ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকায় মাদকের ১৮ ঘুণ্টিঘর চিহ্নিত


ঢাকায় মাদকের ১৮ ঘুণ্টিঘর চিহ্নিত

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানের ফলস্বরূপ রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন একটি ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সকালে স্কুলশিক্ষার্থী, রিকশাওয়ালা এবং চাকরিজীবীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে ঘুণ্টিঘর এলাকায়। রাতের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুণ্টিঘর হয়ে ওঠে আরও জমজমাট। তবে ঢাকায় মাদক কারবারের জন্য এটি একমাত্র হটস্পট নয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘুণ্টিঘরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি মাদকের হটস্পট রয়েছে। যেখানে প্রশাসনের চোখের সামনেই গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইনসহ নিত্যনতুন মাদক বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কিছু স্থানে ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের মতো ভয়ংকর মাদকদ্রব্যও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। নিরাপদে সেবন করার জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার চক্রও রয়েছে।

গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর প্রকাশ্যে আসার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কারবারিদের গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ঢাকা শহরে মাদকের কোনো হটস্পটের অস্তিত্ব রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে অস্ত্র ও জনবল সংকটের কারণে একক অভিযানে ঘুণ্টিঘরের মতো স্পটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা নিজেদের জন্য হুমকি বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। তারা নতুন কৌশলে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেকোনোভাবে মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে চান। অন্যদিকে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল। ডিএমপির ৫০ থানা এলাকায় সক্রিয় ৩ শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারির তালিকা করা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ অভিযানের কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও ৩ শতাধিক কারবারি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও পার্শ্ববর্তী মুন্সিরটেক ছাড়াও রাজধানীজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি হটস্পট রয়েছে। যেখানে মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে প্রতিবাদ করেন না। কারণ প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর হামলা করে বসে কারবারিরা। এমনকি গুলি করতেও দ্বিধা করে না তারা। ঘুণ্টিঘরের মতো অন্যান্য স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে সবুজবাগের ওহাব কলোনি, কড়াইল বস্তি, পল্লবীর জেনেভা ক্যাম্প, শাহআলী মাজার, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, ভাটারা বালুর মাঠ, কারওয়ান বাজার থেকে নাখালপাড়া রেললাইন, হাজারীবাগের গণকটুলি সিটি কলোনি, উত্তরা রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশ এলাকা, কোতোয়ালি সুইপার কলোনি, স্বামীবাগ রেললাইন, লালবাগের শহীদনগরের ৪ ও ৫ নম্বর গলি, ডেমরা সারুলিয়া নদীরপাড়, শ্যামপুর আইজি গেট বস্তি, কদমতলীর ওয়াসা রেলগেট, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি ও কাফরুল কাঁঠাল মাঠ এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারওয়ানবাজার-নাখালপাড়া রেললাইন এলাকা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবনের হটস্পট হিসেবে। গত সোমবার সন্ধ্যার পর এফডিসি রেলগেটের কাছে তিন কিশোরকে দেখা যায়, যারা কাগজে মোড়া গাঁজার পুঁটলি পলিথিনে ভরে ছোটাছুটি করছে। তারা যাতায়াতকারী লোকদের বলছে ১০০ না ২০০। লাগবে নাকি সিদ্ধি? অনেকেই তাদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছে। শুধু রেলগেট নয়, এফডিসি রেলগেট থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত মাদকের বাজার। এই এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা হাঁক দেন। ক্রেতারা টাকা হাতে দাঁড়ালে তারা গাঁজা, ইয়াবা বের করে দেন। কেউ কেউ রেললাইনের পাথরের নিচে মাদক লুকিয়ে রাখেন। গ্রাহক এলে বের করে বিক্রি করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে কিছুটা দূরে গিয়ে নতুন ক্রেতা খুঁজতে থাকেন।

রাজধানীর অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। এখানে কয়েকজন শীর্ষ কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মাদকের কারবার একদিনের জন্যও থামানো যায়নি। ক্যাম্পের মুরগিপট্টি, বাবর রোড, আল ফালাহ মডেল ক্লিনিক গলি, হুমায়ুন রোডসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবন হয়ে থাকে। ক্যাম্প এলাকায় ঢুকলেই নারী-শিশুদের হাতে ইয়াবা ও হেরোইন দেখা যায়। অপরিচিত কেউ ক্যাম্প এলাকায় প্রবেশ করলে নজরদারিও করেন কারবারি চক্রের সদস্যরা। পল্লবীর এডিসি ক্যাম্প, কেটিসি ক্যাম্প, রহমত ক্যাম্প, মাদরাসা ক্যাম্প, মুসলিম ক্যাম্প, কনসাল ক্যাম্প, থার্টিনাস ক্যাম্প, কালাপানি বস্তি, কুর্মিটোলা ক্যাম্প, মুড়াপাড়া ক্যাম্প, এমসিসি ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, শাহপরান ক্যাম্পও মাদকের অন্যতম হাব। ফোর স্টার গ্রুপের ছত্রছায়ায় কারবারিরা এসব ক্যাম্পে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পল্লবীতে মাদকের কলকাঠি নাড়ছে রাজিয়া বেগম, ফতেহ, লাভলী বেগম, নাদিম, জুম্মন, হালিমা, সাহাজামান, বট রনি, আফসানা, রুমা, রজনী আক্তার ও শাহিনুর বেগম। মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে গলাকাটা মনু, চোর জানু ওরফে জানে আলম, সারফু আরমান, তাজ, আনোয়ার হোসেন কাল্লু, চাপাই আরিফ, সিডি স্বপন। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে রহিমা, মনিরুল হক রবিন, মিনু, স্বামীবাগ রেললাইনে আমির হোসেন, কড়াইল বস্তির মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে জিল্লুর রহমান, এরশাদ মিয়া, টোকাই আনোয়ার, লিটন, বরিশাইল্লা নাসির, মিজানুর রহমান, আইলশা মনির, ঘাড় কাটা বাবুল ও রনি। সবুজবাগ ওহাব কলোনির মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে ফর্মা বাবুল, মো. শামীম, আশিকুর রহমান শান্ত, সুফিয়া ও তার মেয়ে তানিয়া বেগম। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি নিয়ন্ত্রণ করছে হারিছ মিয়া, সজল হোসেন, শাওন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন, মানিক ও কানা সোহেল।

আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে ষষ্ঠ, শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, রাজধানীতে মাদকের হটস্পটগুলোর নতুন তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জোরদার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ডিএমপি সব সময় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর থেকে গত ৬ মাসে ৫ শতাধিক মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবুও এখানে মাদকের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই ঘুণ্টিঘরসহ ঢাকায় এরকম যতগুলো হটস্পট রয়েছে, সেগুলোর কোনোটির অস্তিত্ব রাখা হবে না।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঘুণ্টিঘরের মতো স্পটে ডিএনসির একার পক্ষে অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকি। তাই অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঘুণ্টিঘরের পর ওহাব কলোনিতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভাটারা বালুর মাঠেও অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আপাতত মাদক কারবার বন্ধ রয়েছে জানার পর অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের ডিডি মো. রাজিউর রহমান বলেছেন, কড়াইল বস্তি থেকে আট শীর্ষ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো শীর্ষ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের পরবর্তী টার্গেট মিরপুর এলাকা। এরপর ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ৩৪ জন আহত

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএমের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোঁজামিলে ভরা বিটিআরসির জবাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


পিএমের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোঁজামিলে ভরা বিটিআরসির জবাব

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আমার দেশ-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব হিসেবে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে, সংস্থাটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং আওয়ামী সিন্ডিকেটের মালিকানার মূল অভিযোগগুলো এড়িয়ে গেছে।

পাঁচ সপ্তাহ পর পাঠানো প্রতিবেদনে লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার বৈধতা ও কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে দীর্ঘ সাফাই গাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেবা চালু করতে না পারায় নতুন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর আমার দেশ-এর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে পৃথক পৃথক লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন কোম্পানি সামিট, সিডিনেট ও মেটাকোর এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ ছিল যে, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে বিভিন্ন সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। আবেদনের সময়সীমা দুই দফা বাড়িয়ে ১০ মে ২০২২ পর্যন্ত করা হয় যাতে সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।

মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মূল্যায়নে শীর্ষস্থান অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠান হলো, সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (৯২.৪৬ নম্বর), সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (৮৭.৬৪ নম্বর), মেটাকোর সাবকম লিমিটেড (৮৬.৪৮ নম্বর)।

পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদনক্রমে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই তিন প্রতিষ্ঠানকে পৃথক তিনটি লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসি দাবি করেছে, সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এবং কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা বিবেচনা করেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

কনসোর্টিয়াম গঠন ও আইনি ব্যাখ্যার বিতর্ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একক কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার পরিবর্তে তিনটি স্বতন্ত্র ক্যাবল স্থাপন করতে গেলে তিন গুণের বেশি ব্যয় হতো। এই উচ্চ ব্যয় এড়াতে তারা যৌথভাবে প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার আন্ডারওয়াটার ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।

গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ট্রাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে কমিশনে তথ্য দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও পূর্বানুমোদন নেওয়ার কোনো আইনি বাধা বা বাধ্যবাধকতা নেই বলে প্রতিবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে গাইডলাইনের নির্ধারিত ক্যাপাসিটির তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ারে উচ্চতর ক্যাপাসিটি (১৫.২ টিবিপিএস) অর্জিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় কেবল পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে সেবা চালুতে ব্যর্থতা

গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার পর ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।

অথচ বিটিআরসির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কোনো অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকায় নির্ধারিত রোল-আউট সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশনের ৩১০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি

প্রতিবেদনে প্রক্রিয়াগত বৈধতা ও নিয়মনীতির দীর্ঘ বর্ণনা থাকলেও আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত মূল প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থেকে গেছে।

২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনের আওয়ামী সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশ সম্পর্কিত অভিযোগগুলো প্রতিবেদনে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে পলাতক সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানি সিডিনেট প্রতিষ্ঠাই করা হয় লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর অথচ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায় কিন্তু বাদ পড়ে ফাইবার এট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বিটিআরসি।

এছাড়া কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে প্রদান করা হয়েছে ভুল ব্যাখ্যা। লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে সুস্পষ্টভাবে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা আছে এবং আবেদনকালেই কনসোর্টিয়াম হিসেবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর ন্যূনতম দুই ফাইবার পেয়ার থাকার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, কোনোভাবেই ক্যাপাসিটির সঙ্গে সমতুল্য নয়, এ ধরনের তুলনা করতে প্রয়োজন হবে লাইসেন্সিং গাইডলাইনের সংশোধন। তাছাড়া, পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিকে সংযোগ অত্যাবশ্যকীয় শর্ত হিসেবে গাইডলাইনে উল্লেখ করা থাকলেও ভবিষ্যতে তা বিস্তার করা হবে বলে বর্তমান অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তাছাড়া, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করেই রোল-আউটের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চাওয়াকে খাত সংশ্লিষ্টরা বিটিআরসির দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, আওয়ামী সিন্ডিকেটের প্রভাব, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক নির্দেশনায় লাইসেন্স প্রদান এবং লাইসেন্সিং গাইডলাইনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি ছাড়াই সরকার প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে দেবে?

রাজনৈতিক নির্দেশনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রতিবেদনে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি, আর নির্দেশনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যৌথ আবেদনের বদলে পরবর্তী সময়ে একক কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি কী—এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩ পর্যটকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩ পর্যটকের

মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে একটি বড় ট্রাকের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। হতাহতদের মধ্যে দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক আল-আহরাম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কায়রো-আসিয়ুত পশ্চিম মরুভূমি মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ১৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ মহাসড়ক থেকে বাস ও ট্রাকের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছে। একটি ক্রেনের সাহায্যে বড় বাসটিকে সরানো হয়েছে; সংঘর্ষের পর বাসটির সামনের পুরো অংশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ইস্পাত ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছিল। রাস্তার পাশে যাত্রীদের আসনগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং ট্রাকটির পেছনের অংশে বাসের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছিল।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আহতদের গিজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা বিরল নয়। প্রায়ই বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যানবাহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে সিনাই অঞ্চলে একটি বাস দুর্ঘটনায় ১০ জর্ডানি পর্যটকসহ মোট ২২ জন নিহত হন। তার আগের মাস আগস্টে উত্তর মিশরে কৃষি শ্রমিক বহনকারী দুটি পিকআপ ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ছিল।

সূত্র: আরব নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাছে সালমানের ক্ষমা চাওয়া উচিত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


‘লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাছে সালমানের ক্ষমা চাওয়া উচিত’

মুম্বাইয়ের বিনোদন জগতের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন উঠেছে। টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর পুরো বলিউডে আতঙ্কের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবীণ ভজনশিল্পী অনুপ জালোটা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের সমাধান করতে সালমান খানের উচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তার মতে, এই পদক্ষেপটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা সুনীল শেট্টি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে অন্য শিল্পীদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। ফলে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, সালমান খানকে কেন্দ্র করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অব্যাহত হুমকির প্রেক্ষাপটে অনুপ জালোটার বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

অনুপ জালোটা এবারই প্রথম এমন পরামর্শ দিলেন না; এর আগে তিনি একাধিকবার একই কথা বলেছেন। তার মতে, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের আবেগ ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে উপেক্ষা করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শুধু সালমান নয়, তার সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য শিল্পী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে

বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগকে সরকার আরও জোরদার করছে।

নতুন নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্য চাষ, কাঁকড়া উৎপাদন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা এবং সামুদ্রিক গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও, গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে মাছ ধরা এবং সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং তদারকি জোরদার করা গেলে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

এ লক্ষ্যে, সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সমুদ্রভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একাধিক খসড়া নীতিমালা ও নির্দেশিকা তৈরি করেছে সরকার। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমুদ্রসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল শর্তে সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় ভোলা ও ফেনী অঞ্চলে গ্যাসের মজুত পাওয়া যাওয়ায়, সরকার সমুদ্রেও গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

২০২৬ সালের বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ডের আওতায় সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) প্রতিস্থাপন করা হবে। নতুন কাঠামোয় গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংশোধন, পাইপলাইন নির্মাণে সহায়তা এবং অনুসন্ধান চালিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান করে নতুন মজুত পাওয়া গেলে তা দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।

তিনি আরও বলেন, নীল অর্থনীতির উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

মৎস্য খাতে টেকসই উৎপাদনের উদ্যোগ

সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার সামুদ্রিক জলজ চাষ বা মেরিকালচার নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সামুদ্রিক জলজ চাষকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৬ সালের জুনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদী, হ্রদ ও জলাভূমি থেকে মাছ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং চাষের মাধ্যমে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টন। এ উৎপাদন দেশের বার্ষিক প্রায় ৫০ লাখ টন চাহিদার চেয়েও বেশি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত নীতিমালায় সামুদ্রিক জলজ চাষ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত উপকূলীয় মৎস্য আহরণের বাইরে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ, সামুদ্রিক জলজ প্রাণী উৎপাদন এবং সমুদ্রভিত্তিক অন্যান্য শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে, কাঁকড়ার উৎপাদন, আহরণ, ব্যবস্থাপনা ও রপ্তানি আরও সুশৃঙ্খল করতে ‘টেকসই কাঁকড়া উৎপাদন, আহরণ, ব্যবস্থাপনা ও রপ্তানি নির্দেশিকা-২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে সরকার। এর লক্ষ্য হলো কাঁকড়ার জীববৈচিত্র্য রক্ষা, উৎপাদনপদ্ধতির উন্নয়ন এবং রপ্তানি আয় বাড়ানো।

প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় বিনিয়োগ আকর্ষণ, আহরণ-পরবর্তী ক্ষতি কমানো, হিমাগার ও শীতল সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা, মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের কথা বলা হয়েছে। উন্নত চাষ ও আহরণপদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে পণ্যের মান বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে, দেশের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশের পতাকাবাহী মাছ ধরার জাহাজ পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে ‘গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ নির্দেশিকা-২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।

এতে জাহাজের লাইসেন্স, মাছ ধরার কার্যক্রম, আহরণ করা মাছের হিসাব সংরক্ষণ, এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে মাছ স্থানান্তর, মাছের উৎস শনাক্তকরণ, নজরদারি, নাবিকদের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধ, অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ বন্ধ এবং দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক বিধিবিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নির্দেশিকা আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশের মৎস্য আহরণ সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য জাহাজ পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, মাছের মজুত সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, আহরণ সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও রপ্তানি লক্ষ্য

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কুয়াকাটা ও সালিমপুরে দুটি নতুন সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দেশে ঘোষিত সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ও সামুদ্রিক রিজার্ভের সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।

এসব এলাকা ঘোষণার উদ্দেশ্য হলো সামুদ্রিক আবাসস্থল রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার।

সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা মাছের মজুত পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগের সুফল পেতে কার্যকর নজরদারি, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, টেকসই অর্থায়ন এবং উপকূলীয় জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে নীল অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নীল অর্থনীতি গবেষণার জন্য পৃথক তহবিলে রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।

জ্বালানি ও সমুদ্রভিত্তিক শিল্পে সম্ভাবনা

নীল অর্থনীতির আরেকটি বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র সমুদ্রের তলদেশে জ্বালানি অনুসন্ধান। সরকার সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উৎপাদন-অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে এবং পরিকল্পিত খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং পায়রা বন্দরের কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি সম্প্রতি জানিয়েছেন, সরকার স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি কূপের কার্যক্রম চালু হয়েছে।

মৎস্য ও জ্বালানি খাতের বাইরে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সমুদ্রভিত্তিক সেবাশিল্পেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব শিল্পের বিকাশে বন্দর ও উৎপাদনকেন্দ্রের মধ্যে সংযোগ জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

নীতিমালা থেকে বাস্তবায়নে গুরুত্ব

বিশাল সামুদ্রিক সম্পদকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হলে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

সামুদ্রিক সম্পদের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মেরিকালচার, কাঁকড়া উৎপাদন ও গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ নিয়ে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন, সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ এবং গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে নীল অর্থনীতি বিকাশের একটি নীতিগত ভিত্তি তৈরি করছে সরকার।

এখন এসব উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দিতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করা গেলে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রপ্তানি আয়, জ্বালানিনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%