশের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাঙালি মুসলিম নব জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে বিপ্লবদীপ্ত এই কবি মৃত্যুবরণ করেন। কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তৎকালীন বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা তার কবিতায় পাওয়া যায়। দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহার ক্লিষ্টের করুণ পরিণতি, সমকালের সংকট, জরাগ্রস্ত বাস্তবতা এবং সাম্প্রদায়িকতার হিংস্রতা দেখে তিনি দগ্ধ হয়ে ওঠেন। এ সকল অসঙ্গতি তাকে সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা জোগায়।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামী ভাবধারার বাহক হলেও, তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন ও বাকপ্রতিমা অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার নানা সৌকর্য তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত হয়েছে।

‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?/ এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? /সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে? / তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে; / অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি...’ এই ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় এবং কালজয়ী কবিতার জনক কবি ফররুখ আহমদ।

ফররুখ আহমদের পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী এবং মাতা বেগম রওশন আখতার। গ্রামের পাঠশালাতেই তার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে তিনি কোলকাতায় গিয়ে তালতলা মডেল এম.ই স্কুলে ভর্তি হন। পরে কোলকাতার বিখ্যাত বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলে ভর্তি হন। ঐ সময় কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রাথমিক জীবনে কবিত্ব বিকাশে কবি গোলাম মোস্তফা ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেন।

১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৯ সালে কোলকাতার রিপন কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। ১৯৪১ সালে কোলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ ও সিটি কলেজে, প্রথমে দর্শন এবং পরে ইংরেজীতে অনার্সে ভর্তি হন। কিন্তু কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএতে ভর্তি হলেও, নানাবিধ কারণে পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি।

১৯৪৩ সালে আই.জি প্রিজন অফিসে চাকুরীর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইয়ে এবং ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকুরী করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ সালে কোলকাতা থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ঢাকা বেতারে তিনি ‘ছোটদের খেলাঘর’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। কবি ফররুখ আহমদ প্রথম যৌবনে ভারতবর্ষের বিখ্যাত কমরেড এম.এন রায়ের শিষ্য ছিলেন। তবে জন্মসূত্রে ইসলামী আদর্শ ও ঐতিহ্যের অধিকারী কবি একসময় ধর্মীয় চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। তার কবিতায় ইসলামী সমাজতন্ত্র মূর্ত হয়ে ওঠে।

কবি ফররুখ আহমদ সৃষ্ট সাহিত্যসম্ভার ভাষা তথা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। দর্শনগতভাবে তিনি ছিলেন মানবতাবাদী কবি। নীতি আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। কবি ফররুখ আহমদের চিন্তাচেতনা দর্শন সবই ছিল এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তার কবিতা ছিল মানবতাবাদী দর্শনে পরিপূর্ণ, কিন্তু কাব্যে রসবোধেরও কমতি নেই।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-স্বীকৃত একজন অসাধারণ জননন্দিত কবি ফররুখ আহমদ। কবির সাহিত্য জীবনের শুরুতে ‘সওগাত’ পত্রিকায় ফররুখ সম্পর্কে আবু রুশদ লিখেছেন- ‘ফররুখ আহমদ রোমান্টিক কবি, অর্থাৎ তার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তব-বোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তার কাব্যে সৌন্দর্যের জয়গান অকুণ্ঠ, সুদূরের প্রতি আকর্ষণও তার কাব্যের আর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবুও তিনি নিঃসন্দেহে আধুনিক।’ প্রখ্যাত অনেক সমালোচক সাহিত্যিক ফররুখ আহমদ সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।

মানবতাবাদী ও জাতীয় জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ একজন আধুনিক ও সৃষ্টিশীল কবি হওয়ার পরও আত্মপরিচয় ভোলেননি কখনো। সাহিত্য সাধনার দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় তিনি আত্মবিমুখ হননি বরং তার কাব্য ও রচনায় ‘বাঙালি মুসলিম’ পরিচয়টি জাগিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন বারংবার।

তার প্রথম ও সেরা কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া আজাদ কর পাকিস্তান (১৯৪৬), সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩), হাতেম তায়ী (১৯৬৬), পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৬৮), নতুন লেখা (১৯৬৯), ছড়ার আসর (১৯৭০), নয়া জামাত (১৯৫০), হে বন্য স্বপ্নেরা (১৯৭৬), ইকবালের নির্বাচিত কবিতা (১৯৮০), চিড়িয়াখানা (১৯৮০), কাফেলা (১৯৮০), হাবেদা মরুর কাহিনি (১৯৮১), সিন্দাবাদ (১৯৮৩), কিসসা কাহিনি (১৯৮৪), ফুলের জলসা (১৯৮৪), তসবির নামা (১৯৮৬), মাহফিল (১৯৮৭), ফররুখ আহমদের গল্প (১৯৯০), ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য (১৯৯১), দিলরুবা (১৯৯৪) প্রভৃতি তার অমর সাহিত্যকীর্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%